সিলেটের ভাঙা সড়কগুলো মেরামত হবে কবে
সিলেটের ভাঙা সড়কগুলো মেরামত হবে কবে
সংস্কারের অভাবে সিলেট জেলার বিভিন্ন সড়কের এমনিতেই বেহাল অবস্থা, তার উপর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরও করুণ। স্থানে স্থানে খানাখন্দকে ভরে গিয়ে অনেক সড়ক হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। অনেক রাস্তার পিচ উঠে গেছে। পাহাড়ি ঢলে অনেক স্থানে সড়ক ধসে গেছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রায়ই এসব ভাঙা সড়কে যাত্রীসহ যানবাহন উল্টে গিয়ে আহত হচ্ছে অনেকে। ভাঙা রাস্তায় চলাচলে যানবাহনের কলকব্জা দ্রুত বিকল হচ্ছে। ভাঙ্গা-চোরা সড়কের মধ্যে কোনোটি এলজিইডির, কোনোটি সড়ক ও জনপথের আবার কোনোটি সিটি কর্পোরেশনের সড়ক। সূত্র মতে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করছে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লন্ডনী রোডের নিকটস্থ অংশ সংস্কার হয় না বহুদিন হয়ে গেল। বর্ষা শুরুর পর থেকে ভাঙা এই সড়কটিতে সব সময়ই পানি জমে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই তারাপুর চা-বাগান এলাকা থেকে ঢলের মত পানি নামে। তখন ঐ সড়কে হয় কোমর সমান পানি। রাস্তার বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পতিত হয় সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন। বৃষ্টির সময় যানবাহন আটকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ে এই স্থানে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্র মতে সড়কটি যেহেতু সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুতরাং সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব তাদেরই। সূত্রটি জানায়, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন রাস্তার ড্রেন পরিষ্কারে নেমেছে। তবে এখানকার ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা অপর্যাপ্ত বলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।                                         

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আম্বরখানা থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত অংশে স্থানে স্থানে পিচ উঠে গেছে। কোথাও আবার সড়ক ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তঃজেলা, উপজেলা সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। ভাঙাচোরা এ সব রাস্তায় চলাচল করে যাত্রীরা ত্যক্ত-বিরক্ত। বৃদ্ধ ও রোগীরা বেশি যন্ত্রণা পোহাচ্ছেন।

নগরীর ভেতরের সড়কগুলোর দেখভাল করে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে আবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানেও রয়েছে বেশ কিছু সড়ক। তবে সব সড়কেরই প্রায় একই অবস্থা। দ্রুত এসব সড়ক মেরামত জরুরী বলে মনে করছেন নাগরিকরা। তবে তারা বলেছেন বৃষ্টির জন্য পুরো মেরামত করা না হলেও গর্ত ভরাট করে দিলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম চৌধূরী জানান, তার উপজেলায় এবার দ্বিতীয় দফা বন্যার আঘাতে বিভিন্ন সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ফলে জেলা ও ইউনিয়নের সাথে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সওজ সূত্র জানায়, সিলেট জেলায় ৪৯৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে তাদের অধীনে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে সিলেট জেলার বিভিন্ন সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সওজ এসবের সঠিক হিসাব নিকাশ করে মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, পাহাড়ি ঢলজনিত কারণে সারি-গোয়াইনঘাট ১৬ কিলোমিটার সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালির বস্তা দিয়েও সড়কটি রক্ষা করা যাচ্ছে না। বর্তমানে এটি মেরামতের জন্য এক কোটি টাকার প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছেন। অন্যদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। এতে ব্যয় হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ বলেন, চলতি বর্ষায় নগরীর অন্তত ২০ শতাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেল রোড, পুলিশ  লাইন, নবাব রোড, শেখঘাট প্রভৃতি সড়কের বহু অংশ   ভেঙে গেছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন