সুন্দরবনে মুক্তিপণ আদায়ে জেলে জিম্মি থামছে না
১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং

এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের পরও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে থামছে না ডাকাতিসহ জেলে-জিম্মির ঘটনা। একের পর এক ডাকাতদল আত্মসমর্পণ ও মাঝে মাঝে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাতদের কয়েকজন নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। পুরনো কয়েকটি ডাকাতদল দমন হলেও আবির্ভাব ঘটছে নতুন দলের।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন মত্স্য ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে জেলে ও বাওয়ালি সম্প্রদায়ের অনেককে জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় মত্স্যসম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই অপতত্পরতা ইন্ধন দিচ্ছেন। সর্বশেষ সুন্দরবনের মরাপশুর ও আন্ধারিয়া এলাকা থেকে ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে শরিফ বাহিনী। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার সুন্দরবনের মরাপশুর, ভদ্রা ও ঝাপসি এলাকা থেকে আট জেলেকে অপহরণ করে দস্যুরা। তারা সবাই মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে মহাজন সূত্র জানায়, সমপ্রতি টোকেন ছাড়া সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে যাওয়ার কারণে দস্যু ‘ছোট ভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনার কয়রা গ্রামের জিয়াদ আলী, মাউবার গাজী, সুনীল মণ্ডল, অরবিন্দু মণ্ডলসহ কয়েকজন জেলেকে মারধর করে। এর আগে দস্যুদল ‘গরীবের বন্ধু বাহিনী’র সদস্যরা কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে। পরে জেলেদের পরিবারের সদস্যরা একজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে টাকা জমা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন। বন এলাকায় র্যাব-পুলিশের অভিযান তত্পর থাকলেও ভিন্ন কৌশলে মত্স্য শিকারের আড়ালে দস্যুতা অব্যাহত রেখেছে তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়রা ও দাকোপ উপজেলা সদরের বাসিন্দা দুই জেলে ও তাদের মহাজন বলেন, দস্যুদের টোকেন বিক্রি করে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী অনেক অর্থের মালিক হয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থে সুন্দরবনে নতুন দস্যু সৃষ্টি করছে। এই ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সুন্দরবনের খালে মাছ ধরার জন্য যেতে ভয় পায়।

মাছ ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মোল্যা ও নুর হোসেন বলেন, ‘সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরার জন্য তারা নিজস্ব জেলে পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুরা যখন ওই জেলেদের জিম্মি করে তখন তাদের ছাড়ানোর জন্য বাধ্য হয়ে দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।’ এদিকে, মোংলা ও শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দস্যুদের উত্পাত বেড়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের মরাপশুর ও আন্ধারিয়া এলাকা থেকে ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যু শরিফ বাহিনী। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ মে থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত ২৪ মাসে সুন্দরবনের ২৬টি বাহিনীর ২৭৪ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এসময় তারা ৪২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গুলি জমা দিয়েছে। র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৩৪ জন দস্যু নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মোংলার জেলে মহাজন কুদ্দুস মোল্লা, মহিদ শেখ ও মাওলা জানান, সুন্দরবনের ভিতরে মাছ ধরতে গেলে প্রায়ই দস্যুদের কবলে পড়তে হয় জেলেদের। মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে হবে। তারা বলেন, কোস্টগার্ডের কোনো টহল না থাকায় দস্যুদের উত্পাত বেড়েছে।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, জেলেদের অপহরণের কথা শুনেছি। দস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড সুন্দরবনে নানা ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। আশা করি, দ্রুত অপহূতদের উদ্ধার করা সক্ষম হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন