উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়েছে লস্কর-ই-তৈয়বা!
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ এনজিওরা তত্পর

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার জেলায় ১২টি ক্যাম্প করে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ স্বীকার করছেন সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিও বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিলাসবহুল বাড়িতে রীতিমতো ব্যানার টাঙিয়ে পাকিস্তান ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার নামে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সংগঠনটির লোকেরা আত্মগোপন করে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সংস্থা ওই এনজিওটির সন্ধানে ক্যাম্পে বিশেষ করে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওত পেতে অবস্থান করছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) লস্করের মানবিক কার্যক্রম ও তহবিল সংগ্রহে ব্যবহূত হয়। এফআইএফ এর নামেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তত্পরতা চলছে বলে জানা গেছে। এ সংগঠনটির কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিদ্যমান সুসম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে বলে রোহিঙ্গারা উল্লেখ করেছে। ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ১২টি এনজি সংস্থার গোপনে এখানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী তত্পরতায় লিপ্ত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। করাচিতে এফআইএফ এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। সংস্থাটি উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকজন জামায়াতপন্থি প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের হোয়্যাইকং ও শামলাপুরে তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

গতকাল শুক্রবার ক্যাম্পে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে তিনিও জানান, লস্করে-ই-তৈয়বার কার্যক্রম চালাচ্ছে কুতুপালং এর এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। তবে                  বিষয়টি হাতে নাতে প্রমাণ করতে না পারার কারণে তাকে ধরা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আজ না হোক কাল এসব রাষ্ট্রবিরোধী তত্পরতায় জড়িত ব্যক্তিরা ধরা পড়বে। তাদের পেছনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স ও রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকেও লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কুতুপালং বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানান, বেশ কয়েকদিন আগে লস্করে ই তৈয়বার নামে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তাদের সমস্ত দায় দায়িত্বে ছিল স্থানীয় একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। গত কয়েকদিন ধরে ওই এনজিওটি উধাও হয়ে গেছে। তবে তাদের কিছু কর্মী গোপনে ক্যাম্পে কাজ করলেও তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং,আঞ্জুমানপাড়া ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিক ও এনজিও’র গোপন তত্পরতা লক্ষ্য করে গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৭ দফা সুপারিশ করেন। তত্মধ্যে কোডেক, এমডিএস, মোয়াসসহ ৪টি এনজিও’র বিদেশি কর্মকর্তারা এদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক বিষয়কে পুঁজি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি গ্রহণে অনিচ্ছুক, ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা নিরুত্সাহিত করা সহ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এমনকি তারা রোহিঙ্গাদের এসব কাজের জন্য নগদ টাকাও বিতরণ করছে। যে কারণে গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। যার ফলে সরকার ওই ৪টি এনজিও সহ আরো ১২টি এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৭
আসর৩:৫৬
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন