লক্ষ্মীপুরে ৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও বর্তমান ৪ সংসদ সদস্যসহ বড় দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে চলছে গ্রুপিং-লবিং। নির্বাচনী এলাকায় চলছে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময়। এছাড়া ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, কে হলে ভালো হয় তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা  নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক দান-অনুদান প্রদান করে যাচ্ছেন। তবে এখনো মানুষের মাঝে শঙ্কা রয়েছে বিরোধী দল বিএনপি জোটের নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা সেটা নিয়ে।

দীর্ঘদিন এ জেলার ৪টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে আওয়ামী জোট মনোনীত প্রার্থী তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির মো. নোমান, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হন। বিএনপি ও জামায়াতের ঘাঁটি বলে একসময় পরিচিত পেলেও এ জেলায় বর্তমানে আওয়ামী লীগের শক্তি-সামর্থ্য ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের চিত্র: রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়াল ইতিমধ্যে এলাকায় অনেক  উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তিনি এবারও মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। এছাড়া আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে যারা তত্পর, তারা হলেন ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মমিন পাটওয়ারী প্রমুখ। প্রসঙ্গত, সফিকুল ইসলাম এখানে ৩ বার ও মো. শাহজাহান ২ বার নির্বাচন করেও বিজয়ী হতে পারেননি।

লায়ন এম এ আউয়াল এমপি বলেন, ‘জাতীয় রাজনীতির প্রয়োজনে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আগামী নির্বাচনেও এ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে আশা করি।’ 

আনোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারেনি। নেত্রী আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দিলে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে এ আসন জননেত্রীকে উপহার দিতে পারবো।’

বিএনপির এ ঘাঁটিতে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আছেন নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি মনোনীত বিজয়ী এমপি নাজিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ। এছাড়া এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশায় কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘রামগঞ্জ বিএনপি আমার হাতে গড়া সংগঠন। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আমার মনোনয়ন নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।’

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের চিত্র :জেলার রায়পুর উপজেলা ও সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে অধিকাংশ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এ এলাকায় ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিজয়ী হলে তার ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন ১৪ দল মনোনীত জাতীয় পার্টির (এরশাদ) বর্তমান জেলা সভাপতি মো. নোমান। বর্তমান এমপি ছাড়াও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এহসানুল কবির জগলুল ও কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ী শহীদ ইসলাম পাপুল।

বরাবরই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বড় দুই জোটের প্রার্থীরা এ আসনে নির্বাচনের জন্য তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান এমপি’র দল জাতীয় পার্টির সংগঠন নিতান্তই দুর্বল হওয়ায় আওয়ামী লীগের উপরই ভর করতে হচ্ছে মোঃ নোমানকে। এছাড়া এ আসনে তেমন কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় ১৪ দলীয় জোটকে এ আসন ধরে রাখতে আগামী নির্বাচনে ভালো ইমেজের প্রার্থী দিতে হবে। সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ও অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন দুজনে সম্পর্কে বেয়াই। এ দু’বেয়াইর মধ্যে যে কোনো একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখব।’

এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ ও হারুনুর রশিদের (ভিপি) এলাকায় তত্পরতা রয়েছে। সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, ‘এ এলাকা বিএনপি’র ঘাঁটি। যদি ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যায় তাহলে ভোটাররা অন্য কাউকে ভোট দেবার চিন্তা করবে না। আমি মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।’

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের চিত্র: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ আসনটিতে বেশিরভাগ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। তবে  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত একেএম শাহজাহান কামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী নির্বাচিত হন। এ আসনে মূলত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের তত্পরতা রয়েছে। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কোনো তত্পরতা নাই বললেই চলে। এখানে দু’দলেরই হেভিওয়েট প্রার্থীরা তত্পরতা চালাচ্ছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকছেন। লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহেরও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু এলাকায় নানা কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয়ভাবেও যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি এম এ হাসেম এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম. এ. সাত্তার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি দেলোয়ার হোসেন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ব্যাপক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান এমপি একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, ‘এলাকার সাথে আমার কোনো দূরত্ব নেই। দলীয়ভাবেও আমার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। এখানে আগামী নির্বাচনে আমি নমিনেশন পাবো ইনশাআল্লাহ।’ মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে আমি পাশে ছিলাম এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। সদর আসনে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’ সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই মেনে নেব।’

অন্যদিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও দলীয় সমাবেশসহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবুও মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাপক তত্পরতা চালাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই দুই নেতার মতবিরোধ তুঙ্গে। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা এম আর মাসুদ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানসহ নানাভাবে তত্পর রয়েছেন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘সারা দেশে সুষুম ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিএনপি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে এবং সরকার গঠন করবে।’

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের চিত্র: রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ সংসদীয় আসন গঠিত। এই আসনের ভোটারদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো উত্সাহ-উদ্দীপনা নেই। নদী ভাঙন আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই তারা প্রতিদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দলীয় নেতারা ছাড়াও জোট শরিক অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

মূলত এই আসনে আগামী নির্বাচনে লড়াই হবে ১৪ দলের সাথে ২০ দলের। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জেএসডি (জাসদ) ও এলডিপি সমর্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আব্দুর রব শেখ হাসিনার ঐক্যমতের সরকারের মন্ত্রী হন। আগামী নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন আ স ম আব্দুর রব। তবে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শিল্পপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (আল মামুন)। এরপর থেকে এলাকার উন্নয়নমূলক ও মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন তিনি।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (আল মামুন), কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এবং এ আসনের সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী। অবশ্য ফরিদুন্নাহার লাইলী পাশের নোয়াখালী সদরের বাসিন্দা। ভূমিহীন নেতা হিসেবে পরিচিত আজাদ উদ্দিন চৌধুরীও মনোনয়ন চাইবেন। তিনি ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমানও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

বর্তমান এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (আল মামুন) জানান, ‘নেতাকর্মীদের দুর্দিনে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ, নেত্রী মনোনয়ন দিলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, ‘এলাকার মানুষ আমাকে এমপি হিসাবে নমিনেশন চাইতে অনুরোধ করছেন। নেত্রী যদি মনে করেন আমাকে দিয়ে এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করাবেন, তাহলে আমি সাদরে গ্রহণ করবো।’

এ আসনে বিএনপি থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন: সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবু এবং তাঁতীদলের সহ-সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী। ২০০১ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি নির্বাচিত হন। এই আসনে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী এক সময়ের বিএনপি সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পার্টি বিকল্প ধারার কেন্দ্রীয় মহাসচিব। তিনি আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান জানান, ‘আমি দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। আমার নমিনেশন নিয়ে চিন্তা করার দরকার মনে করছি না। দলীয় নেত্রী যা ভালো মনে করবেন তাই মেনে নেব।’ তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘বৃহত্তর পর্যায়ে দেশ-জাতি ও নিজ এলাকার জন্য কাজ করতে চাই। আশা করি, নেত্রী আমাকে নমিনেশন দেবেন।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন