কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে যাত্রী পরিবহনে নৈরাজ্য
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
 

সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষের শঙ্কা

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের যাতায়াতের ফলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যাত্রীসংখ্যা সম্প্রতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এসময় অধিক মুনাফার লোভে নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানি অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে পার্কিং করে যাত্রী পরিবহন করায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। এতে বিভিন্ন পরিবহনের বাস মালিক, শ্রমিক ও চালক সংগঠনের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

গত মঙ্গলবার উখিয়ায় একটি পক্ষ স্থানীয় সিএনজি চালকদের মারধর করে তাদের গাড়ি দিনভর আটকে রাখে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উখিয়া সিএনজি, সি-লাইন ও কক্সলাইন শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে অচল হয়ে পড়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও তা হয়নি। এঘটনায় যে কোনো সময়ে ফের সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষসহ পরিবহন খাতে নৈরাজ্যের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

উখিয়া সিএনজি চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মোকতার আহম্মদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উখিয়ার সিএনজিগুলো কক্সবাজার পেট্রোল পাম্প এলাকায় অবস্থান করে উখিয়ামুখী যাত্রী পরিবহন করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারস্থ একটি পরিবহন সংগঠনের সন্ত্রাসীরা ১৮-২০টি সিএনজি আটকে রেখে চালকদের মারধর করলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সূত্রপাত। এসময় উখিয়ার শত শত সিএনজি ও সি-লাইন, কক্সলাইন মালিক শ্রমিকসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উখিয়া খেলার মাঠ এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অচল হয়ে পড়ে। এসময় উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। পরে ভূমি কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামানের সাথে বৈঠক করে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উভয় পক্ষের  বৈঠক করে একটি স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। সিএনজি চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মোকতার আহম্মদ চৌধুরী গতকাল বুধবার যথাসময়ে উখিয়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ খায়রুজ্জামানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, কক্সবাজারস্থ স্পেশাল সার্ভিসের মালিক গ্রুপ কক্সবাজারের বৈঠক করার কথা বললে উখিয়াস্থ শ্রমিক সংগঠন তাদের কথায় সায় না দিয়ে বলেন, যেখানে ঘটনার সূত্রপাত সেখানে বৈঠক করতে হবে। ফলে পূর্ব-নির্ধারিত বৈঠক হয়নি।

সি-লাইন কক্সলাইন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া জানান, কক্সবাজারের স্পেশাল সার্ভিসের মালিক গ্রুপ তাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত যানবাহনগুলো অবৈধভাবে থাইংখালীতে স্থায়ী পার্কিং করে যাত্রী পরিবহনের চেষ্টায় লিপ্ত। তারা তাদের শ্রমিক দিয়ে উখিয়ার গাড়িগুলো দিনভর জিম্মি করে রেখে শ্রমিকদের মারধর করে।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামান জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের ছুটিতে আছেন। তিনি আসলে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে। এসময় পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো প্রকার জটিলাবস্থার সৃষ্টি না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন