যে আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে
রমজানের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো এটি সহানুভূতির মাস এবং অসহায় সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি এই সহানুভূতি প্রকাশই ইবাদতের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। এই পবিত্র মাসে এই প্রজন্ম পিছিয়ে পড়া শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় রমজানের মূল্যবোধ ও ঈদের আনন্দ। এ ধরনের আয়োজনে এই ছিন্নমূল পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটে। এমনই কিছু গল্প নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। এটি সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও গ্রন্থনা করেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, সুমিত্র নাথ ও মালিহা মরিয়ম তিতলী
যে আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে
শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সম্ভাবনার পথে হাঁটছি এখন। এমনই সময়ে আবারও এসেছে মাহে রমজান। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালন করে এই মাস। সেই সঙ্গে পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রকাশের রীতি সমাজে স্পষ্ট হয়। বিগত বছরগুলোতেও আমরা দেখেছি সমমনা ছেলেমেয়েরা একত্রিত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সঙ্গে। কবির যে স্পৃহা ‘সকলের তরে সকলে আমরা’—এই বার্তাটাও যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই সংযমের মাসে। রমজানের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো এটি সহানুভূতির মাস। বিত্তবান-সচ্ছল রোজাদার মানুষ দুঃখী ও অভাবী মানুষের কষ্ট সহজেই বুঝতে সক্ষম হন। এভাবেই রোজাদাররা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে অপরের কষ্ট উপলব্ধির ফলে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা পান।ইসলাম ধর্মে নিকটজন, প্রতিবেশী ও অধীনদের প্রতি সবসময় দায়িত্বশীল সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে মানুষকে নির্দেশ ও উত্সাহ দেওয়া হয়েছে। রমজানে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে ওই রোজাদারের রোজার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। আর এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দু পরিমাণও কমবে না। এছাড়া রমজানে প্রতিটি দানে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সওয়াব। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানোর মতো বেশ কিছু উপলক্ষও রমজানে রয়েছে। যেমন সাধারণত জাকাত রমজানেই আদায় করা হয়। অন্য যেকোনো মাসের চেয়ে রমজানে জাকাত আদায় করলে সওয়াব বেশি পাওয়া যাবে। এছাড়া সদকাতুল ফিতর, সাধারণ দান সবই রমজানে বিশেষ সওয়াব লাভের উপায়।

রমজানের অন্যতম শিক্ষা অভাবী, দুঃখী ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা তো মাসব্যাপী রোজা রাখছি, রাখার চেষ্টা করছি; কিন্তু জীবনে যাদের প্রতিদিনই রোজা, তাদের দিকে কি চোখ ফিরে তাকানোর অনুভূতি অর্জন করেছি? এই এক মাস এবং এ মাসটির পর বাকি এগারো মাস আমাদের প্রত্যেক রোজাদার যদি রমজানের সহমর্মিতার সবক ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাঠ কাজে লাগাই, তাহলে পুন্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির দ্যুতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আমাদের সমাজ। রমজানের এই শিক্ষাটুকু ধারণ করলে আমাদের সমাজ আর পিছিয়ে থাকবে না। এই সমাজে কাউকে না খেয়ে উপোস থাকতে হবে না। আমাদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করলে সমাজের দারিদ্র্যও অনেকাংশে কমে যাবে।

ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর মুখে যদি একটু হাসি ফুটাতে না পারি তাহলে আমরা নিজের বিবেকের কাছে কী জবাব দিব? তাই আসুন নিজের মানবিক মূল্যবোধ আর সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে তাকিয়ে সবাই যার যার সামর্থ্যানুযায়ী এই মানুষের পাশে দাঁড়াই। সরকারের দিকে তাকিয়ে থেকে বা সরকারের কাঁধে দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে আপনি আমি দায়মুক্তি পাব না, কেননা এটা সার্বজনীন ব্যাপার, যা কোনো সরকারের পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়।

রমজানের পরেই আসছে ঈদ। অনেকের এখনই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। অথচ আমাদের চারপাশেই অনেক মানুষ আছে যারা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত। তাদের ভাগ্যে নতুন জামা রূপকথার এক গল্প। নতুন জামার সন্ধানে ব্যস্ত এক অসহায় শিশু ঈদের আগের দিনও সে ভাববে কেউ হয়তো আশীর্বাদ হয়ে তাকে একটা নতুন জামা দিতে আসবে। তখন সে ভাবতে থাকে নতুন জামা পেলে কীভাবে খুশিতে উল্লাস করবে আর সবাইকে তার নতুন জামা দেখাবে। কিন্তু তার যে সেই ভাবনাকে কেবল ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কেউই তাকে আর সেই নতুন জামা দিতে আর আসে না! পিতা-মাতা থাকলেও সে চাইতে পারে না, কারণ সে জানে যে, তাদের দু-বেলা খাবার জোটানোই কঠিন। এর মধ্যে আবার নতুন কাপড়! বাংলাদেশের মানুষ লড়তে জানে, বাঁচতে জানে এবং বাঁচাতে জানে তাই সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে এত ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে রমজান ও ঈদের খুশিতে তাদের মুখে হাসি ফুটানো অসম্ভব কিছু নয়।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন