ঘূর্ণিঝড় মোরা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষত-বিক্ষত ফটিকছড়ি
ঘূর্ণিঝড় মোরা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষত-বিক্ষত ফটিকছড়ি
প্রথম দফায় ঘূর্ণিঝড় মোরা ও  দ্বিতীয় দফায় অতিবর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়েছে ফটিকছড়ির রাস্তাঘাট। বিশেষ করে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফটিকছড়ি-হেঁয়াকো সড়ক, নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক, ফটিকছড়ি-লেলাং-গহিরা সড়ক প্রভৃতি প্রধান প্রধান সড়কগুলো একাধিক স্থানে ভেঙে অত্যন্ত  ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফটিকছড়ি -হেয়াকো সড়কে নারায়ণহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে বালুখালী খালের উপর ব্রিজটি মোরার সময় একটি ট্রাকসহ ভেঙে খালে পড়ে গেলে গত ১৫ দিনের মাথায় গত পরশু এটির মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই সড়কের নারায়ণহাট বাজারের এক কি.মি উত্তরে নন্দী স্কুলের কাছে বসানো এলজিইডির একটি স্লুইস গেটের কারণে রাস্তাটির অর্ধেকাংশ ইতোমধ্যে ভেঙে পাশের গজারিয়া খালে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে এলজিইডির ইঞ্জিনিয়াররা এখানে স্লুইস গেটটি স্থাপন করে বন্যা সমস্যা আরো জটিল করে তুলেছেন। স্থানীয়রা স্লুইস গেটটি অবিলম্বে তুলে দেবার দাবি জানান।

অপরদিকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের নাজিরহাট কলেজের পেছনের অংশে হালদা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বর্তমানে সড়কটি কার্পেটিং অংশে এসে ঠেকেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি যে কোনো সময় হালদা গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বন্ধ হয়ে যাবে উপজেলার সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর এলাকার অন্তত দেড়লাখ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে লেলাং ইউপি হয়ে গহিরা সড়কে  শাহনগর এলাকায় বন্যায় একটি পাকা ব্রিজ ভেঙে গিয়ে ওই  সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। ফলে এলাকার জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে ভেঙে যাওয়া ব্রিজের স্থানে একটি বেইলি ব্রিজ স্থাপনের কাজ গত ১৯ মে থেকে শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ফটিকছড়ির প্রায় সকল ইউনিয়নে বন্যায় যাবতীয় রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। কোথাও একটি গ্রামীণ সড়কও অক্ষত নেই। সেই সাথে শত শত পুকুরের মাছ, শত শত একর জমির আমন বীজতলা নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফটিকছড়ি শাখা কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমের বক্তব্য চাইলে এ মুহূর্তে জরুরি মেরামত কাজের কোনো বরাদ্দ তাদের হাতে নেই বলে জানান তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান, মো. জানে আলম, আলহাজ মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, এস এম সোয়েব আল সালেহীন, হারুনর রশিদ ইমন, অহিদুল আলম প্রমুখ বলেন, সম্প্রতি বন্যায় ফটিকছড়িতে সব মিলিয়ে অন্তত একশ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু গত  ১৯ মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে বন্যা দুর্গতদের জন্য মাত্র ৮ টন চাউল, এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করে বলেন, ফটিকছড়িতে সার্বিক যে ক্ষতি হয়েছে তা স্ব স্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন