আমার লোক নিতে হবে
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালককে স্বাচিপ নেতার হুমকি
আবুল খায়ের১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আমার লোক নিতে হবে
শিশু হাসপাতালে আছে হূদরোগ শিশু চিকিত্সা **কিশোর-কিশোরী আলাদা চিকিত্সা

ঢাকা শিশু হাসপাতালে চলছে নীরব চিকিত্সা বিপ্লব। শিশুদের জন্য বিশেষায়িত অত্যাধুনিক এই হাসপাতালে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে শিশু হূদরোগ চিকিত্সাব্যবস্থা। আছে কিশোর-কিশোরীর আলাদা চিকিত্সা। শিশুদের অ্যাজমা ও কিডনির চিকিত্সাও চালু হয়েছে। এছাড়া শিশু চিকিত্সার আলাদা নার্সিং কোর্সও চালু করা হয়েছে।

শিশুদের চিকিত্সাসেবায় অনন্য একটি প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতাল। অসুস্থ শিশুদের উন্নতসেবার জন্য হাসপাতালটি দেশ-বিদেশে খুবই পরিচিত। তাই হাসপাতালটির ছোঁয়া পেতে অভিভাবকরা সবসময় উদগ্রীব। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিত্সকরাও। জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের সেবায় অপারগ হলেই তারা পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের শিশুদের চিকিত্সায় বৃহত্তম এ হাসপাতালে। এখানে ২৪ ঘন্টাই জরুরি বিভাগ খোলা থাকে।

বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে বেশকিছু নতুন উদ্যোগ হাসপাতালটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিছু নতুন বিভাগ চালু হওয়ায় সেবার পরিধি বেড়েছে। এরমধ্যে নবজাতক আইসিইউ, কিডনি ও সংক্রমণজনিত শিশু রোগীদের জন্য আলাদা আইসিইউ, হূদরোগ চিকিত্সা, ৮ থেকে ১৮ বছরের শিশু-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন চিকিত্সা ও পরামর্শ কেন্দ্র অন্যতম।

এসব চিকিত্সার পাশাপাশি লিভার, ক্যান্সার, কিডনি, বক্ষব্যাধি, সার্জারি, মেডিসিনসহ সব ধরনের চিকিত্সাসেবার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ নিয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতাল। এসব অসাধারণ উদ্যোগ সফলভাবে পরিচালনায়   আছে হাসপাতালটির পরিচালনা পরিষদ। এটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। সরকারি এবং মানুষের দেয়া অনুদানে এই হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অনেকেই অনুদান দেন এখানে।  কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার বোন বীনা লায়লার নামে একটি ওয়ার্ড রয়েছে এই হাসপাতালে। রুনা লায়লার অনুদানের টাকায় এই ওয়ার্ড তৈরি করা হয়।

এদিকে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদে ঢুকতে চেয়েছেন। এতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। পরে তার পছন্দের ডাক্তার এবং কর্মচারি নিয়োগ দিতেও চাপ প্রয়োগ করেছেন। এজন্য পরিচালকের অফিস ঘেরাও করেছেন। শিশু হাসপাতালের পরিচালককে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আমার লোক নিতে হবে। অন্যথায় আপনাকে চেয়ার থেকে বিতারিত করতে বাধ্য করা হবে।’ এসব নিয়ে শিশু হাসপাতালের ডাক্তারদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। এই হাসপাতালে এতো উন্নয়নের পরেও এসব গুটিকয়েক নেতার কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও জানান চিকিত্সকরা।  

শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, আরও উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করে শিশু হাসপাতালকে আধুনিক বিশ্বে পরিচিত করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এই সরকারের সময় এটি একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ২৩২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিত্সকের নিষ্ঠায় চিকিত্সার মান বেড়েছে। ৬৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শুধু বহির্বিভাগেই প্রতিদিন সেবা নিতে আসছে প্রায় এক হাজার শিশুরোগী।

চান্দিনা থেকে আসা চিকিত্সাধীন রোগী শিশু জেসমিনের মা রোকেয়া জানান, তার মেয়ের জ্বরসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। গ্রামের অনেক ডাক্তারো দেখানো হয়েছে। কুমিল্লা শহরেও নেয়া হয়েছিল। তার শিশু কন্যার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে থাকে। এই হাসপাতালে ভর্তির পর তার মেয়ে এখন সুস্থ আছে। এ ধরনের জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অর্ধশতাধিক শিশুকে প্রতিনি ভর্তি করানো হয়।   

জানা যায়, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা শিশু হাসপাতাল। প্রথমে হাসপাতালটির অবস্থান ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে থাকলেও পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে এটি স্থানান্তর করা হয় শেরেবাংলা নগরের বর্তমান ঠিকানায়। ধানমন্ডির একটি ভাড়া বাড়িতে ৫০ বেডের হাসপাতাল চালু হয়। শুক্রাবাদে তাবু করে বহির্বিভাগ চালু করা হয়। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু ২৫০ বেডের শিশু হাসপাতাল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ বেডের হাসপাতাল করার অনুমোদন দিয়ে একনেকে পাস করেন।

কেমন সেবা পান? চিকিত্সকদের পরামর্শে কতটুকু সন্তুষ্ট জানতে চাইলে মিরপুর থেকে আসা রহিমা আহমেদ বলেন, আমার বাবা ছোটবেলায় আমার যে কোনো সমস্যায় এখানে নিয়ে আসতেন, আর এখন আমি আমার সন্তানকে নিয়ে আসি— তাহলে বুঝুন কতটুকু সেবা পাই!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিশুদের সকল ধরনের জটিল চিকিত্সা ও অপারেশনের ব্যবস্থা এই হাসপাতালে চালু করা হচ্ছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন