হালদায় বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি শত শত একর ফসলি জমি
প্রশাসন বালু মহাল ইজারা না দিলেও অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
হালদায় বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি শত শত একর ফসলি জমি
রাউজানে হালদা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উঠানোর কারণে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙ্গন তীব্রতর হয়ে উঠেছে। নদীর রাউজান অংশে শত শত একর জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে চর জাগছে হাটহাজারীর দিকে। নদী ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে রাউজানের মানচিত্র।

জানা যায়, এবছর প্রশাসনের পক্ষে হালদার বালু মহলের ইজারা দেয়া হয়নি। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা নদীর বিভিন্ন পয়ন্টে অবৈধভাবে ছোট-বড় ড্রেজার বসিয়ে বালু উঠিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এই কাজে জড়িত আছে কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধি।

৮ সেপ্টেম্বর রাউজানের গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শত শত একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতে ভেঙে পড়ছে নদী পাড়ের মানুষের বসতঘরসহ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীর বিধ্বংসী ভাঙনে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘর। নদীর ভিতর চলে যাওয়া দক্ষিণ-পূর্ব কোতোয়ালী ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি ভেঙে ফেলতে হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল হাই বলেছেন, হালদা পাড়ে থাকা এখানকার বড় লুদির পুকুরটি প্রায় এক দশক আগে নদীতে বিলুপ্ত হয়েছে। ওই পুকুরের স্থানে এখন হাটহাজারী এলাকায় জেগে উঠা চরটি লুদির চর নামে পরিচিতি পাচ্ছে। তিনি জানান, হাটহাজারী এলাকায় জেগে উঠা কয়েকশ’ একর চরের জায়গা রাউজানের অংশ। এখন ওসব জায়গা অবৈধভাবে ভোগদখল করছে হাটহাজারীর লোকজন। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মনছুর বছরের পর বছর নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উঠানোর কারণে নদীর ভাঙন বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তারা জানায়, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন গত কয়েক মাস আগে অভিযান পরিচালনা করে বালু উঠানোর কাজে ব্যবহার করা একটি ড্রেজার জব্দ করে। এসময় থেকে আপাতত বালু উঠানো বন্ধ রয়েছে। আহমদ কবির নামের অপর এক ব্যক্তি জানান, নদীগর্ভে চলে গেছে হানিফ ড্রাইভার, কালু মেম্বারের বাড়িসহ অনেকের বাড়ি।

ভাঙনকবলিত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, হালদা পাড়ের বিশাল এলাকার কৃষি জমি কেটে বছরের পর বছর ইটভাটার মাটি জোগান দেয়া হয়েছে। নদীর পাড়ের মাটিও কেটে ব্যবহার করা হয়েছে ইট তৈরিতে। এভাবে মাটি কাটার ফলে নদীর পাড় দিয়ে প্রবাহিত ১১ হাজার কেভি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের কয়েকটি খুঁটি ধসের ঝুঁকি হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ওই ইটভাটার মালিক হাটহাজারী উপজেলার অবদুল মান্নান। জানা যায়, হালদা থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উঠিয়ে ব্যবসা যারা করছেন তারা সকলেই স্ব স্ব এলাকায় প্রভাবশালী। তাদের পরিচয় সরকার দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধি। একারণে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালদার চলমান অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে দলাদলি। বালু দখল নিয়ে এখানে লেগে আছে বছরের পর বছর সংঘাত-সংঘর্ষ। স্থানীয় সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখে রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বালু ব্যবসায়ীদের বালু উঠানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় নদীতে ভেঙে পড়া দক্ষিণ-পূর্ব কোতোয়াল ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, নদীর ভাঙন যেভাবে চলছে এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে ওই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাটিসহ একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মসজিদসহ আরো বড় দুটি পাড়া অচিরেই নদীগর্ভে চলে যাবে। তার কাছে জানা যায়, ভাঙন ভয়াবহতা রোধে সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা বলেন, হালদার বালু মহল ইজারা দেয়া হয়নি। এই নদী থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বালু উঠাতে দেয়া হবে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন