চট্টগ্রাম মেডিক্যাল জিম্মি ঠিকাদারদের হাতে
চিকিত্সা সরঞ্জাম সরবরাহ ও মেরামতে গড়িমসি
চিকিত্সা সরঞ্জাম সরবরাহ ও মেরামত নিয়ে ভোগাচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। অতি ব্যয়বহুল মেশিনের একটি অংশ স্থাপনের পর অপর অংশ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে চালু করা যাচ্ছে না চিকিত্সা সেবা। মেয়াদোত্তীর্ণ অচল মেশিনগুলো ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা নিয়ে টালবাহানা করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এতে নতুন মেশিন ক্রয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে এধরনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেশিন নিয়ে কর্তৃপক্ষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে রোগীরা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রেডিওথেরাপী বিভাগে গত ৩ বছর যাবত্ ক্যান্সারের থেরাপি চিকিত্সায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ওয়ার্ডের একমাত্র ‘কোবাল্ট সিক্সটি’ মেশিনে চিকিত্সা সেবা চলছে না। এতে প্রতিদিন শতশত ক্যান্সার রোগী চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। চিকিত্সকরা জানান, মেশিনটি অনেক আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তারপরও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেশিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করছে না। এই ব্যাপারে দীর্ঘদিন যাবত্ টালবাহানা করছে তারা। মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনটি তারা মেরামতযোগ্য বললেও গ্যারান্টি দিচ্ছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এসে মেশিনটি পরিদর্শন করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোন চিঠি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেনি। জানা যায়, নতুন আরেকটি কোবাল্ট মেশিন আনা হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে এটি বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। মেশিনটি চালুর আগে বাংকার স্থাপন করতে হবে। বাংকারের ডিজাইন রেডিওথেরাপি বিভাগের চিকিত্সকরা অনুমোদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক জানান।

রেডিওথেরাপি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় দেড় বছর আগে একটি ‘ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন’ আনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেশিনটি চালু করা যায়নি। মেশিনটি ওয়ার্ডের একটি কক্ষে বসানো হয়েছে। কিন্তু মেশিনের  অপরিহার্য ‘সোর্স’ নামক অংশটি বসানো হয়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।

এছাড়া হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে আলাদা রেডিওলজি বিভাগ। এই ওয়ার্ডের সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিন গত আড়াই বছর যাবত্ অচল অবস্থায় রয়েছে। মেশিন দু’টি অনেক আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেশিন দু’টি মেরামত অযোগ্য ঘোষণা করছে না। সম্প্রতি একটি এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে। এটি কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের নিচতলায় বসানো হয়েছে। কিন্তু মেশিনের অপরিহার্য্য অংশ ‘ওয়ার্ক স্টেশন’ নামক যন্ত্রাংশটি এখনো সরবরাহ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই অংশ দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয়। গত সপ্তাহে সিটি মেয়রের মাধ্যমে মেশিনটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ক স্টেশন না বসানোর কারণে চিকিত্সা সেবা চালু করা যাচ্ছে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫০
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪২
মাগরিব৫:২১
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:০৭সূর্যাস্ত - ০৫:১৬
পড়ুন