ঢাকা শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
২৩ °সে

দোয়ারাবাজারে সোনালী চেলা নদীতে বাঁশের সাঁকো

দোয়ারাবাজারে সোনালী চেলা নদীতে বাঁশের সাঁকো
ছাতক (সুনামগঞ্জ): দোয়ারাবাজারে সোনালী চেলা নদীর ওপরে নির্মিত সাঁকো —ইত্তেফাক

দোয়ারাবাজারে সোনালী চেলা নদীর উপর শুষ্ক মৌসুমে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটিই স্থানীয় দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে ছোট ও মাঝারি যানবাহন। অপরদিকে বর্ষায় নৌকাই দুই পাড়ের মানুষের নদী পারাপারের ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে পাকা সেতু নির্মাণের।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে পাহাড়ি নদী সোনালী চেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে এ বাঁশের সাঁকো। দু’পাড়ের মানুষের পারাপারের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে এ সেতুটি নির্মাণের ফলে দু’ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের পারাপারসহ প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল, মিনি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচলেও সুবিধা বেড়েছে এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোনালী চেলা নদীর মোহনায় এখন বালির চর জেগে ওঠেছে। বর্ষায় উত্তাল থাকে এই পাহাড়ি নদী। প্রতিবছর হেমন্তে এখানে নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত নদী পারাপার হতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অপরদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পাল্টে যায় সোনালী চেলার দৃশ্যপট। নদীর পানি তখন কমে যায়। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে নদীর মোহনায় ভেসে উঠে চর। ভারত সীমন্তে পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এই নদীর দৃশ্য আগন্তক পর্যটকদের কাছে শুষ্ক মৌসুমে আরো মোহনীয় হয়ে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমের এই দিনগুলোতে নদীর পানি শুকিয়ে তলদেশ দিয়ে পানি প্রবাহ দৃশ্যমান থাকে। প্রতিদিন নদী দিয়ে চুনাপাথর বোঝাই সারি-সারি বারকী নৌকা চলাচলের নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা ঘটে এখানে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরে সোনাপুর কওমি মাদ্রসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়ে চার লাখ টাকায় সোনালী চেলা খেয়াঘাটের ইজারা প্রদান করেন। শুধু শুষ্ক মৌসুমে ভাসমান খেয়া পারাপারের আদলে ইজারাদার সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সহস্রাধিক ফুট দীর্ঘ এ বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৬ ফুট প্রস্থ সাঁকোটির নিচে ব্যবহার করা হয়েছে শক্ত বাঁশ ও কাঠের টুকরো। যাতে প্রতিদিন মানুষ পারাপারসহ মাঝারি যানবাহন, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো চলাচল করতে কোনো অসুবিধা না হয়।

নরশিংপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুর উদ্দিন জানান, সোনালী চেলা নদী পারাপারে বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে এলাকার মানুষ বাঁশের সাঁকো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। এলাকাবাসীর স্বার্থে সোনালী চেলা নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন