বিপদসীমার উপরে খোয়াই নদী
হুমকিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আতঙ্কিত মানুষ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি২১ জুন, ২০১৭ ইং
বিপদসীমার উপরে খোয়াই নদী
টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীতে পানির প্রবল চাপে বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে আশঙ্কাজনকভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতভর শহরের বিভিন্ন মসজিদেও মাইকিং করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। আতঙ্কিত হাজার হাজার মানুষ বাঁধ রক্ষায় রাতভর নদীর তীরে অবস্থান করেন। বাঁধের অনেক দুর্বল স্থানে নিজেদের উদ্যোগেই বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রবিবার মধ্যরাতের পর থেকেই খোয়াই নদীর পানি হঠাত্ বৃদ্ধি পায়। সোমবার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। মঙ্গলবার তা বিপদসীমার ২৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত সোমবার রাত ৯টার পর থেকেই বাঁধের কয়েকটি দুর্বল স্থানে ছিদ্র হয়ে পানি শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরবাসীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। দোকানপাট বন্ধ করে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, শহররক্ষা বাঁধের তেতৈয়া, কামড়াপুর, শায়েস্তানগর ও মাছুলিয়া এলাকায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগে খোয়াই নদীতে এত পানি কখনো হয়েছে বলে আমার জানা নেই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নদীর উজানে বৃষ্টিপাত কমেছে।

বড়লেখায় পানিবন্দী ২৫ হাজার মানুষ

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার হাকালুকি হাওরপাড় এলাকার সুজানগর, তালিমপুর, বর্ণি ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে অনেকেই। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনো পানির নীচে রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে নৌকা।  

তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বড়ময়দান গ্রামের ময়তুন বেগমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, অকাল বন্যায় আগে ধান-মাছ মরেছে। এখন আবার পানি বাড়ায় আমরা অনেক কষ্টের মাঝে আছি। ঘরে খানি (খাবার) নাই। ঘরের ভিতরে কমর (কোমর) পানি। গরু-ছাগল লইয়াই স্কুলে আশ্রয় নিছি। পানি না নামলে (কমলে) এবার আর               ঈদ বাড়িত অইত নায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত ৩০টি পরিবার বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, স্যালাইন, নগদ ৫০০ টাকা ও বিনামূল্যের ১০ কেজি করে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীঘিনালার নিম্নাঞ্চলে বন্যা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় গত দুইদিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা কবলিত হয়েছে মেরুং ও কবাখালি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ছোটমেরুং বাজারসহ দীঘিনালা-লংগদু যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মেরুং ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘনশ্যাম ত্রিপুরা জানান, তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৪৫০। এদিকে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতায় মাইকিং করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন