জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ইলিয়াস১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার একটি অন্যতম এলাকা পুরান ঢাকার সদরঘাট। এখানে যে সকল বাস চলাচল করে সেগুলোর মধ্যে বিহঙ্গ, তানজীল পরিবহন, আজমেরী গ্লোরী, সুপ্রভাত ৭নং বাস (গাবতলী টু সদরঘাট), স্বজন পরিবহন অন্যতম। সদরঘাট থেকে সাধারণত মিরপুর-১, গাবতলী-সাভার, দিয়াবাড়ি-উত্তরা, রামপুরা-বাড্ডা পর্যন্ত বাসগুলো যাতায়াত করে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখনো নদীপথে যাতায়াত করে। আর যারা নদীপথে যাতায়াত করে তাদেরকে এ বাসগুলো ব্যবহার করে ঢাকার অন্যত্র যাতায়াত করতে হয়। কারণ লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলার অর্থাত্  জলযানগুলো এ সদরঘাটে এসেই ভিড়ে। কিন্তু সদরঘাটে গেলে দেখতে হয় এক দুঃখজনক চিত্র। সদরঘাটে নদীপথের যাত্রীদের অন্যত্র যাওয়ার জন্য এই বাসগুলোর উপর নির্ভর করতে হয়। আর এ সুযোগটাকে কাজে লাগান বাসচালকরা। পাতেন মহাফাঁদ। যে সকল বাস সিটিং নয় সেগুলোকেও  সিটিং হিসাবে চালিয়ে দেন। বেশি করে ভাড়া আদায় করেন। অতিরিক্ত যাত্রীও গাড়িতে তুলেন তারা। সাধারণ যাত্রীরা তাদের কাছে এক ধরনের জিম্মি। কেউ প্রতিকার চাইলেও  যেন কিছু করার  নেই। ভাড়া সবার জন্য এক। বাড্ডা গেলে যে ভাড়া মালিবাগ গেলেও সে ভাড়া দিতে হয়। আবার গাবতলী গেলে যে ভাড়া শ্যামলীতে গেলেও সে একই ভাড়া দিতে হয়। আপনি যেথায় নামেন না কেন আপনাকে বাসটির শেষ স্টপেজের (যে পর্যন্ত যাবে তারা) ভাড়া আপনাকে দিতে হবে। তাছাড়া আরো দেখলাম, তারা সিটিং-এর চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করেন। উত্তরা যেতে ১০০ টাকা দিতে হবে।

অথচ এখানে যেসব গাড়ি চলাচল করে তার বেশির ভাগ গাড়ি সিটিং নয়। অন্যদিকে তারা আশপাশের এলাকার (গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, ফার্মগেট, শান্তিনগর) যাত্রীদের বাসে তুলেন না, উঠলেও চলন্ত বাস থেকে ঠেলে নামিয়ে দেয়া হয়। যদিবা কেউ হাত-পা ধরে উঠতে চান তাকে সদরঘাট থেকে শাহবাগ যেতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া দিতে হবে , এছাড়া বাসে তুলবে না। আর তারা ট্রাফিক আইনও মানেন না যে যেখান থেকে পারেন বাস সামনে তুলে দেন আগে যাওয়ার জন্য, যাত্রী তোলার জন্য। বাহাদুর শাহ পার্কের প্রথম মোড় (সদরঘাটের দিক যেতে) থেকেই গাড়ি ঘুরিয়ে আবার দূরপাল্লায় যাওয়ার জন্য যাত্রী তুলেন, কোনো সিরিয়াল বা নিয়ম শৃঙ্খলা কিছু নেই। ট্রাফিক পুলিশ বারবার কোনো বাসকে চলে যেতে বললেও তারা অতিরিক্ত যাত্রী তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। তাই যারা সড়কের এ সেক্টরে দায়িত্বরত আছেন এ বিষয়টি লক্ষ্য করুন এবং অতিদ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

n লেখক:  শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন