প্রবীরের ঘাতক পিন্টুর সেই ‘বড় ভাই’ ও বান্ধবী গ্রেফতার
১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং
প্রবীরের ঘাতক পিন্টুর সেই ‘বড় ভাই’ ও বান্ধবী গ্রেফতার
g  হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সোনা ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে  আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত রবিবার মধ্যরাতে শহরের আমলাপাড়া থেকে মামুন ও মাসদাইর থেকে রত্না চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ডিবি পুলিশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে মামুন মোল্লা ও রত্না চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এদের একজন প্রবীর হত্যায় প্ররোচনাকারী তৃতীয় পক্ষ এবং তাদের সহযোগী রত্না চক্রবর্তী। এরমধ্যে রত্না পিন্টুর গার্লফ্রেন্ড ও মামুন মোল্লা বড় ভাই হিসাবে পরিচিত।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রবীর ও পিন্টুর সাথে দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল রত্না চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে। আর এ সমস্যা সমাধান করে দেয়ার জন্য প্রবীর ও পিন্টুকে নিয়ে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন কথিত বড় ভাই মামুন মোল্লা। সে আমলাপাড়া এলাকার মৃত মহসিন মোল্লার ছেলে। সূত্রটি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রত্না জানিয়েছে প্রবীর ঘোষের আগেও ঠাণ্ডা মিয়ার বাড়িতে আরও একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখানে এক বছর আগে নিখোঁজ স্বপনকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে শীতলক্ষ্যা ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। রত্নার কাছ থেকে নিখোঁজ স্বপনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কথিত এই ‘বড় ভাই মামুন মোল্লাকে’ স্বপন সাহা অপহরণের ঘটনায় তার ভাই অজিত সাহা সদর মডেল থানায় দায়ের করেন। এ মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পিন্টু জানিয়েছিলেন কোন এক বড় ভাইয়ের প্ররোচনায় বন্ধু প্রবীরকে হত্যা করেছে সে। এরপর থেকেই বড় ভাইয়ের খোঁজে মাঠে নামে গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি। নিহত প্রবীর ঘোষ ও ঘাতক পিন্টু দেবনাথের সাথে সখ্যতা ছিল এই বড় ভাইয়ের। নিখোঁজের কয়েক মাস পূর্বেও পিন্টুর কাছ থেকে পাওনা অর্থ ও বন্ধকী স্বর্ণ বুঝে পেতে এই বড় ভাইয়ের সান্নিধ্যে গিয়েছিল প্রবীর। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পিন্টুর দোকানে এই বড় ভাইকে বসে আড্ডা দিতে দেখা যেত বলে জানায় স্থানীয়রা।

জানা যায়, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলায় গত শনিবার বিকেল পৌনে ৫ টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় ঘাতক পিন্টু। টানা পৌনে ৫ ঘন্টার জবানবন্দিতে পিন্টু তুলে ধরেন প্রবীর হত্যার আদ্যোপান্ত। মূলত অর্থ, বন্ধকী স্বর্ণালঙ্কার ও দোকান আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বন্ধু প্রবীরকে হত্যা করেছে বলে আদালতকে জানায় পিন্টু। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পিন্টুকে কু-প্ররোচনা দিয়েছিল স্বর্ণপট্টির এক বড় ভাই। যার প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়েই শেষ পর্যন্ত উপকারী বন্ধুকে হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করতেও দ্বিধা বোধ করেনি ঘাতক পিন্টু। এদিকে পিন্টুর জবানবন্দির পর থেকেই প্রবীর হত্যায় কু-প্ররোচনাকারী বড় ভাইয়ের সন্ধানে মাঠে নামে ডিবি। বড় ভাইকে গত কয়েকদিন ধরেই নজরদারীতে রেখেছিল জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। প্রবীর নিখোঁজের পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে আন্দোলন সংগ্রামেও অগ্রভাগে ছিল কথিত ‘বড় ভাই’।  শুধু তাই নয়, নিজেকে সন্দেহ থেকে দূরে রাখতে প্রবীর ও তার পরিবারের জন্য পুলিশের সামনে নাকি কান্নাও কেঁদেছিল সে। তবে পিন্টুর জবানবন্দির পর সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই সোমবার কথিত ‘বড় ভাই’ মামুন মোল্লাকে আটক করে গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রবীর হত্যার আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ জুন বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। তার সন্ধান দাবিতে ২১ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের লোকজন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছিল। এর মধ্যে নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছিল। এরই মাঝে গত সোমবার রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার ঠান্ডু মিয়ার ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের খণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়। নৃশংসভাবে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে সিমেন্টের ব্যাগে ভরে লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভবনের সেপটিক ট্যাংকে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন