চাই সিস্টেমের উন্নয়ন
সাব্বির রহমান কাউসার১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
চাই সিস্টেমের উন্নয়ন

আমাদের দেশে উন্নয়ন বলতে আমরা আমজনতা যেটা বুঝি সেটা হলো বড় বড় ব্রিজ, কালভার্ট, ওভারব্রিজ আর লম্বা লম্বা রাস্তা বানানো। এটা শুধু আমরা আমজনতাই বুঝি তা কিন্তু না। আমের চাষিরা আই মিন পলিসি মেকাররাও অনেকেই  এটাই বিশ্বাস করেন।

আদতে উন্নয়ন আসলে বোঝায় একটা সিস্টেমের উন্নয়ন। যে সিস্টেমে আপনি চাইলেই দুর্নীতি করতে পারবেন না। যে সিস্টেমে আপনার মৌলিক অধিকারগুলো সংরক্ষিত থাকবে। আর বড় বড় ব্রিজ কালভার্ট সেই সিস্টেমের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ। এখন যদি বলি সিস্টেম কী?  এটাও অনেকেই জানেন না।

এদেশে একজন সচিব জানেন না তার কাজ কী।  একজন সচিবকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় আপনার কাজ কি তখন তিনি পুরোদস্তুর রাজনৈতিক উত্তর দিয়ে বসেন। হাসিমুখে বলেন, আমার কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা।

এসব কিছু জানতে দরকার প্রচুর পড়াশোনা, গবেষণা। গবেষণার দ্বারাই সৃজনশীল মানুষ তৈরি হওয়া সম্ভব যারা বিভিন্ন সৃজনশীল পলিসি তৈরি করবে। যে পলিসিতে সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে জনগণ। এখন যদি পড়াশোনার কথা বলি, তবে আমাদের তাকাতে হবে বিসিএস পরীক্ষার দিকে। কারণ এখান থেকেই পলিসি মেকারদের চাকরি জীবনের শুরু হয়। বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শুরু হয় সাধারণ জ্ঞান মুখস্থকরণ। মূলত যেটুকু জ্ঞান ছিলো বা পড়াশোনা ছিলো সেটুকুও ধ্বংস হয়ে যায় বিসিএসের প্রস্তুতিতে।  সংক্ষেপে সবকিছু মনে রাখার কৌশল আবিষ্কার করে ফেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থী। এর প্রতিফলন পরবর্তীকালে চাকরি জীবনেও পড়ে। কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ অবশ্য আছে। নইলে দেশ চলতো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতাশায় আত্মহত্যা করে। চাকরির পিছনে ছুটতে ছুটতে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে অনেকে। এই বয়সে বাড়িতে টাকা চাইতে লজ্জা করে। তবুও লজ্জার মাথা খেয়ে চেয়ে ফেলে ৫০০ টাকা। বাড়ি থেকে ৪০০ টাকা পাঠানোর পর ভাই বলে ৫০০ না দেওয়ার কথা ছিলো।

আমি নিশ্চিত ওপাশ থেকে বলেছিলো, চাকরি-বাকরি কিছু হলো বাবা? এইগুলোই হচ্ছে আমাদের সিস্টেমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় ৯০% শিক্ষার্থী হতাশ। অন্যদের কি অবস্থা তা আন্দাজ করা যায় কিন্তু।

কিছুদিন আগে জাতীয় দৈনিকের একটা শিরোনাম ছিলো, দেশ কেন ছাড়বো না। সেখানের কমেন্ট সেকশনে অনেকে মতামত দিয়েছেন। সেখানে এক বাঙালি ভদ্রলোক কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসে ইমিগ্রেশন থেকে ঘুষ দিয়েও তার মালামাল আনতে পারেননি। ভোটার আইডি কার্ড করতে পারেননি দ্বারে দ্বারে ঘুরে। শেষে কানাডাতেই ফেরত গেছেন।

এক ভদ্রলোক এদেশে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন ব্যবসা গোছাচ্ছেন দেশ ছেড়ে পালাবে বলে। একজন বাহিরে থেকে পিএইচডি করে এসে এদেশে টিকতে না পেরে দেশ ছাড়ার চিন্তা করছেন। এই হচ্ছে আমাদের সিস্টেম।

কথায় কথায় বলি সিস্টেমটাই পচে গেছে। দাঁড়ান, নষ্ট সিস্টেমের ফল এখনো পাননি। পেতে শুরু করছেন মাত্র। আরো পাবেন। শত শত ব্রিজ কালভার্ট করে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটানো যায় ঠিকই তবে সেটা সিস্টেমের ক্ষুদ্রতর অংশ। পুরো সিস্টেমের উন্নতি করতে চাইলে এসব রাস্তা আর ব্রিজের ধ্যান-ধারণা থেকে বের হতে হবে।

পলিসি তৈরিতে সৃজনশীল মানুষ দরকার। সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করে সেসব মানুষ পাওয়া সম্ভব বলে মনে হয় না। তার উপর আরো অন্যান্য সমস্যা তো আছেই। বিসিএস পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। যোগ্য ব্যক্তিদের যোগ্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। তবেই এই নষ্ট হতে যাওয়া সিস্টেম থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারবো।

একবার এই সিস্টেমটা উন্নতি করতে পারলে প্রতিবছর পাঁচটা পদ্মাসেতু বানানো সম্ভব। দেশের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ বেশ ভালোভাবেই হবে যদি সিস্টেমটা দুর্নীতিগ্রস্ত না হয়। তাই দুর্নীতি রোধ করাও এদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এদিকটাতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন