কোচিংয়ে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করছে মাউশি
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
নিজামুল হক

প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনিতে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গোপনীয় পরিদর্শনের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হবে। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এস ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে নির্দেশনা এখনও যায়নি অতিশিগগিরই তাদের কাছে এমন নির্দেশনা যাবে। কি হবে এ তালিকা দিয়ে  এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ তথ্য পাঠানো হবে। এ ছাড়া সরকারি কোনো সংস্থা যদি এ তথ্য চায় তাহলে তাদের কাছে এ তথ্য সরবরাহ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন তথ্য চাইলে তাদেরও এ তথ্য সরবরাহ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষকদের কোচিং টিউশন প্রাইভেট বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালের ২০ জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা জারি করে। এই নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে তারা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতিসাপেক্ষে অন্য স্কুল, কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে দিনে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়াতে পারবেন। কোনো কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়েও কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে এই নীতিমালা জারির পর শিক্ষকদের কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্য মোটেই বন্ধ হয়নি।

নীতিমালা থাকার পর কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। দোষারোপ করা হয় শিক্ষামন্ত্রীকে। বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী আইন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না এটা শিক্ষামন্ত্রীর দুর্বলতা, অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার। বেপরোয়া কোচিং প্রাইভেট টিউশনির বিষয়টি নজরে আনা হয় শিক্ষামন্ত্রীরও। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা অধিদপ্তরে কঠোর নির্দেশনা দেন কোচিং ও  প্রাইভেট টিউশনিতে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে। এরপরই উদ্যোগী হয় শিক্ষা অধিদপ্তর।

মন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক শিক্ষকের কারণে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সম্মানহানি হচ্ছে। শিক্ষকদের মর্যাদা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার জন্য এসব দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের তালিকা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষকরা এখন বেপরোয়া। বেতন কম বলে কোচিং প্রাইভেট টিউশনি করছেন। অথচ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে বিলাশবহুল একাধিক বাড়ি গাড়ি্র মালিক হওয়া শিক্ষকের সংখ্যা কয়েক হাজার।

রাজধানীর ভিকারুন নিসা, আইডিয়াল, মনিপুর, মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, এ কে উচ্চ বিদ্যালয়, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়,  ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, উইলস লিটন ফ্লাওয়ার স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মিরপুর গার্লস ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ,  কল্যাণপুর গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বর্ণমালা আদর্শ হাইস্কুল, উত্তরা হাইস্কুল, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের  কাছে।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন কোচিংয়ে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তারা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নামের তালিকা সংগ্রহ করেছে।

দুদক উপ-পরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য বলেন, দুদকের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইডিয়াল স্কুলের সকল শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করেছে দুদক। এ বিষয়ে আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, দুদক আমাদের কাছে এমপিও, ননএমপিও শিক্ষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সকল শিক্ষকদের তালিকা দুদকে পাঠিয়েছি। কোচিং প্রাইভেটে জড়িত এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দুদক চায়নি এবং আমরা দেইনি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন