নিম্ন আদালতের বিচারক মূল্যায়নে পাঁচ মানদণ্ড
মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ পর্যালোচনায় নেওয়া হবে
দিদারুল আলম২১ জুন, ২০১৭ ইং
নিম্ন আদালতের বিচারক মূল্যায়নে পাঁচ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একজন বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির হার ও বিচার সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম পর্যালোচনা করে এই মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। প্রতি মাসে ২২ কার্যদিবস ধরে নির্ধারিত গ্রেড পয়েন্ট অর্জনের ভিত্তিতে ‘অসাধারণ’, ‘উত্তম’, ‘ভাল’, ‘সাধারণ’ ও ‘অপর্যাপ্ত’ মানদণ্ডে মূল্যায়িত হবেন বিচারকরা। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের ১২টি জেলার অধস্তন আদালতের বিচারকগণের বিচারিক ও প্রশাসনিক কাজের মাসিক বিবরণী উক্ত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী অনলইনে প্রেরণ করতে সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব জেলা হচ্ছে, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, মৌলভীবাজার, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, গাজীপুর ও বাগেরহাট। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য  আদালতের বিচারকদের মাসিক বিবরণী প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।  নিম্ন আদালতসূমহে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিচারকদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও সাফল্য নির্ধারণের মানদণ্ড নিরূপণের বিষয়টি আরো যুগপোযোগী ও কার্যকর করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকদের বিচারিক ও প্রশাসনিক কাজের যথাযথ মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীকালে ওই খসড়া নীতিমালা হাইকোর্টের বিচারকদের নিয়ে গঠিত কমিটি চূড়ান্ত করেন। আগে শুধু দোতরফা সূত্রে কিছুসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তিকেই মানদণ্ড হিসাবে বিবেচনা করা হত।

চূড়ান্ত ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন থেকে একজন বিচারকের জন্য নির্ধারিত দাপ্তরিক সময়ে সকল প্রকার বিচারিক কাজ (দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা রুজু হতে নিষ্পত্তি) এবং বিচার সংক্রান্ত সকল প্রশাসনিক কাজ মূল্যায়িত হবে। নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে কোনো তথ্য গোপন করা হলে তা অসদাচরণের শামিল এবং দায়ের হবে বিভাগীয় মামলা।

এতে আরো বলা হয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে ২২ কর্মদিবস ধরে গ্রেড পয়েন্ট অর্জন সাপেক্ষে বিচারক মূল্যায়নে এই পাঁচ মানদণ্ড নির্ধারিত হবে। সেই হিসাবে ৯১ এবং তদূর্ধ্ব পয়েন্টপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ‘অসাধারণ’, ৮১ থেকে ৯০ পয়েন্টপ্রাপ্ত ‘উত্তম’, ৬৫ থেকে ৮০ পয়েন্টপ্রাপ্ত ‘ভাল’ বিচারক হিসেবে বিবেচিত হবেন। এছাড়া ৫০ থেকে ৬৪ পয়েন্টপ্রাপ্ত ‘সাধারণ’ এবং ৫০ এর কম পয়েন্টপ্রাপ্ত হলে ‘অপর্যাপ্ত’ হিসাবে বিবেচিত হবেন। জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিচারকের অর্জিত তিন মাসের গ্রেড পয়েন্ট একত্রে গড় করে নির্ধারিত ফর্মে হাইকোর্টে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। বছর শেষে কোনো কর্মকর্তার মামলা নিষ্পত্তির গ্রেড পয়েন্ট ‘অপর্যাপ্ত’ হলে তিনি পদোন্নতি থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হবেন। এছাড়া প্রত্যেক জেলা জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যে বিচারক সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করবেন তাকে ‘জাজ অফ দ্যা মান্থ’/‘জাজ অফ দ্যা ইয়ার’ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। 

বিচার সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ

প্রশাসনিক কাজের ধরনের মধ্যে রয়েছে আদালত পরিদর্শন, কোনো অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত ও বিভাগীয় মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি, নেজারতের দায়িত্ব পালন, থানা পরিদর্শন, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স, মাদক/আলামত ধ্বংস বিষয়ক কার্যক্রম ইত্যাদি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন