নারায়ণগঞ্জে তিনশ শয্যা হাসপাতালে বহির্বিভাগের টিকিট কালোবাজারে!
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। হাসপাতালের নানা সমস্যা আর দুর্ভোগের মধ্যে এবার নতুন করে যোগ হয়েছে বহির্বিভাগের টিকিট কালো বাজারে বিক্রি। স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তার সিন্ডিকেটে চলে এ কারবার। এতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের। আর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দাবি কিছু স্থানীয় লোকজন প্রভাব খাটিয়ে এ কাজটি করে যাচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু লোকজন হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করে। হাসপাতালের বর্হিবিভাগে সরেজমিনে ঘুরে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। টিকিট কাউন্টারের সামনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে লম্বা সারি। কাউন্টারের ভেতর থেকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে টিকিট। হাসপাতালটির বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার প্রশাসনিক শাখার কক্ষ নং-১৬/২ এর সাথে যুক্ত। কিছুক্ষণ পরপর সেই কক্ষে কয়েকজন প্রবেশ করছে এবং হাতে করে টিকিট নিয়ে বেরিয়ে আসছে। এই টিকিট বাইরে আগে থেকে কথা বলে রাখা রোগীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন অবস্থাতেও কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনেরা। ভুক্তভোগী এক রোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টা হইছে এই গেটের (প্রশাসনিক শাখার কক্ষ নং-১৬/২) সামনে দাঁড়াইয়া আছি। খুব বেশি দূর আগাইতে পারি নাই। কিন্তু আসার পর থেইকা দেখতাছি লোক ভিতরে ঢুকতাছে আর টিকিট নিয়া বাইর হইতাছে। আবার টাকা দিয়া বিক্রি করতাছে। এইগুলা দেখার কি কেউ নাই?’ 

এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত একজন নাম না বলার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এখানকার স্থানীয়। অনেকদিন ধরেই এই হাসপাতালে যাওয়া আসা করি। অনেকের সাথেই ভালো সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু আমরা টিকিট বিক্রি করি না। পরিচিত কেউ আসলে তখন টিকিট নিয়ে দেই। তারা খুশি হয়ে কিছু দেয়।’ ভেতর থেকে টিকিট নেওয়ার কথা স্বীকার করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল মোতালেব। তবে টিকিট বিক্রির কথা অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভিআইপিদের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। তবে তারা সরকারের উচ্চ পদের কর্মকর্তা অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হতে হবে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ প্রভাব খাটিয়ে ভেতর থেকে টিকিট নেয়। যদি তাদের টিকিট দেওয়া না হয় তবে বাইরে থেকে হুমকি-ধমকি দেয়।’ এইভাবে ঝুঁকি নিয়ে তো আর কাজ করা যায় না। কাউন্টারে যারা বসে তাদেরকে তো বাইরে যেতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকে টিকিট দিতে হয়। তবে টিকিট বিক্রির বিষয়ে আমরা জানি না।’ এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সবাইকে বলি দালালদের কাছে যাবেন না। রোগীরা যদি না যায় তাহলে দালালরা টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। তাদের টিকিট বিক্রির সুযোগ তো আমরাই তৈরি করে দিচ্ছি। আমরা যদি সচেতন হই তবেই এসব বন্ধ হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন