স্বপ্ন বোনা দুটি পায়ে
০৬ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
স্বপ্ন বোনা দুটি পায়ে

ক্রিকেট ও ফুটবল। যেন শুধু খেলা নয়। বাঙালি জাতির কাছে এটি এক আবেগের নাম। এ খেলা মানেই গায়ে রঙিন জার্সি চেপে মাঠের

ভিতরে থাকা এগারো সৈনিকের উত্সাহ দেওয়ার বিশাল আয়োজন। মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে জমে ওঠে কথার লড়াইও। লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই নারীরাও।

ধাপে ধাপে এগিয়ে আসছে তারা। ক্ষুদে নারী ফুটবলারদের দুটি পায়ে স্বপ্ন বোনার গল্প শোনাচ্ছেন— আজাদ হোসেন

দে শের নারী ফুটবলাররা আশার বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের অসংখ্য ফুটবল প্রেমীদের মাঝে। ইতোমধ্যে এই ক্ষুদেরা দ্যুতি ছড়িয়েছে দেশ ও দেশের বাহিরে। লাল-সবুজকে উঁচু করছে বারবার। এনে দিয়েছে দুইটি শিরোপা। ২০১৪ সালের আগের ইতিহাস ঘাটলেও যেখানে একটি শিরোপার খোঁজও মিলবে না, সেখানে পরপর দুটি শিরোপা ঘরে এনেছে অদম্য এই ক্ষুদে ফুটবলাররা। এর আগে কম বেশি হারের রেকর্ডও আছে বাংলাদেশের নারীদের। সেই হারকে উপেক্ষা করে হঠাত্ নাটকীয় মোড় নেয় ২০১৫ তে। নেপালে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপ প্রথমবারের মতো জয় করে এই ক্ষুদে প্রমিলারা। এই শিরোপা নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা। তাজিকিস্তানে গিয়েও নিজেদের শেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে এই ক্ষুদে তারকারা। পেয়েছে ব্যক্তিগত সাফল্য, দশ গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছিলেন বাংলাদেশের তহুরা খাতুন। টুর্নামেন্ট সেরা তহুরা শুধু দেশের নয়, মন জয় করেছেন তাজিকিস্তানের সমর্থকদেরও।

বয়স ভিত্তিক নারীদের এমন জয়ে যখন বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে ব্যস্ত গোটা দেশ তখন প্রশ্ন জাগে কে বা কারা আছে এই সাফল্যের পিছনে? এখানে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপের কথা না বললেই নয়, যার সুফল ঘটেছে দেশের নারী ফুটবলে। ২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হয় এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। রক্ষণশীল সমাজকে চোখ রাঙিয়ে ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যায় মেয়েরা। টুর্নামেন্টের বড় বিস্ময় হচ্ছে কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার স্কুলটি তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন। বলা হয় নারী ফুটবলের কারিগর এই স্কুলটি।  ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করলেও সাফল্যের দেখা মেলেনি প্রথম দু-বছরে দেখতে হয়েছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। তবে থেমে যায়নি তারা। আজকে কলসিন্দুর ফুটবল জাগরণের উর্বরভূমি। বয়সভিত্তিক নারী দলগুলোর বেশ কিছু খেলোয়াড় আসছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই স্কুল থেকে। সঙ্গে নিয়ে আসছে জয় ছিনিয়ে আনার অদম্য ইচ্ছা। স্বপ্ন দেখছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের চিহ্ন রেখে যাওয়ার।

সেই স্বপ্নের কথা বললেন অনূর্ধ্ব ১৬ এর মাছুরা পারভিন। সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আশা এই ক্ষুদে ফুটবলারের ইচ্ছা দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়া। কথা হলো- আরেক ক্ষুদে যোদ্ধা কৃষ্ণা রানী সরকারের সঙ্গে। স্বপ্নের এই জোয়ারে পৌঁছাইতে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু হার মানেনি এই ক্ষুদে ফুটবলার। অনূর্ধ্ব ১৪ থেকে শুরু করে আজকে অনূর্ধ্ব ১৬ তে সে। দুর্দান্ত স্ট্রাইকার এ মেয়ে এসেছে টাঙ্গাইলের সুতি ভি এম স্কুল থেকে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে নেই অনূর্ধ্ব ১৬ দলের মনিকা চাকমা ও আঁখি খাতুন। তাদের কণ্ঠেও শোনা গেল একই কথা। তাদের চোখেও ছিল সেই একই স্বপ্ন।

স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিদিন ঘাম ঝরাচ্ছেন নারী এই ক্ষুদে ফুটবলাররা। কেনই বা ঝরাবেন না, স্বপ্নগুলো যে তাদের একার না এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা। পিছিয়ে নেই বাফুফে ও নারীদের কোচ। একই সঙ্গে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা, পরিকল্পনা আঁকছেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।

কথা হলো কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের সঙ্গে। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে আমরা আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। সবাই অনেক ভালো খেলছে। আগামীতে সাউথ এশিয়াতে মুখ্য এক জায়গায় থাকতে চায়। পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলতি বছরে ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব ১৫ দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০১৮-তেও আছে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট। মেয়েরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আশা করি সাফল্য আসবে।

ক্ষুদে নারী ফুটবলের অগ্রগতিতে শুধু যে কলসিন্দুর স্কুল আছে তা কিন্তু নয়, স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান রাখছে টাঙ্গাইলের সুতি ভি এম স্কুল, পার্বত্য অঞ্চলের স্কুল, রাজশাহীর খর্দকৌড় স্কুলসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল। সেইসব স্কুল থেকে আসা মেয়েদের দিয়ে দেশের নারী ফুটবলের জাগরণ হয়েছে। রং বদলে গেছে দেশের নারী ফুটবলের। লজ্জাবতী হয়ে বসে না থেকে তারা আজ মাঠে পাল্লাদিয়ে দৌড়ায়-লড়াই করে।  লাল সবুজের পতাকা জড়িয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে জয় ছিনিয়ে আনতে। এগিয়ে যাচ্ছে তারা নারী ফুটবলের অগ্রপথিক হয়ে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৬ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫০
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪১
মাগরিব৫:২০
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:০৮সূর্যাস্ত - ০৫:১৫
পড়ুন