হাতছানি দেয় খৈয়াছড়া ঝর্ণা
হাতছানি দেয় খৈয়াছড়া ঝর্ণা
পাহাড়ের সবুজ রং আর ঝর্ণার স্বচ্ছ জল মিলেমিশে একাকার হয়েছে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণায়। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এ ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দেশের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। যারা একবার খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখেছেন তাদের মনে একটিই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে- দেশে এমন সুন্দর ঝর্ণা দ্বিতীয়টি আর আছে কি-না। খৈয়াছড়া এলাকার পাহাড়ে অবস্থান বলে এর নামকরণ করা হয়েছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা।

মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পার্শ্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার কিলোমিটার পূর্বে ঝর্ণার অবস্থান। এরমধ্যে এক কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হয় পায়ে হেঁটে। বাঁশের সাঁকো, ক্ষেতের আইল, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, ছরা, অন্তত ৪টি পাহাড় পেরিয়ে যখন ঝর্ণার স্বচ্ছ জলে পর্যটকরা পা  ডোবায় তখন মনে হয় পথের এই দূরত্ব খুব সামান্য।

খৈয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা ডা. আলমগীর বলেন, ভুঁইয়ার টিলায় প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রবাহিত হচ্ছে ঝর্ণাটি। পাহাড়ি ঝোপের কারণে মানুষ তখন খুব একটা ওই জায়গায় যেতো না। গত ৪-৫ বছর ধরে সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের ঢল নেমেছে ঝর্ণা দেখার জন্য। পর্যটকদের অনেকেই এসেছেন ফেসবুকে ঝর্ণার ছবি দেখে। খুলনার আবদুল্লাহ আল মামুন, বগুড়ার আহমেদ জাকি জিমি, ঢাকার রাসেল পাটোয়ারী, যশোরের আবদুল্লাহ গাজী ও একেএম রনি ফেসবুকে খৈয়াছড়া ঝর্ণার ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তাই সবাই মিলে এসেছেন এখানে।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের বিখ্যাত অনেক প্রাকৃতিক ঝর্ণা আমি দেখেছি। খৈয়াছড়া ঝর্নার যে সৌন্দর্য তা দেশে দ্বিতীয়টি আর আছে কি-না আমার জানা নেই।

রাসেল পাটোয়ারী বলেন, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, সোনালী ধান ক্ষেত, দু’পাশের সবুজ রং আর রিমঝিম ঝর্ণার কলকল শব্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এ যেন প্রকৃতির অবিশ্বাস্য এক রূপের খেলা। যা না দেখে বিশ্বাস করা যায় না।

খৈয়াছড়া ঝর্ণার মোট আটটি ধাপ। বেশিরভাগ পর্যটক প্রথম ধাপের সৌন্দর্য দেখে মাতোয়ারা। পাহাড়ের উঁচুতে গিয়ে বাকি ধাপগুলোতে যাওয়া কিছুটা কষ্টকর বলে অনেকেই ঝর্ণার প্রথম ধাপের সৌন্দর্য দেখেই ফিরে আসেন।

ঝর্ণার শেষ ধাপ পর্যন্ত ঘুরে আসা পর্যটক আজমীর বলেন, অনেক প্রশস্ত জায়গা জুড়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে শেষ ধাপে। তিনি বলেন, ঝর্ণার শেষ ধাপ পর্যন্ত যারা আসবেন তারা বাংলাদেশের সেরা কোন প্রাকৃতিক ঝর্ণা উপভোগ করবেন নিঃসন্দেহে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দম্পতি তানভীর হোসেন এবং মেহজাবিন সুলতানা বলেন, অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ঝর্ণায় আসতে। পাহাড় আর ঝর্ণার সৌন্দর্যে তারাও খুব মুগ্ধ। তবে রাস্তার অসুবিধার কারণে ঝর্ণায় আসা কষ্টসাধ্য বলে মন্তব্য করেন এই পর্যটক দম্পতি।

স্থানীয় কিছু শিক্ষার্থী খৈয়াছড়া ঝর্ণায় পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করছে। এজন্য পর্যটকভেদে প্রতিবার ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের। বন বিভাগের বারৈয়াঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা অরুণ বরণ চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালে সরকার বারৈয়াঢালা ব্লক থেকে কুন্ডেরহাট (বড়তাকিয়া) ব্লকের ২৯৩৩.৬১ হেক্টর পাহাড়কে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এই জাতীয় উদ্যানকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে কাজ করছে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটি। খৈয়াছড়া ঝর্ণাকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এসএম সরওয়ার উদ্দিন বলেন, খৈয়াছড়া ঝর্ণাকে ঘিরে রাস্তা, রেস্টুরেন্ট, কটেজ ইত্যাদি নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে এখান থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি খৈয়াছড়া ঝর্ণায় পর্যটকদের অবাধ যাতায়াতে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২২
যোহর১১:৫৯
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:২০
এশা৭:৩৪
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৫
পড়ুন