একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
নীলফামারীতে নতুন মুখের ছড়াছড়ি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও ইতিমধ্যে নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারা নিজ নিজ জোটের মনোনয়ন লাভের আশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ সংসদীয় আসনে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শুভেচ্ছা জানানো পোস্টার, ব্যানার, ফেষ্টুন শোভা পাচ্ছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অলিতে-গলিতে।

জেলার ৪টি আসনেই পুরনো মুখ ছাড়াও সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীরাও মাঠে নেমে গণসংযোগ করছেন। বিশেষ করে তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। তাদের আগ্রহ এবং উত্সাহ-উদ্দীপনাও বেশি। তারা ঘরোয়া সভা অথবা জনসমাবেশ এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি করে অংশগ্রহণ করছেন। তবে ক্ষমতাসীন    আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে, আর বিএনপি অনেকটা কৌশলে তাদের রাজনৈতিক তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে।

এখানকার চারটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের এক ডজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলটিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে তাদেরও হিমশিম খেতে হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

বর্তমানে নীলফামারীর চারটি আসনের তিনটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটি আসন জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নে ব্যর্থ হলে ভরাডুবি হতে পারে ক্ষমতাসীন দলের। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দখলে নিতে পারে এ আসন চারটি।

বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভালো ফলাফল করলেও বিএনপিও সেক্ষেত্রে তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। এ দুটি দলের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ জেলায় সব ক’টি আসনেই এ দু’দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। জেলার ৪টি আসনেই বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের রয়েছে একাধিক প্রার্থী। এদের মধ্যে অনেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী। কোনঠাসা জামায়াতে ইসলামীও ক্রমশই সক্রিয় হয়ে উঠছে। প্রকাশ্যে না এলেও তারা গোপনে দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং জোরেসোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

ভোটাররাও ইতিমধ্যে প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষতে শুরু করেছেন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। সরকারি একটি সংস্থার পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সূত্র বলেছে, সংসদ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারেন, প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্ক, প্রার্থীদের আচার-আচরণসহ বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিনিয়তই পাঠানো হচ্ছে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।  (বিস্তারিত দেখুন ‘সারাদেশ’-এ পাতায়) আগামীকাল পড়ুন বগুড়া জেলার নির্বাচনী সংবাদ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন