বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রণব
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রণব
n সুভাষ সিংহ রায়

 

প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডের সময়কাল ১৯৬৯ থেকে ১৯৮০। সঙ্গত কারণেই তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড’।  ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রণববাবুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল আনুষ্ঠানিক তিনি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পাক জঙ্গিশাহীর অত্যাচার যখন চরমে উঠেছে, লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল শরণার্থী প্রাণের ভয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন, সে সময়েই।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ ইন্দিরা গান্ধী আদেশ দিলেন শরণার্থীরা যাতে বিনা বাধায় এদেশে প্রবেশ করতে পারেন সে জন্য পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে। শুধু তাই নয়, তিনি এই আদেশও দিলেন যে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে সব রাজনৈতিক নেতা এপারে আসবেন তাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ মার্চ সংসদের উভয় কক্ষেই ইন্দিরা একটি প্রস্তাব পেশ করলেন যাতে পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলি সম্পর্কে ভারত সরকারের মনোভাব পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল।

সে বছরই বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্যসভায় প্রণব মুখার্জি পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেন। বিষয়টি ছিল অবিলম্বে মুজিবনগরে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান। প্রণববাবুর কথায়, ‘আলোচনা চলাকালীন একজন সদস্য আমাকে প্রশ্ন করলেন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উপায় কী? আমি জবাবে বললাম, কালবিলম্ব না করে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। অর্থাত্ সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধানের অর্থ হবে যত রকমভাবে সম্ভব স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করা। অনুরূপ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের কত নজির দুনিয়ার ইতিহাসে আছে আমার ভাষণে সে সব উদাহরণও উপস্থিত করলাম।’

২৫ মার্চ রাতেই দেড়টা নাগাদ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন,      দিন তিনেক ঢাকার সামরিক ছাউনিতে বন্দী থাকার পর তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। পরের দিন,                ২৬ মার্চ, জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ আর শেখ মুজিবকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করেন। তার ঠিক তিন সপ্তাহ পরে কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে বৈদ্যনাথতলা নামের একটি জায়গায়  বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথগ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। প্রণব মুখার্জি এই সরকারকেই অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান এ ঘটনার দুমাস পরে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অব্যবহিত পরে ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমেদ যে দীর্ঘ প্রেস বিবৃতিটি প্রকাশ করেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সেটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। হয়তো সেই কারণেই প্রণববাবু তার আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডে এই বিবৃতিটি সংযোজিত করেছেন। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে বর্বরোচিত সামরিক অভিযান শুরু করেছেন তার দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়ার পরে তাজউদ্দিন ওই বিবৃতিতে তাদের সরকারকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন বিশ্বের সব দেশের কাছে। এমন নির্বিচারে গণহত্যা দেখেও যে সব দেশ চুপ করে আছে (পড়ুন আমেরিকা ও চীন) এবং পাকিস্তানের ঐক্য এভাবেই সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে তাদের উদ্দেশে তাজউদ্দিনের বক্তব্য ছিল, এমন কি ইয়াহিয়া খান নিজেও আর এমন স্বপ্ন দেখছেন না। পাকিস্তান মৃত, কেননা ইয়াহিয়া নিজেই তাকে হত্যা করেছেন। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব এমন একটি ঐতিহাসিক সত্য যা আর বদল করা যাবে না, আজ না হয় কাল দুনিয়ার ছোট-বড় সব দেশকেই স্বীকার করে নিতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব। বাংলাদেশের ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্ব-জনমত গড়ে তোলার কাজে ইন্দিরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিরোধী নেতাদেরও কাজে লাগিয়েছিলেন। ভারত সরকারের প্রতিনিধি করে তাদের অনেককেই পাঠিয়েছিলেন বিদেশে নানা জায়গায়।

পরিস্থিতিতে নাটকীয় বদল ঘটে যায় ইন্দিরা গান্ধীর মস্কো সফরের পরে। তখন থেকেই দেখা যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সুর বদলাতে শুরু করেছে, তারা আর যুযুধান দু’পক্ষকেই সংযম দেখানোর পরামর্শ দিচ্ছে না, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানকেই বেশি করে দোষী সাব্যস্ত করছে। সোভিয়েত অবস্থানে এই পরিবর্তন ওয়াশিংটনকে বিব্রত করে তোলে। ক্রমশই তারা বুঝতে শুরু করে ভারত আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে মস্কোর অঘোষিত মদতেই। মস্কো-ওয়াশিংটনের উচ্চগ্রামের তাল ঠোকাঠুকি আরম্ভ হয় এরপর থেকেই।

সমাধান এসেছিল কয়েক দিনের মধ্যেই। ঢাকার পত্তনের অব্যবহিত পরেই ইন্দিরা গান্ধী যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেন, ভারত যে পশ্চিম পাকিস্তান আক্রমণ করতে চায় না সেটাও পরিষ্কার হয়ে যায়। অনেক পরে ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনীতে এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন নিক্সন। তিনি লিখেছেন, ‘বাই ইউজিং ডিপলোমেটিক সিগন্যালস অ্যান্ড বিহাইন্ড-দ্য-সিনস প্রেসারস উই হ্যাড বিন এবল টু সেভ ওয়েস্ট পাকিস্তান ফ্রম দ্য ইমিডিয়েট গ্রেট অব ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রেশন অ্যান্ড ডমিনেশন। উই হ্যাড অলসো অ্যাভয়ডেড এ মেজর কনফ্রনটেশন উইথ দ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন।’

নিজের পিঠ নিজে চাপড়াতেই পারেন নিক্সন। তবে সে সময় প্রবল প্রতাপশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর তার বচনবাগিশ উপদেষ্টা যুগলকে ইন্দিরা যে ঘোল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশই নেই।

বাংলাদেশের প্রতি প্রণব মুখার্জি দুর্বলতা অপরিসীম, অনেকটা জ্যোতি বসুর মতোই। জ্যোতিবাবুর পৈতৃক বাড়ি ছিল বারদিতে, লোকনাথবাবার আশ্রমের পাশেই। সে অর্থে তিনি ছিলেন বাঙাল। প্রণববাবু আপাদমস্তক ঘটি, তাদের আদিবাড়ি নদিয়াতে। তবে বিবাহ সূত্রে তিনিও বাঙালদের জামাই। স্বাধীন বাংলাদেশ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতারা, পশ্চিমবঙ্গের এই দুই প্রবীণ নেতাকে বরাবর তাদের একান্ত আপনজন বলে মনে করে এসেছেন, প্রয়োজনে তাদের সাহায্যপ্রার্থীও হয়েছেন বারবার। প্রণব-পত্নীর মৃত্যুর খবর শুনে এই তো সেদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রোটেকলের তোয়াক্কা না করে অশ্রুসজল চোখে চলে এসেছিলেন দিল্লিতে।

প্রণববাবুর আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডের প্রথম পরিচ্ছেদটি মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের জন্মের কাহিনি নিয়েই। একেবারে দেশভাগের দিন থেকে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে খান সেনার আত্মসমর্পণ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন তিনি।

গোড়ার দিকে ইয়াহিয়া সম্পর্কে একই ধারণা ছিল হেনরি কিসিঞ্জারেরও। কিন্তু ১৯৭১-এর জুলাই মাসে ইসলামাবাদে পাক জঙ্গি শাসককে কাছ থেকে দেখার পরে তার সেই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। তার বদ্ধমূল ধারণা হয়, ইয়াহিয়া আসলে মস্ত বড় মূর্খ। ওয়াশিংটনে ফিরে এসে প্রেসিডেন্টকে কিসিঞ্জার সে কথা বার দুয়েক বলেও ছিলেন। কিন্তু তাতে চিড়ে ভেজেনি। নিক্সনের ধারণা তিনি বদলাতে পারেন নি এক ছটাকও।

কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর সম্পর্কে তার ধারণাটা ছিল ঠিক বিপরীত। দুজনেই দুজনকে রীতিমতো ঘৃণা করতেন। ভারতের বিদেশনীতি সোভিয়েত ঘেঁষা ছিল বলে এই বৈরিতা তৈরি হয়েছিল, তা নয়। আইসেনহাওয়ার কিংবা জন কেনেডিও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব ভালো চোখে দেখতেন না কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে এমন তিক্ততা ছিল না। তাহলে নিক্সনের ক্ষেত্রে এটা হয়েছিল কেন?

দুনিয়ার নানা বিষয়ে নিক্সন নিজেকে বিশেষজ্ঞ মনে করতেন, ভ্রমণও করতেন অনবরত। দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রথম দিকের সফরগুলোয় তিনি প্রথমে জওহরলাল নেহরু, পরে ইন্দিরা গান্ধীর কাছে তেমন পাত্তাই পান নি। অথচ পাকিস্তান গিয়ে তিনি সেখানে বারে বারে সেনাবাহিনীর উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছেন। এমন কী যখন তিনি ক্ষমতা হারিয়ে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন তখনও। ভারত কিংবা পাকিস্তান কোনো দেশেরই ইতিহাস বা সংস্কৃতি সম্পর্কে তার বিশেষ একটা ধ্যান-ধারণা ছিল না, তার যাবতীয় লেনদেন ছিল সরকারি স্তরে। এবং এখানেই পাকিস্তানিদের তুলনায় ভারতীয় নেতৃত্ব তার প্রতি আচরণে ছিলেন অনেক বেশি রূঢ়, যেটা নিক্সন কোনোদিন ভুলতে পারেন নি। তদুপরি বাংলাদেশে মুক্তিবাহিনীকে সমর্থনের কথা ইন্দিরা যেভাবে বারে বারে অস্বীকার করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখের ওপর অসত্য কথা বলেছিলেন সেটা নিক্সনের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়েছিল।

এই আলোচনার ঠিক ১০ দিন পরে ১৫ নভেম্বর বিকেলে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সুলতান খান ওভাল অফিসে আসেন নিক্সনের সঙ্গে দেখা করতে। কিসিঞ্জারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই গোপন আলোচনার দলিলে চোখ বোলালে বোঝা যায় পাকিস্তানকে আমেরিকার সদিচ্ছার কথা ভালো করে বোঝাতে তখন কতটা মরিয়া ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

১৯৭১-এর ২২ নভেম্বরই মার্কিন প্রশাসনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের চোরাগোপ্তা যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার দুদিন পরে ওভাল অফিসে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। নিক্সন ও কিসিঞ্জার ছাড়াও সেই বৈঠকে সেক্রেটারি অব স্টেটস রাজার্সও অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকের বিবরণী থেকে পরিষ্কার, এই পরিস্থিতিতে তাদের ঠিক কী করণীয় মার্কিন কর্তারা তা একবারেই ঠাওর করতে পারছিলেন না। তবে মোটামুটি এ ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছিল যে, প্রতীকী কিছু একটা করা ছাড়া আমেরিকার সামনে আর কোনো রাস্তাই খোলা নেই।

পূর্ব পাকিস্তানের পরিণতির চেয়েও ইয়াহিয়া খানের ভবিষ্যত্ কী হবে, তা নিয়েই দেখা যাচ্ছে ত্রি-মূর্তি অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিছু নমুনা পেশ করা যাক।

রাজার্স— দিন কে দিন পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে মনে হয় ইয়াহিয়াকে কিছু একটা করতেই হবে। অন্যথায় তাকে চলে যেতে হবে। আবার নিরুপায় হয়ে ইয়াহিয়া শেষ পর্যন্ত ভুট্টোর হাতেও ক্ষমতা তুলে দিতে পারেন। সেটা আমাদের পক্ষে সুসংবাদ হবে না।

নিক্সন— ভুট্টো?

রাজার্স— হ্যাঁ, ইয়াহিয়ার সে রকমই পরিকল্পনা আছে বলে মনে হচ্ছে। যদিও আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত নই। তবে এটা সত্যি কথা যে পূর্ব পাকিস্তানে ইয়াহিয়ার সামরিক শক্তি খুবই দুর্বল।

নিক্সন— ইয়েস হি উইল বি ডিমলিশড দেয়ার। দ্যাটস হোয়াই আই ওয়ান্ট ইউ টু লুক ইন টু হোয়াট উই কুড ডু দ্যাট ইজ সিম্বলিক, বিকজ আই থিঙ্ক উই নিড সাম সিম্বলিজম।

কিসিঞ্জার— পূর্ব পাকিস্তানে যে বিপ্লব শুরু হয়েছে তার একটাই পরিণতি হতে পারে, সেটা কী ভারত তা খুব ভালো করে জানে। ভারত চায় পাকিস্তানকে অনেকটা আফগানিস্তানের জায়গায় নিয়ে আসতে, যাতে এই অঞ্চলে তাদের প্রশ্নাতীত আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর পূর্ব পাকিস্তানকে তারা চায় ভুটানের মতো কিছু একটা বানাতে। পশ্চিম পাকিস্তান এতদিন পূর্ব পাকিস্তানকে অবহেলা করেছে, এবার ভারতও করবে। কেননা সেখানেই ওদের কায়েমি স্বার্থ।

নিক্সন— কেন?

কিসিঞ্জার— পূর্ব পাকিস্তানের তুলনায় যাতে পশ্চিমবঙ্গকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয়।

নিক্সন— ওয়েস্ট বেঙ্গল? ইট ইজ অলরেডি এ হরিবল প্লেস।

কিসিঞ্জার— তবুও...

নিক্সন— আসল সমস্যাটা হলো ভারত আর পাকিস্তান পরস্পরকে এতটাই ঘৃণা করে যে ওদের কাছ থেকে যুক্তিসংগত আচরণ প্রত্যাশা করাই যায় না।

রাজার্স— এক্কেবারে স্বামী আর স্ত্রীর মতো। শুধু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া। এমন কী বাচ্চা-কাচ্চাদের ভবিষ্যত্ নিয়েও তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। শুধু পরস্পরের প্রতি ঘৃণা।

নিক্সন— তবে ইয়াহিয়া সম্পর্কে আমার এতটা মনে হয়নি।

রাজার্স— সেটা আপনি ঠিকই বলছেন।

নিক্সন— কিন্তু তাই বলে ভুট্টো? এবার কী হবে? ভুট্টো লোকটা খুব বাজে।

রাজার্স— ঠিক। একেবারেই সুবিধের নয়। আগ মার্কা বামপন্থি।

নিক্সন— আচ্ছা! লোকটা বামপন্থি আমি জানি। কিন্তু কোন অর্থে? চীন-বিরোধী না আমেরিকা-বিরোধী?

কিসিঞ্জার— ভায়োলেন্টলি ই্যানিট ইন্ডিয়ান। প্রো চাইনিজ। ভুট্টো এলে অনেক ব্যাপারেই আমাদের সুবিধে হবে। আমাদের দায়বদ্ধতা সেক্ষেত্রে অনেক কমে যাবে। নেই মামার চেয়ে কানা মামা তো অবশ্যই ভালো।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৮
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫২
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন