ক্ষুব্ধ মারডক ট্রাম্পকে নির্বোধ বলে ফোন কেটে দেন
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ক্ষুব্ধ মারডক ট্রাম্পকে নির্বোধ বলে ফোন কেটে দেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাইকেল ওলফের লেখা ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি:ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ নামের বইটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্য বইটি থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত অংশ ভাষান্তর করে প্রকাশ করা হচ্ছে

তালেব রানা

রুপার্ট মারডক একজন মিডিয়া মুঘল হিসেবে পরিচিত। ‘নিউজ করপোরেশন’-এর মালিক মারডকের গণমাধ্যম জগত্ ছাড়াও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গণে। যে কারণে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তি রয়েছে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের কিছু নীতি ও কথা বার্তায় চরম ক্ষুব্ধ হন মারডক। এক পর্যায়ে ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি:ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ বইতে এ তথ্য উঠে এসেছে। লেখক মাইকেল ওলফ তার বইয়ে ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ অধ্যায়টি মূলত লিখেছেন নবনির্বচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাজানোর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ঘটনার ওপর ভিত্তি করে।

লেখক লিখেছেন, নির্বাচনের পরের শনিবার নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধুরা সাক্ষাত করতে আসেন। সবাই আসলেও ট্রাম্প শুধু ঘড়ি দেখছিলেন। কারণ ওই অনুষ্ঠানে আসার কথা রয়েছে রুপার্ট মারডকের। তার জন্যই অপেক্ষা করছেন ট্রাম্প। যদিও মারডক সন্দেহাতীতভাবে ট্রাম্পকে একজন বোকা মানুষ ছাড়া কিছুই মনে করেন না। অতিথিরা চলে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করলে ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেন যে, মারডক পথে রয়েছেন। তিনি চাইছিলেন অতিথিরা যেন মারডকের সঙ্গে ট্রাম্পকে দেখে যান। ট্রাম্প অতিথিদের বলছিলেন, মারডক বিশ্বের বড় মানুষদের একজন। তাকে দেখার জন্য আপনাদের থাকতে হবে।

বইতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বিষয়ে মারডকের মনোভাব ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পকে তিনি ধনী ও বিখ্যাতদের মধ্যে থাকা একজন ‘ক্লাউন প্রিন্স’ মনে করতেন। ২০১৫ মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প যখন মারডক’কে বলেছিলেন তার বাবা প্রকৃতপক্ষেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। তখন মারডক ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো মার্কিন ইতিহাসকে তাক লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত একটু দেরিতেই মারডক অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছলেন। ট্রাম্পের বিষয়ে যে মনোভাব তিনি পোষণ করেন সেটা সেখানে নিয়ন্ত্রণে রাখারই চেষ্টা করলেন।

২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিলিকন ভ্যালি থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করতে ট্রাম্প টাওয়ারে যান। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রযুক্তি শিল্পের কর্মকাণ্ডের বারবার সমালোচনা করেছিলেন। ওই দিন দুপুরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন মারডক। তিনি সিলিকন ভ্যালির নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাত কেমন হয়েছে তা জানতে চান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, খুবই ভালো সাক্ষাত ছিল। সত্যিই এই মানুষগুলোর আমার সহায়তা দরকার। বারাক ওবামা তাদের পক্ষে ছিলেন না। তাদেরকে সহায়তা করার খুবই ভালো সুযোগ আমার হাতে এসেছে। এ সময় মারডক বলেন, গত আট বছর ধরে ওবামা এই মানুষগুলোর পকেটে ছিল। বাস্তবিক অর্থে তারাই প্রশাসন চালিয়েছে। আপনার সহায়তা তাদের দরকার নেই। 

এ সময় মারডক ট্রাম্পকে এইচ-ওয়ানবি ভিসা ইস্যুতে উদার নীতি গ্রহণের আহবান জানান। তিনি বলেন, তাদের এই ভিসা দরকার। এ সময় ট্রাম্প উদাসীনভাবে বলেন, আমরা বিষয়টি ভেবে দেখবো। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হন মারডক। তিনি ট্রাম্পকে নির্বোধ বলে গালি দিয়ে ফোনটা কেটে দেন।

বইতে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে প্রশাসন সাজানোর ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা করেননি। এমনকি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়েও কোনো ধারণা ছিল না তার। লেখক লিখেছেন, ট্রাম্পের প্রশাসনে যোগ দিতে যাওয়া প্রায় সকল পেশাজীবীর কাছে একটি বিষয় দৃশ্যমান হয়েছিল যে, ট্রাম্প কিছুই জানেন না। ভবন নির্মাণ ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তার দক্ষতা নেই। যা তিনি জানেন, সেটা মনে হয় এক ঘণ্টা আগে শিখেছেন। ট্রাম্পের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহযোগী স্যাম নানবার্গের কাছে লেখক জানতে চেয়েছিলেন, ট্রাম্প কি ভালো মানুষ, বুদ্ধিমান মানুষ, একজন সক্ষম ব্যক্তি? জবাবে নানবার্গ বলেন, আমি এখনো জানি না, তবে তিনি একজন ‘স্টার’।

বইতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যেভাবেই হোক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তবে নতুন দায়িত্বের জন্য যেসব কাজ করা দরকার তার মস্তিষ্ক মনে হয় না তা করতে সক্ষম। তার কোনো কর্ম পরিকল্পনা করার এবং তা সংগঠিত করার সক্ষমতা নেই। সবচেয়ে মূল জিনিসটা হলো, তিনি কোনো ঘটনার কারণ ও এর প্রভাবের বিষয়টি বুঝতে পারেন না। এর অন্যতম উদাহরণ হলো মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ও যোগ সাজশের অভিযোগ। এখানে হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে রুশদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেননি। অথচ অভিযোগ ওঠার পর তিনি এই ইস্যুতে জনগণের অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করেছেন। সন্দেহ নেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কথা বলেছেন ও কাজ করেছেন। এজন্য রাজনৈতিকভাবে মূল্য দিতে হতে পারে।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৭
আসর৩:৫৬
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন