লিচুতে কীটনাশক, ২০ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু
আইইডিসিআর গবেষকদের দাবি
আবুল খায়ের২৭ জুন, ২০১৫ ইং
লিচুতে কীটনাশক, ২০ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু
 

দিনাজপুরে লিচু বাগানে ছিটানো কীটনাশক ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসেই বিষক্রিয়ায় ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) গবেষকরা। তারা জানান, বর্তমানে লিচু বাগানে ২৩ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরেও কিছু অপরিচিত কীটনাশক ব্যবহার করছেন চাষিরা। এছাড়া ‘এন্টি ফাঙ্গাল’, ‘গ্রোথ হরমোন’ নাম দিয়ে আরও কিছু রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে; যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেড় থেকে ৬ বছর বয়সী ওই শিশুরা চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, নিহত শিশুরা কীটনাশক ছিটানো লিচু বাগানের আশপাশে গিয়ে বিষে আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত শিশুদের রক্ত ও লিচু পরীক্ষায় বিষাক্ত কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ওই শিশুদের বাড়ি ও লিচু বাগান পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে তাদের মৃত্যুর কারণ ‘কীটনাশক মিশ্রিত লিচুর সংস্পর্শ’ বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

মাহমুদুর রহমান জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে ওই শিশুদের প্রত্যেকের বাড়ি লিচু বাগান সংলগ্ন। তারা লিচু বাগানে বিচরণ করেছে, লিচু খেয়েছেও। ওই সব লিচু বাগানে ব্যাপক মাত্রায় কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল।

দিনাজপুর প্রতিনিধি মো. মতিউর রহমান জানান, ঘটনার পর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পূর্ব সাদুল্ল্যাপাড়া গ্রামে কীটনাশকে মৃত শিশু স্বপন আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাড়িটি লিচু বাগান বেষ্টিত। বাড়ির চারপাশে প্রায় ২শ’ গাছের দুটি লিচু বাগান রয়েছে। মৃতের বাবা মো. রবি চাঁন জানান, ঘটনার দিন তার ছেলে খেলাধুলা করলেও অসুস্থ ছিল না। রাত ১০টার দিকে হঠাত্ করে প্রচণ্ড খিঁচুনি ও কাঁপুনি উঠলে সে চিত্কার করতে থাকে। এরপর শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতেই সে মারা যায়। স্বপন আলীর সহপাঠী মো. মাসুদ জানায়, ওইদিন তারা লিচু বাগানে খেলা করে এবং সেখানে পড়ে থাকা লিচু খেয়েছিল।

একই এলাকার ধুলট দাসপাড়া গ্রামের গজেন চন্দ্র দাস জানান, তার একমাত্র সন্তান ফুল কুমারের প্রচণ্ড খিঁচুনি ও কাঁপুনি উঠলে সে চিত্কার করতে শুরু করে। এরপর তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর সে মারা যায়।

গজেন চন্দ্র দাস আরও জানান, তিনি লিচু বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে সন্তানের জন্য কিছু লিচু নিয়ে আসেন। তিনি স্বীকার করেন যে লিচু বাগানে কাজ করার সময় মালিক বিষ প্রয়োগ করেন। ব্যবহারের পর বাগান মালিক বিষের প্যাকেট ও বোতলগুলো লুকিয়ে ফেলেন।

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ধরনের অভিযোগ তারা পেয়েছেন। সম্ভবত ভারত থেকে চোরাই পথে এসব বিষ এনে ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি জানার পর বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীদের নিয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অচিরেই লিচু বাগান এলাকায় সভা-সমাবেশ করা হবে।

ঘটনার পর আইইডিসিআর গবেষক দল দুই দফায় আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকার শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ, বাগান পরিদর্শন এবং লিচু সংগ্রহ করেছেন। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

প্রসঙ্গত, দিনাজপুরে ২০১৩ সালে এ ধরনের লিচু খেয়ে ১৩ শিশু মারা যায়। ২০১২ সালে ১৪ জন শিশু লিচু খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারা যায়। এছাড়া ২০০৯ সালে ঢাকার ধামরাইয়ে এবং ২০০৮ সালে নওগাঁয় লিচু খেয়ে বেশ কয়েক জন শিশু মারা গেছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন