ভোগান্তিতে ভর্তিচ্ছুরা
কলেজে অনলাইনে ভর্তি
নিজামুল হক২৭ জুন, ২০১৫ ইং
ভোগান্তিতে ভর্তিচ্ছুরা
একাদশ শ্রেণীর ভর্তি নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তড়িঘড়ি করে সারাদেশে অনলাইন ও এসএমএসে ভর্তি কার্যক্রম চালু করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অনলাইনের কাজ বুয়েটের ওপর ন্যস্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি ও পরীক্ষার ফল প্রকাশে অভিজ্ঞ ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণে আবেদনের সময় তিন দিন বাড়ানো হয়। আর ঘোষণা দিয়েও যথাসময়ে ফল প্রকাশ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রথম মেধা তালিকা বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু তা নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা। সবাই রাতভর অপেক্ষা করে, কিন্তু কোন কারণ না জানিয়েই ফল প্রকাশ স্থগিত করা হয়। পরে অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২৬ জুন ফল প্রকাশ করা হবে। এতে এবার এসএসসি উত্তীর্ণ সারাদেশের প্রায় পৌনে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন। ঢাকা বোর্ড থেকে জানানো হয়, তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। ভর্তির ফল ২৬ জুন রাত সাড়ে ১১ টায় ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd), আবেদন কারীদের এসএমএস, স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

এদিকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণ করার কথা থাকলেও, ট্রান্সক্রিপ্টে অসংখ্য ভুল ধরা পড়ে। এজন্য ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণ স্থগিত করেছে শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষার্থীরা ট্রান্সক্রিপ্ট ছাড়াই শিক্ষা বোর্ডের অনলাইনে থাকা ফলের ভিত্তিতে ভর্তি হতে পারবে। পরবর্তীতে ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণ করা হলে তখন তা কলেজে জমা দিলেই চলবে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, গত ৬ জুন একাদশ শ্রেণীতে অনলাইন ও এসএমএসে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী যার শেষ সময় ছিল ১৮ জুন। তবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও একাধিক কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনের শেষ সময় ১৮ জুন থেকে বাড়িয়ে ২১ জুন করা হয়। কোন শিক্ষার্থী আবেদন বাতিল করে পুনরায় আবেদন প্রেরণ করলে সেক্ষত্রে শেষ সময় ছিল ১৫ জুন। ১ জুলাই একাদশ শ্রেণীতে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১১ লাখ ৫৬ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার জন।

নীতিমালা অনুযায়ী, এবার একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি কলেজে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। সে অনুযায়ী, আবেদনের শুরুতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজে আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ফরম পূরণ হয়ে গেছে। একটি চক্র তাদের আবেদন ফরম পূরণ করে নিজেদের কলেজকে এক নম্বর পছন্দ দিয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রতিদিনই শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ছিল।

এছাড়া শিক্ষা বোর্ডের প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা সার্ভার দুর্বলতার কারণেও দু’তিনবার ফি পরিশোধ করে ভর্তি ফরম পূরণ করতে পারছিল না শিক্ষার্থীরা। আবার নীতিমালা মেনে অনেক শিক্ষার্থী ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং হলিক্রস কলেজ তার পছন্দের তালিকায় রেখে আবেদন করে। কিন্তু পরে এই দুটি প্রতিষ্ঠান জানায় যে নিজ কলেজ ছাড়া অন্য কোন কলেজের শিক্ষার্থী তারা ভর্তি করবে না। এমন অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘সর্বোচ্চ পাচটি কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। যদি ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং হলিক্রস কলেজ আগে থেকেই জানিয়ে দিতো যে তারা বাইরের শিক্ষার্থী ভর্তি করবে না, তবে আমরা পছন্দের তালিকায় অন্য কলেজগুলো রাখতাম। এখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে?’

যদিও এ কারণে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড অনলাইন ও এসএমএসে ভর্তি প্রতারণার দায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে। এছাড়া বোর্ডের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে ভর্তি জটিলতায় পড়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) থেকে পাস করা এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। রোল নম্বরের ডিজিট সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাধারণ কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির মুখে পড়ে তারা। প্রসঙ্গত, সাধারণ স্কুলের শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর ৬ ডিজিট, কিন্তু উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রোল নম্বর ১১ ডিজিটের।

আবার বোর্ডের সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সারাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন ও এসএমএসে ভর্তির আবেদনও করতে পারেনি। ঢাকা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করে তড়িঘড়ি করে অনলাইন ও এসএমএসে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা মোটেও উচিত্ হয়নি, যার খেসারত দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, যারা প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পাবে না, তাদের দ্বিতীয় তালিকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে তৃতীয় মেধা তালিকাও প্রকাশ করা হবে অর্থাত্ পূর্বের সনাতন পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

ঢাকার একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, অনলাইন নিয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তার নিজের পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। এমন অনলাইন নীতিমালা ঠিক হয়নি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন