ললিত মোদী বিতর্কে গান্ধী পরিবার
ললিত মোদী বিতর্কে গান্ধী পরিবার
ভারতে সমপ্রতি আলোচিত ললিত মোদী বিতর্কে গান্ধী পরিবারের নামও জড়িয়ে পড়েছে। গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) কেলেঙ্কারিতে জড়িত ললিত মোদী। এদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র চার নারী মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস।

এক টুইট বার্তায় ললিত নিজেই দাবি করেছেন, গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিন অংশের ওই টুইট বার্তার দ্বিতীয় অংশে মোদী জানান, লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় এই সাক্ষাত্ পর্ব। শেষ অংশে গিয়ে তিনি জানান, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও তার স্বামী রবার্ট ভদ্রের সঙ্গে তার সাক্ষাত্ হয়েছে।

ললিত কেলেঙ্কারিতে বসুন্ধরা-সুষমাদের নিয়ে যখন প্রবল চাপে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি, বিরোধীদের সাঁড়াশি আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা মোদী সরকারের, তখনই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে  পেল বিজেপি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পর এবার মোদী টেনে আনলেন গান্ধী পরিবারের নাম। বৃহস্পতিবার রাতে টুইটারে ললিত দাবি করেন, লন্ডনে থাকাকালীন তার সঙ্গে এক রেস্তোরাঁয় সাক্ষাত্্ করেন রবার্ট এবং প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস সভানেত্রীর সঙ্গেও অন্তত দু’বার তিনি দেখা করেছেন বলে দাবি তার। আর এই সমস্ত বৈঠক বা সাক্ষাত্্ সবই হয়েছিল ইউপিএ আমলে।

ললিতের এই টুইট সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে কংগ্রেস। শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে কংগ্রেস মুখপাত্র রাজদীপ সুরজেওয়ালা দাবি করেন, সমগ্র ঘটনা থেকে মুখ ফেরাতেই এই ধরনের মন্তব্য করেছেন ললিত। প্রিয়াঙ্কা বা রবার্ট  কোনও অনুষ্ঠানে ললিতকে আমন্ত্রণ করেননি বলে দাবি করেন রাজদীপ। তিনি বলেন, ইউপিএ আমলে চিদাম্বরম লন্ডন থেকে ললিতকে দেশে আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই তথ্য কেন প্রকাশ করছে না কেন্দ্র? কেনই বা তাঁকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে না? তবে কংগ্রেসেরই একটি সূত্র গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ললিত মোদীর সাক্ষাতের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। পাশাপাশি তাদের দাবি, একবার কারো সঙ্গে দেখা করলে কিছুই প্রমাণ হয় না। তাছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করা হলফনামায় ললিত নিজেই দাবি করেছেন, গান্ধী পরিবার তাঁর বিরোধী।

ললিত মোদীর সঙ্গে গান্ধী পরিবারের যথেষ্ট যোগাযোগ আছে দাবি করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “ললিত মোদীর টুইট থেকে আমরা জানতে পেরেছি, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। আমরা জানতে চাই, যাঁকে অপরাধী বলা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা কেন?” বিজেপি নেতা শাহনোয়াজ হুসেনের দাবি, “রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কার্যত মুছে গিয়েছে কংগ্রেস। রাজনীতির ময়দানে লড়াই করতে না পেরে বসুন্ধরাকে বদনাম করাই মূল উদ্দেশ্য কংগ্রেসের। এখন ললিত মোদীর সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার দেখা যাক কংগ্রেস কী করে।”

এদিকে সোনিয়া গান্ধীর মা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় বর্তমানে গান্ধী পরিবার রয়েছে ইতালিতে। ফলে এই সাক্ষাত্্ নিয়ে তাদের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ললিতের এ বার্তায় গান্ধী পরিবারের সঙ্গে কংগ্রেসও বেশ বেকায়দায় পড়েছে বলে অভিমত রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের। তারা মনে করছেন, এতোদিন যে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চাপ দিয়ে এসেছে দলটি, এবার তার সঙ্গে শীর্ষস্থানীয়ের নাম জড়ানোয় অবস্থান আগের চেয়ে নাজুক হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।

বিজেপি’র চার নারী মন্ত্রী বিভিন্ন অভিযোগে বর্তমানের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এরা হলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, রাজস্থান মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী পঙ্কজে মানডের পদত্যাগ দাবি করে কংগ্রেস। সুষমা স্বরাজ এবং বসুন্ধরা রাজে ললিত মোদী বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার কলেজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন এবং পঙ্কজে মানডের বিরুদ্ধে ২০৬ কোটি রুপি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন