ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের অদেখা অধ্যায়
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৯ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের অদেখা অধ্যায়
মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন ইতিহাস উঠে এলো চোখের সামনে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সংযোজিত হলো অদেখা এক অধ্যায়। এসব ছবি চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। বিলেতের রাজপথ যেন বাংলাদেশেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে, বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল হাজার হাজার বাঙালির সঙ্গে ব্রিটেনবাসী।

মুক্তিযুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনেই হয়নি। রাজনীতির মাঠেও চলেছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও বাঙালির স্বাধীনতার সমর্থনে হয়েছে প্রতিবাদ ও সভা-সমাবেশ। দেশের আনাচে-কানাচে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে যখন যুদ্ধ করছিল তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালিরা সোচ্চার ছিল স্বাধীনতার দাবিতে। এসব কথা এতদিন বই পড়ে জেনেছি আমরা। বিদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের লড়াইয়ের সেসব দিন উঠে এসেছে ‘লন্ডন ১৯৭১ : ভিন দেশে বাঙালির আগুনঝরা দিনের গল্প’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘প্রজেক্ট লন্ডন ১৯৭১’-এর আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনের এ প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বেশিরভাগ ছবি ব্রিটিশ আলোকচিত্রী রজার গোয়েন ও বিলেতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ চৌধুরীর তোলা। এ ছাড়া রয়েছে বেশকিছু সংগৃহীত ছবি। গত আট বছর ধরে লন্ডনে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুরে ঘুরে এসব ছবি সংগ্রহ করেছেন উজ্জ্বল দাশ। এছাড়া লন্ডন থেকে প্রকাশিত বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্রের মূল কপি, পোস্টার. ডাকটিকিট ও প্রচারপত্র স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। বাঙালিদের পাশাপাশি একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্ব জনমত গঠনে ব্রিটিশ এমপি, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণির মানুষ রেখেছেন অনন্য ভূমিকা।   প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে সেসব ভিনদেশি বন্ধুদেরও ছবি।

এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, ৭১ সালে লন্ডনে স্থাপিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনের দ্বিতীয় সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর মূল উদ্যোক্তা উজ্জ্বল দাশ। আলোচনায় অংশ নেন শহীদ বুদ্ধিজীবীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।

প্রদর্শনী প্রসঙ্গে উজ্জ্বল দাশ বলেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশের তরুণ বাঙালি প্রজন্মকে একাত্তরে ভিন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভূমিকাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। এটাই আমাদের প্রথম প্রদর্শনী এবং এই ছবিগুলো এর আগে কোথাও প্রদর্শিত হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে সিলেট এবং লন্ডন ও বার্মিংহামে এই ছবিগুলোর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ভিনদেশে বাংলার মুক্তি সংগ্রামের সমর্থনে গড়ে ওঠা প্রবাসী ও লন্ডনবাসীর সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা বিক্ষোভের ছবি। একাত্তরের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম লিপিকার এ কে এম আবদুর রউফের হাতে আঁকা ঐতিহাসিক পোস্টারটি স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। এসব ছবির মধ্যে আছে একাত্তরের লন্ডনের হাইড পার্ক স্পিকার্স কর্নারে মুক্তিকামী জনতার সমাবেশ। সেই সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন পোস্টার ও তাঁর ছবি প্রদর্শন করছেন বিক্ষোভকারীরা। এসব সমাবেশে বাঙালিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন ব্রিটিশরাও। দেখা মেলে একাত্তরের ৪ জুন তারিখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে চলেছে ইউকে মহিলা সমিতির দুর্বার মিছিল। একাত্তরের পয়লা আগস্ট লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার দেখা মেলে একটি ছবিতে। আছে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু সরাসরি পৌঁছে যান লন্ডনে। সেখানের ক্লারিজ হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন জাতির জনক। অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রবাসী বাঙালিদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিটিও মান বাড়িয়েছে প্রদর্শনীর।

প্রদর্শনী শেষ হবে শনিবার। জাতীয় চিত্রশালার ৫ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী খোলা থাকবে বিকাল তিনটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পড়ুন