পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ
পিনাকি দাসগুপ্ত২৭ জুন, ২০১৫ ইং
পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ
 

সবুজ-শ্যামল বাংলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর এ দেশে ছুটে আসে বিশ্বের নানা দেশের প্রকৃতিপ্রেমিরা। শুধু বিদেশি পর্যটকই নয় দেশিয় পর্যটকরাও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবকাশ যাপনসহ ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পড়েন সুযোগ পেলেই। কিন্তু দেশি-বিদেশি এসব পর্যটক নতুন জায়গায় অচেনা মানুষের কাছে গিয়ে পড়েন নানা বিড়ম্বনায়। অনেকে সর্বস্ব খুইয়ে ঘরে ফিরেন ভ্রমণের আকাঙ্খা তুলে রেখে। এ ধরনের বিড়ম্বনা থেকে পর্যটকদের বাঁচানোসহ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে গতি আনার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বরে গঠন করা হয় ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ’ নামে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট। নিয়মিত পুলিশেরই একটি অংশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এদের সকল তত্পরতা পর্যটকদের ঘিরে। শুধু নিরাপত্তাই নয় পর্যটকদের রাত যাপন তথা আবাসন সমস্যাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও এই পুলিশ কাজ করবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন একজন ডিআইজি। সদস্য সংখ্যা ৭০৩। সদর দফতর রাজধানীর বনশ্রী এলাকায়।

 পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প একটি বিশেষ সম্ভাবনাময় খাত। ২০১৪ সালে ৫ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ পুলিশ দ্বারা এত অধিক সংখ্যক পর্যটককে নিরাপত্তা প্রদান সম্ভব নয়। তাছাড়া সাধারণ পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকে। এ কারণেই গঠন করা হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট। আর ইউনিট কার্যক্রমে  পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে, তেমনি পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে এখানকার অর্থনীতিতে এর একটি ইতিবাচক ছাপ পড়বে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হিসাব মতে, সারা দেশে ৮০০-এর অধিক পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে। যার মধ্যে ২০টির মতো রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অধিক  জনপ্রিয়। এরমধ্যে শুধু কক্সবাজারে প্রতিবছর  ১৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে। ২০১৬ সালে ‘ট্যুরিজম বর্ষ’ পালিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে-এ বছরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানসহ অন্যান্য সেবা প্রদানে ট্যুরিস্ট পুলিশ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন বলেন, এটি কোনো বিশেষ বাহিনী নয় বরং পুলিশেরই একটি ইউনিট। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশিই তারা কাজ করবে। তবে তাদের পোশাক ও কার্যক্রম হবে পর্যটক বান্ধব। পুলিশের এ ইউনিট একেবারেই নতুন। যাবতীয় প্রস্তুতি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, এমনকি এ লক্ষ্যে আইনে কিছু সংশোধনসহ কর্মধারার প্রকৃতি নির্ধারণের লক্ষ্যে এখনও প্রস্তুতি পর্যায়ের কাজ চলছে। এ ইউনিটের সদস্যরা তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার (দর্শনীয়) এখানকার ঐতিহ্য সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রাখাসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা ক্রমে সকল পক্ষকে আস্থায় নিয়েই কাজ করবে।

ডিআইজি আরো বলেন, আমাদেরকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রতিদিনই আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিখতে হবে। আশা করা যায় আগামী ২০২০ সাল নাগাদ এ শিল্পের মাধ্যমে দেশে একটি বিশাল পরিবর্তন আসবে। আর এ বিশাল পরিবর্তনে ট্যুরিস্ট পুলিশের অবদান থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করছে। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এই এলাকার নিরাপত্তা বিধান করা হবে। যাতে করে বিদেশ থেকে পর্যটকরা এসে নিরাপত্তা বোধ করতে পারেন।

 ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম ঃ পর্যটন পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করে জোন ভাগ করে কার্যক্রম চলছে। এগুলো হচ্ছে ঢাকা জোন, চট্টগ্রাম জোন, কক্সবাজার জোন ও টেকনাফ, কুয়াকাটা জোন, সিলেট জোন ও মৌলভীবাজার। প্রত্যেক জোনের দায়িত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ঢাকা জোন এর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, সোনারগাঁও, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লাসহ বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট। চট্টগ্রাম জোনে পতেঙ্গা, ফয়েজ লেকসহ বিভিন্ন স্পট। কক্সবাজার জোনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কক্সবাজারের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, ইনানী, হিমছড়ি, মহেশখালী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ। পার্বত্য চট্টগ্রাম জোনে জনবল প্রাপ্তির পর কার্যক্রম শুরু হবে। কুয়াকাটা জোনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্টসহ গঙ্গামতির চর, মিস্ত্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, লেবুরচর ট্যুরিস্ট স্পর্ট। সিলেট জোনে বর্তমানে জাফলং, রাতারগুল, লালখাল এবং হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহ পরান ( রঃ) মাজার এলাকায়, মৌলভীবাজার জেলার অধীনে শ্রীমঙ্গলের সকল চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ট্যুরিস্ট স্পর্ট।

ভাল সেবা দেয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদমর্যাদার সর্বমোট ৪৬০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী। পাশাপাশি বাংলাদেশে পুলিশের মেট্রো ও জেলা প্রশাসনসহ সকল ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্যুর অপারেটর ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সংগে যোগযোগ পূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেল, মোটেল, বিচ ও পর্যটন এলাকার স্টেক হোল্ডারদের সাথে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে সরকারি অর্থায়নে জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের তত্ত্বাবধানে পর্যটনের গবেষণা কার্যক্রম চলছে। 

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, পর্যায়ক্রমে জনবল বৃদ্ধি করা হবে। দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া, ইন্টেলিজেন্স উইং গঠন, পর্যায়ক্রমে অধিকক্ষেত্র সম্প্রসারনণ পূর্বক দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসা, সকল ট্যুরিস্ট স্পর্টে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদানের ব্যবস্থা করা, আউট সোর্সিং এর মঞ্জুরিকৃত জনবল পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন কর্পোরেশন এবং সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সাধন, পর্যটকদের নিরাপদে এবং দ্রুততার সাথে পর্যটনস্থলে গমনের বিষয়টি ত্বরান্বিতকরণ, পর্যটকদের দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করা।

তিনি আরো বলেন, জনবল পাওয়া গেলে খুলনা বিভাগে অবস্থিত সুন্দরবন ও রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত পাহাড়পুরসহ সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রসমূহে নিরাপত্তা প্রদান করা সম্ভব হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন