চকরিয়া-পেকুয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
g  চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় সম্প্রতি নতুন করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের কিছু কিছু পরিবার বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। দুই উপজেলায় অন্তত আড়াই হাজার রোহিঙ্গা নানাভাবে ঢুকে পড়েছে। অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা ইতোপূর্বে অবস্থান নেয়া পুরনো ১০ হাজার রোহিঙ্গার সাথে মিশে গেছে। বর্তমানে ঢুকে পড়া বেশিরভাগ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ী এলাকায়।

এদিকে গত সোমবার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকা থেকে ২৭ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পুশব্যাক করেছে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের আইসি মোঃ রুহুল আমিন। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের জরিপ মতে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় পুরনো রোহিঙ্গা বসবাস করছেন প্রায় ৭ হাজার। তবে সম্প্রতি সময়ে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা এলাকায় পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে ১০ হাজারের বেশি। গত কয়েকদিনে আরো আড়াই থেকে তিন হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ নতুন করে প্রবেশ করেছে। প্রবেশ করা নতুন রোহিঙ্গারা পুরনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁশিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি বনভূমিতে বসতি তুলে আশ্রয় নেয়া পুরনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে নতুন রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। এছাড়াও চকরিয়া পৌরসভার মাতামুহুরী সেতু সংলগ্ন স্টেশন পাড়া, নামার চিরিঙ্গা, ভাঙ্গারমুখ এলাকায় পুরনো রোহিঙ্গার ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা। তাছাড়া, পেকুয়া উপজেলায় সম্প্রতি তিন শতাধিক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রবেশ করা বেশিরভাগ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন উপজেলার রাজাখালী, টৈটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বিভিন্নজনের বাড়িতে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম বলেন, পুরনো রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে জরিপ চালিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন