স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে সেলিম মণ্ডল
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে সেলিম মণ্ডল
শহিদুল ইসলাম সুুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

স্ত্রীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে সাভার যুবলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম মণ্ডল। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম  বুধবার বিকালে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো:মহিউদ্দিন আহমেদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্ত্তীসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ আগস্ট জেলার সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের শরতপুর গ্রাম থেকে একটি  অজ্ঞাতনামা তরুণীর লাশ উদ্ধার করে সিংগাইর পুলিশ। লাশটির ৯০ শতাংশ পোড়া ছিল।

এ ব্যাপারে পুলিশ সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রথমে লাশের পরিচয় না পেয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। ১৯ আগস্ট নিহতের পরিবার আলামত দেখে লাশটি শনাক্ত করে। লাশের পরিচয় পেয়ে পুলিশ ১৯ আগস্ট সেলিম মণ্ডলের সাভারের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেদিন তাকে পাওয়া না গেলেও তার ভাই জুয়েল মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ। তাকে আয়েশা হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ইটালি পালানোর সময় গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মানিকগঞ্জ পুলিশের সহায়তায় অভিবাসন পুলিশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে সেলিম মণ্ডলকে। আটকের পরে তাকে সিংগাইর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্ত্রী আয়েশা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সেলিম মণ্ডলকে গত ৯ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানিশেষে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডের চতুর্থ দিনে সেলিম মণ্ডল মানিকগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সেলিম মণ্ডল আদালতকে জানায়, নিহত আয়েশা আক্তার বকুল  তার দ্বিতীয় স্ত্রী। অনেক দিন যাবতই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। হত্যার দিন রাতে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া  হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে সে স্ত্রীকে হত্যা করে। এরপর তাদের খাটের বিছানার চাদর দিয়ে লাশ মুড়িয়ে নিজের গাড়িতে করে সে কয়েকজন সহযোগীসহ সিংগাইরের বায়রা ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় যায়। সেখানে পেট্রোল দিয়ে লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে যায়।

সেলিম মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ ওঠার পর পরই তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা যায়, সেলিম মণ্ডলের  লোকজন সাভার-বিরুলিয়া মিরপুর সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। সেলিম মণ্ডল, তার ভাই মহসিন মণ্ডল ও জুয়েল মণ্ডলের নামে তিনটি শটগানের লাইসেন্স আছে। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁশব্দ করা সাহস পেত না। এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সেলিম মণ্ডল ও তার ভাইয়েরা এলাকার জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন