জয়দেবপুর কাঁচা বাজার চালু হয়নি পাঁচ বছরেও
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
g  মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের জয়দেবপুর কাঁচা বাজারটি নির্মাণের পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত বাজারটি চালু না হওয়ায় ভাড়া জায়গায় ব্যবসা করেছেন ব্যাসায়ীরা। ধারদেনা করে জামানত দিয়েও এখনো দোকান বরাদ্দ না পেয়ে হতাশ তারা। অনেকে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বেচাকেনা করছেন। এতে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শহরবাসি।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ২০০৯ সালে জয়দেবপুর বাজারে স্থায়ী আধুনিক কাঁচা বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তত্কালীন গাজীপুর  পৌরসভা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তত্কালীন গাজীপুর  পৌরসভার  মেয়র বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম  মোজাম্মেল হক মার্কেটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান।  দোতলা এই মার্কেটটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় ৩  কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ১৮ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত এই মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে মাছ, তরকারি ও অন্যান্য  দোকান।  দোতলায় রয়েছে রকমারি দোকানের ব্যবস্থা। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি  গাজীপুর  পৌরসভা সিটি করপোরেশনে অর্ন্তভূক্ত হয়। ২০১৪ সালে দোকান বরাদ্ধের দরপত্র আহবান করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সাথে প্রভাবশালীরাও দোকন পেতে আবেদন করেন। অনেক প্রভাবশালী দলীয় বিবেচনায় দোকানের জন্যে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এতে সাধারন ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিলে বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়। যে কারণে মার্কেটটি আর চালু করা যায়নি।

জয়দেবপুর বাজার তরকারি ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি  মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, এই বাজারে ৪২ বছর ধরে ব্যবসা করছি। নতুন মার্কেটে দোকান পাওয়ার জন্য পাঁচ বছর আগে  ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েও দোকান বরাদ্দ পাইনি। তাই রাস্তায় বেচা-বিক্রি করছি। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে ১০ফুট  দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ মাপের দোকান বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে ৮ ফুট বাই ৮ ফুট করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র সেই দোকান সাড়ে ৬ ফুট বাই সাড়ে ৬ ফুট করেন। 

ব্যবসাী মো. ফিরোজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কাঁচা মালের দোকানীরা রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন। এতে করে জয়দেবপুর বাজারে সারাক্ষণ যানজটে সাধারন মানুষের কষ্ট হয়। আবার মাঝে মধ্যেই পুলিশ এসে দোকান উঠিয়ে দেয়। দোকানের জায়গার অভাবে তারা বাইরে  খোলা জায়গায় বসে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে  দোকান চালালেও  জায়গার অভাবে  বেশি মালামাল রাখা যায় না।

মার্কেটের  দোতলায়  দোকান বরাদ্দ পাওয়ার জন্যে আবেদন করেছেন মুরগি ব্যবসায়ী  মো. রায়হান মিয়া। তিনি বলেন, স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করার জন্য আট লাখ টাকা জামানত দিয়ে আবেদন করেছেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্ধও দেওয়া হয়নি , টাকাও ফেরত পাননি।  

মাংস ব্যবসায়ী মো. আকতার হোসেন বলেন, জায়গার অভাবে রাস্তার উপর মাঁচায় মাংস বিক্রি করছি। মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দ্দিষ্ট মার্কেট তৈরীর দাবি জানান তিনি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, দোকানের চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছে না। মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ব্যবসায়ীদের সাথে গত কয়েকদিন আগে্ও বসেছিলেন। জটিলতা  শেষ করে  প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে  দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন