চলো ইফতারটা ভাগ করি সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে
২৯ মে, ২০১৭ ইং
চলো ইফতারটা ভাগ করি সুবিধাবঞ্চিতদের সঙ্গে
সুবিধাবঞ্চিতদের দুয়ারে ইফতার ব্যাগ নিয়ে অভিযাত্রিক দল

মাত্র ৪ জন সদস্য নিয়ে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে ৩২টি জেলায় ২৫০০ বেশি ভলান্টিয়ার কাজ করছে। প্রতিবছর রমজানে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের নানা উদ্যোগ থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও কাজ করছে সংগঠনটি। এবারের লক্ষ্য ২ হাজার পরিবারকে ইফতার ব্যাগ উপহার দেওয়া। প্রতিটি ব্যাগে ২ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, বেসন, চিনি, তেল, খেজুর, সেমাই, দুধ, মুড়ি, চিরা ইত্যাদি আইটেম থাকে যেন ৩ জনের পরিবার অন্তত ১৫ দিন ইফতার করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ঢাকার ২০টি পয়েন্টে ‘জয় অব গিভিং’ নামে একটি ইভেন্ট করা হয়। ২১ মে ঢাকার ২০টি পয়েন্টে প্রায় ১০০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এই ইভেন্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে একটি ক্যালেন্ডার বিক্রয়ের মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করা হয়। রাস্তায় সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালে স্বেচ্ছাসেবক সেখানে কথা বলে ফান্ড সংগ্রহ করে।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি জানান, এই উদ্যোগে আসার চিন্তা শুরু হয় ২০১৬ সালে, তখন ইভেন্টটির নাম দেওয়া হয় ‘জয় অব গিভিং’। গতবছর ঢাকার ১১টি পয়েন্টে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৩৫০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। এ বছরের ইভেন্টে ১ হাজার ভলান্টিয়ার মিরপুর, বনানি, কাকলি, ধানমণ্ডি, গুলশান, বারিধারা, নিলখেত, উত্তরাসহ ঢাকার ২০টি পয়েন্টে কাজ করে। অনেকেই রমজানে কিছু বাচ্চাদের ইফতার করায়, কিন্তু দেখা যায় রোজা রাখেন তাদের বাবা-মা, তারা ঠিকই কষ্ট করে ইফতার করে যাচ্ছেন। সেই চিন্তা থেকে সবাইকে ইফতারের কাঁচামাল উপহার দেয়া হয় যেন পরিবারের সবাই কিছুদিন অন্তত একসঙ্গে ইফতার করতে পারে। এ বছর ১০ রোজার মধ্যে ঢাকা, সুনাম গঞ্জের হাওর এলাকায়, বরিশাল, রংপুর অঞ্চলে ইফতার ব্যাগ বিতরণ করবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের।

কমলাপুর রেলস্টেশনে ‘ওদের জন্য আমরা’র ইফতার আয়োজন

কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবি মিলে গড়ে তুলেছে ‘ওদের জন্য আমরা’ সংগঠনটি। নিজেদের মধ্যে থেকেই ফান্ড সংগ্রহ করে প্রতিবছর রমজানে ইফতার ও ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নতুন পোশাক এবং খাবারের আয়োজন করে। প্রতিবছরেই কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়েই এই আয়োজন করে সংগঠনটি। প্রতিবছরের মতো এবারও কমলাপুর রেলস্টেশনে রমজানে ইফতার ও ঈদে আয়োজন করবে তারা।

২০১১ সালের রমজানের ঈদের কিছুদিন আগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ডকুমেন্টরি বানাতে গিয়ে তাদের মুখে ঈদের দিনের কষ্টের কথা শুনে কয়েকজন মিলেই শুরু করে এই কার্যক্রম। আর এই কার্যক্রম নিয়েই ভবিষ্যতেও কাজ করতে চায় সংগঠনের সদস্যরা। এবারের রমজানে ইফতারির পাশাপাশি ঈদে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য সকালে সেমাই, মিষ্টান্ন, বিরিয়ানি আর নতুন পোশাক বিতরণ করা ছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত এ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ঈদের দিনকে আনন্দময় করে তোলাই সংগঠনটির উদ্দেশ্য।

‘ওদের জন্য আমরা’ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুরুতেই ওদের জন্য আমরা নামে একটি ফেসবুকে গ্রুপখোলা হয়। এই গ্রুপের সদস্যরা নিজের ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং সব মিলিয়ে এই শিশুদের জন্য কেনাকাটা করে। খুব বড় পরিসরে করতে না পারলেও মাঝে মাঝে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও কাজ করার কথা বলেন ‘ওদের জন্য আমরা’ সংগঠনের সদস্য সুবীর সেন। ‘নিজেদের পরিবারের বাইরে গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদ পালন করতে ভিন্নধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। শহরের মানুষ ঈদ করতে বাড়ি যায়, স্টেশন খালি হয়ে পড়ে। স্টেশনের টুকিটাকি কাজ করে আয়-রোজগার হয়, তা দিয়েই চলে যায় এ শিশুদের। কিন্তু ঈদে কোনো আয়-রোজগার থাকে না। আর তাই ঈদে সবার মতো ওদের নতুন জামা পাওয়া হয় না। খেয়ে না খেয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্টেশনে। এমন কথাগুলো যখন শুনি, তখন নিজেরাই এই উদ্যোগ নিই।’ আর ভবিষ্যতেও সবাই মিলে এই কার্যক্রম চালিয়ে নেবেন বলে জানান সংগঠনটির এই সদস্য।

প্রতিদিনই পথশিশুদের সঙ্গে তড়িত্-এর ইফতার

২০১১ সালে স্বপ্নবাজ এক তরুণের হাত ধরে গঠিত হয় শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন। যার প্রতিষ্ঠাতা মেডিক্যালে অধ্যয়নরত এক তরুণ মুঈদ হাসান তড়িত্। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিশু অধিকার, শিশু নির্যাতন, পথশিশুর পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন শিশু অধিকার ভিত্তিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন। এর পাশাপাশি পথশিশুদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্কুল পরিচালনা করছে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন। তাছাড়া ছিন্নমূল শিশুদের বিভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস পরিশ্রম করছে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের সকল মেম্বার ও স্বেচ্ছাসেবক। এর পাশাপাশি ২০১১ সালে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর রমজানে ছিন্নমূল শিশু ও অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই রমজানেও শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন প্রতিদিন ২০০ জন করে মোট ৬০০০ মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করবে। এতিমখানার শিশু, মাদ্রাসা, অসহায় মানুষ, খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের ইফতারের আয়োজন করা হবে এবারেও। এছাড়াও প্রতি বছরের মত এবারও শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫০০ ছিন্নমূল শিশুকে ঈদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুঈদ হাসান তড়িত্ বলেন, ‘এবার ঢাকা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, শেরপুর, বগুড়া, বরিশাল ও রাজবাড়ি—এই ৭টি জেলায় ঈদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে পাশাপাশি রমজানজুড়ে ইফতার করানো হবে। এছাড়া ১০০টি পরিবারকে ঈদের বাজার করে দেওয়া হবে। প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হবে পুরো আয়োজনে। তবে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের সকল মেম্বার মিলিয়ে এত বড় আয়োজনের আর্থিক যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। আমি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা আশা করছি।’

স্বপ্নের পৃথিবী গড়তে ‘স্বপ্নের বাক্স’

পাবনা জেলা ভিত্তিক একটি সামাজিক সংগঠন স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ আল কাবির ও তার বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করার। ঠিক হয় সকল সদস্য নিজেদের হাত খরচের টাকা থেকে প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে জমিয়ে এই শিশুদের কল্যাণে খরচ করবে। সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সদস্য সংগ্রহের কাজ। ২৫ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন। শুরুর দিকে সদস্যদের মাসিক ডোনেশন ছিল সংগঠনের আয়ের উত্স। শুরুতেই ৬ মাসের সংরক্ষিত টাকা দিয়ে ২০১৪ সালের ঈদ উল ফিতরে ৬০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন জামা ও খাবার সামগ্রী বিতরণ করে। এরপর নানা উত্স থেকে আর্থিক অনুদান নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। এই রমজানের ২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন জামা ও খাবার সামগ্রী বিতরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্বপ্নের বাক্স। গত বছর ১১০ জন শিশুদের নতুন জামা ও খাবার সামগ্রী দেওয়া হয়। স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন পাবনা জেলা ভিত্তিক সংগঠন, তাই সকল কর্মসূচি পাবনা জেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে জেলার বাইরেও স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন কাজ করবে। সংগঠনের সদস্য আয়েশা রহমান দোলা বলেন, ‘সবাই যদি নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসে তাহলে আমরা ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে পারব। স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন ৩০ জন বাচ্চার পড়ালেখা ও যাবতীয় খরচ বহন করে থাকে। স্বপ্নের বাক্স ফাউন্ডেশন একটি স্বপ্নের পৃথিবীর সন্ধানে কাজ করছে।’

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন