মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন হঠাত্ বন্ধ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ

মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস

আগাম কোনো ঘোষণা না দিয়েই দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)-এর কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসির কর্মকর্তাদের মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন খনির প্রায় ১ হাজার শ্রমিক। 

জানা গেছে, জিটিসি আগাম কোনো ঘোষণা না দিয়েই গত শনিবার জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। জিটিসির মহাব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ জানান, তারা এই খনির রক্ষণাবেক্ষণ ও পাথর উত্তোলনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষের পক্ষে জিএম (অপারেশন) মীর মো. আব্দুল হান্নান তাদের বিভিন্ন         কাজে বাধা প্রদান করে আসছেন। এ কারণেই তারা পাথর উত্তোলন কাজ বন্ধ রেখেছেন। মীর মো. আব্দুল হান্নানের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মীর মো. আব্দুল হান্নান জানান, খনির উত্পাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খনির উত্পাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি’কে। কিন্তু জিটিসি শুরু থেকেই বিভিন্ন অজুহাত দেখানো শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইকুইপমেন্টের অভাব দেখিয়ে ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তাদের প্রায় ১’শ কোটি টাকা দেওয়া হয় ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের জন্য। কিন্তু এসব ইকুইপমেন্ট খনির অভ্যন্তরে স্থাপন করা হলেও ২ বছর পরও তারা পুরোপুরি উত্তোলনে যেতে পারেনি। বর্তমানে যা উত্তোলন করছে তা আংশিক। তিনি জানান, তিনিই এই খনির সর্বেসর্বা নন। তার উপরেও অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাই তার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে-জিটিসির এমন দাবি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে এমজিএমসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদ খান জানান, আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই কোনোক্রমেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে পারে না। জিটিসি যা করেছে-তা নিয়ম বহির্ভূতভাবেই করেছে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু করে ২০০৭ সালের ২৫ মে।  প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ১৮শ’ টন পাথর উত্তোলন হলেও, পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ’ টনে। এই অবস্থায় খনির উত্পাদন বাড়াতে ২০১৪ সালে দায়িত্ব দেওয়া হয় জিটিসি’কে। জিটিসি ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দেয়ার চুক্তি করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি পাথর উত্তোলন করতে পারেনি জিটিসি। দৈনিক ৬ হাজার টন পাথর উত্তোলন করার কথা থাকলেও বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এ কারণেই খনি কর্তৃপক্ষের সাথে জিটিসির মতবিরোধ বলে খনির একটি সূত্র জানিয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন