নারীর নেতৃত্বে প্রথম পুলিশ প্যারেড
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং
নারীর নেতৃত্বে প্রথম পুলিশ প্যারেড
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তা পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উদ্বোধন করেন। জানাচ্ছেন

আবুল খায়ের

প্র ধানমন্ত্রী মাঠে পৌঁছালে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহারের নেতৃত্বে সম্মিলিত প্যারেড প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালামের মাধ্যমে স্বাগত জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন। তার নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল প্যারেড হয়েছে। এটি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই শামসুন্নাহারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

অধিনায়ক হিসেবে এসপি শামসুন্নাহারের নেতৃত্বে এই প্যারেডের মধ্যদিয়েই শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহের কার্যক্রম। গতবছর পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে উপ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একজন নারী। এবার অধিনায়ক হিসেবে কোনো নারীর দায়িত্ব পাওয়াকে পুলিশে লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে   দেখা হচ্ছে। এছাড়া এবার তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ          পদক (পিপিএম)-সেবা’য় ভূষিত হয়েছেন। এরা হলেন: ঢাকার  সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া এনালাইসিস এন্ড রিসার্চ  উইং, এসবি) মাকসুদা আক্তার খানম, ঢাকার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, ডিএমপি) মুক্তা ধর ও বরিশালের সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিএমপি) শাহানাজ পারভীন।

শামসুন্নাহার

এই নারী পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়ায়। ২০০১ সালে চাকরিতে যোগ দেন। মানিকগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে এমফিল, ১৯৯৮ সালে এমএসএস এবং ১৯৯৬ সালে বিএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ৭ বার জাতিসংঘ শান্তি পদক পেয়েছেন এবং ২ বার আইজি ব্যাজ প্রাপ্ত হন।

 

মাকসুদা আক্তার খানম

মহানগরসহ বিভিন্ন জেলার মামলা তদন্তকারী অফিসারদের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভূমিকা রাখছেন তিনি। এরূপ তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা চাঞ্চল্যকর, আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপহরণের ক্ষেত্রে ভিকটিম উদ্ধার, চাঁদাবাজ গ্রেফতার ও জঙ্গি তত্্পরতা দমনে সফল হচ্ছেন। এছাড়া ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

মুক্তা ধর

২০১৫ সালের ৬ মে রাজধানীর মুগদায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন সইতে না পেরে ৫ম তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন একজন গৃহবধূ। মুক্তা ধর এই মামলাটির তদন্ত করে আসামিদের গ্রেফতার করেন। তিনি একজন নবাগত নারী পুলিশ অফিসার। সমাজে অনেক অসহায়, নিঃস্ব, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

 

শাহানাজ পারভীন

২০১৫ সালের ১৬ জুন লাবন্য আক্তার নামে এক মেয়ে বরিশালের আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ওপর থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তিনি জানতে পারেন ভিকটিমের বাবা-মা বিবাহ বিচ্ছেদের পরে আলাদা থাকেন। পরে কেউ তাকে নিতে চায় না। এ অবস্থায় মেয়ের বাবাকে ডেকে তিনি বলেন, আপনি আপনার মেয়ের দায়িত্ব নিতে বাধ্য, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তখন ওই মেয়ের দায়িত্ব নেয় তার বাবা। এভাবে তিনি আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী মেয়েকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। তার এসব কাজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন