সমস্যায় জর্জরিত সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের সাড়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিত্সার একমাত্র স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ শয্যা উন্নীত করা হলেও নানা সমস্যায় রোগীদের চিকিত্সা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শয্যা, ওষুধ, এক্স-রে মেশিন, বিশুদ্ধ পানি ও আসবাবপত্র সংকট ছাড়াও ডাক্তারের ১টি, ২য় শ্রেণির ৫টি, ৩য় শেণির ১৭টি, ও ৪র্থ শ্রেণির ২টি পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিত্সক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ও রোগীদের রয়েছে নানা অভিযোগ। সম্প্রতি নার্সদের পরিহিত সাদা ডেস পরিবর্তন করে শেওলা রঙের পোশাক পরার কারণে রোগী বা রোগীদের আত্মীয়রা নার্সদের চিনতে পারছেন না।

বহির্বিভাগের প্রতিদিন দুইশর বেশি রোগী চিকিত্সা নিতে আসে। চিকিত্সকের অভাবে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রোগীদের বসার জন্য আসবাবপত্র ও ফ্যানের ব্যবস্থা নেই।

আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও ডাক্তার না থাকার কারণে লাখ টাকার মেশিন অকেজো অবস্থায় রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের অভাবে এখানে জটিল অপারেশন তো দূরের কথা সাধারণ অপারেশনও হয় না। এক্স-রে মেশিনের অভাবে অধিকাংশ রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হয়। ল্যাবরেটরিতে রুটিন পরীক্ষা (ইউরিন মল-মূত্র ও রক্ত) ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম ওষুধ সরববাহ হওয়ায় বছরজুড়ে ওষুধ সংকট লেগেই থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। এতে দরিদ্র রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

শয্যার অভাবে ভর্তিকৃত রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। শয্যার অতিরিক্ত ভর্তি রোগীদের হাসপাতাল থেকে খাবার সরবরাহ না করায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিদ্যুত্ চলে গেলে গোটা হাসপাতালে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে চালু করা হয় না। ফলে প্রচণ্ড গরমে রোগীদের প্রচণ্ড কষ্ট হয় ও অন্ধকারের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ১ জন, নার্সিং সুপার ভাইজার ১ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৪ জন, পরিসংখ্যানবিদ ১ জন, ক্যাশিয়ার ১ জন, অফিস সহকারী ১ জন, এইচআই ১ জন,এএইচআই ৭ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ৬ জন, কুক-মশালচি ১ জন ও মালি ১ জনসহ মোট ২৫টি পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পানা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুর হকে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন