শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষতিকর দিক প্রসঙ্গে
১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার এবং কোনোভাবেই বাইরের প্রশ্নে পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পত্র জারি করেছে। এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। মফস্বলের প্রতিষ্ঠানসমূহে এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাঁরা মানসম্মত প্রশ্ন করতে সক্ষম নন। বাইরের প্রশ্ন-প্রণেতারা অভিজ্ঞ কিছু শিক্ষক দিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন করেন। মানসম্মত না হলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের প্রশ্ন কিনবে না, তাই প্রশ্ন যেন মানসম্মত হয় সেদিকে খেয়াল রাখেন। শিক্ষক যিনি শ্রেণিকক্ষে যে বিষয়ে পাঠদান করেন তাঁর বিষয়ে ছাত্ররা ফলাফল খারাপ করলে পরিচালনা কমিটি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়। এ কারণে শিক্ষক প্রশ্নের মান সহজ করে দিতে পারেন যা সঠিক মেধা যাচাইয়ের অন্তরায়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে যারা প্রাইভেট পড়ে বা নীতিমালা মেনেই কোচিং করে তাদের প্রতি শিক্ষকদের কিছু সহানূভূতি থাকে। প্রাইভেট কোচিং না করানো শিক্ষকেরও কিছু প্রিয় ছাত্রছাত্রী বা আত্মীয়স্বজন থাকে যাদের প্রতি তাঁদের সহানুভূতি প্রকাশ পাওয়া বিচিত্র নয়। মফস্বলের কোনো রাজনৈতিক নেতা বা পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্য কোনো শিক্ষককে মোবাইলফোনে যদি অনুরোধ করেন—আমার ছেলেকে পাঠালাম, সম্ভাব্য কিছু প্রশ্ন বইতে দাগিয়ে দেবেন; তখন শিক্ষকের পক্ষে তাঁদের অনুরোধ রক্ষা না করা কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে দাগ দেওয়া থেকে প্রশ্ন কমন পড়লে মেধা যাচাই যথাযথ হয় না। আমাদের দেশে যেখানে অনেক নিরাপত্তার পরও পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় সেখানে শিক্ষকের কাছে তা শতভাগ নিরাপদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক না করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকদের এখতিয়ারে ছেড়ে দিলে তাঁরা তাঁদের সুবিধামতো প্রশ্ন ক্রয় বা প্রণয়ন করিয়ে নেবেন অথবা জেলা/উপজেলায় একটি প্রশ্ন কমিটি করে তাঁদের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। বিষয়টি প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।

মো. ইয়াছিন মজুমদার

অধ্যক্ষ, ফুলগাঁও ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসা,

লাকসাম, কুমিল্লা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন