এবার খামারিদের চোখে লাভের স্বপ্ন
ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় আড়াইহাজারে গড়ে উঠেছে অনেক গরু খামার
এবার খামারিদের চোখে লাভের স্বপ্ন
এবার ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আড়াইহাজার উপজেলার গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে অনেক গরু খামার। অন্তত ৪৬৮টি গরু খামারে চলছে পরিচর্যাসহ গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া। খামার মালিকদের টার্গেট কোরবানির হাট। উল্লেখ্য, গরু মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে ওঠায় এবং এ প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করা গরুর চাহিদা কম থাকায় খামারিদের মধ্যে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টা এমন পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব খামারে বেড়ে ওঠা গরুগুলোর এক একটির ওজন হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ মণ। খামারিরা দ্বিগুণ উত্সাহে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আড়াইহাজার উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে গবাদিপশু পালনের হার বেশি। বিশেষ করে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন, খাগকান্দা, উচিত্পুরা, মাহমুদপুর, বিশনন্দি, গোপালদী, সুলতানসাদি, ফতেহপুর, আড়াইহাজার পৌরসভা, ব্রাহ্মন্দী, সাতগ্রাম ও পাঁচরুখী ইউনিয়নে বেশ কিছু গরুর খামার গড়ে উঠেছে। অর্ধশত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অনেকটা শখের বশে গরু ছাগলের খামার করেন।  তাছাড়া প্রতিটি গ্রামেই গৃহস্থ পরিবারগুলো গরু ছাগল পালন করে। অনেক সচ্ছল গৃহস্থ পরিবার গরুর খামারও করেছেন।

আড়াইহাজারে খাসেরকান্দী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, “গতবার ইন্ডিয়ার গরু আইয়া আমাগো ব্যবসা নষ্ট কইরা দিছিলো। আমরা চালানও উঠাইতে পারি নাই। এইবার হুনছি ইন্ডিয়া গরু দিবনা। আল্লায় যদি আমাগো দিকে মুখ তুইল্লা চায়, হেই আশায় গরু বানাইতাছি। হুনতাছি এইবার আমরা ব্যবসায় লাভ করতে পারমু।” তার মত অন্য খামার মালিকরাও ধারণা করছেন এবার গরুর ব্যবসায় লাভ হবে। দিনরাত পরিচর্যার মাধ্যমে খামারে গরু মোটাতাজাকরণ চলছে।

আড়াইহাজার উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ৬ বছরে এ উপজেলায় প্রাণী সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দুধ ও মাংসের উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শংকর জাতে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে কৃত্রিম প্রজনন প্রদান করা হয় ৬০ হাজার ৯৪২ টি গবাদিপশুকে। ৮ হাজার ২৯১ জন বেকারকে গবাদিপশু ও হাঁস মুরগি পালনে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হয়েছে। চেক পয়েন্টের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বার্ড ফ্লুতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ জন খামারিকে ৬১ লাখ ৮০ হাজার ৮৩ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। টিকা প্রদানের মাধ্যমে গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্সসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। দুধ ও মাংস উত্পাদনের লক্ষ্যে ৩৯ দশমিক ৯১ একর জমিতে উন্নত জাতের স্থায়ী ঘাস উত্পাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ফারুক আহমেদ জানান, এই বছর প্রায় ১০ হাজার পশু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারিরা। তিনি খামারিদের স্বাভাবিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণের পরামর্শ দেন। সবশেষে গবাদি পশুকে নিষিদ্ধ কোনো ট্যাবলেট যাতে না খাওয়ানো হয় সেই জন্য সকল ওষুধ ব্যবসায়ীকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।  তিনি আরো বলেন, গরু মোটাতাজাকরণ অনেক লাভজনক ব্যবসা। আশা করছি কৃষকেরা এবার ভালো লাভ করতে পারবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন