অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনি নিয়ে এবছরেও অ্যাকশনিয়াররা
মালিহা মরিয়ম তিতলী২৯ মে, ২০১৭ ইং
অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনি নিয়ে এবছরেও অ্যাকশনিয়াররা
আমাদের চারপাশে আছে অনেক অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল শিশু। প্রতিবছরই ঈদ কিংবা রোজায় দেখা যায় এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে কিছু সংগঠন এবং কিছু মানুষ। শিশুগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে বিতরণ করে ঈদের নতুন পোশাক, কেউ আবার শিশুদের ইফতার খাওয়ান। এছাড়া অনেকেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মেহেদি উত্সবের মতো নানা আয়োজনও করে থাকে। এমনই একটি সংগঠন কমিউনিটি অ্যাকশন। প্রতি বছরের নেয় এ বছরও সংগঠনটি রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করছে তাদের স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রম অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনি, অ্যাকশন মেহেদি ম্যাজিক ও ঈদ ফর এভরিওয়ান।

নাবিলা, সোহাইলা, তাশফিয়াসহ মোট সাতজন বান্ধবীর প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল কমিউনিটি অ্যাকশনের। ২০০৯ সাল থেকে সংগঠনটি অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনির কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিবছর রোজা শুরু পূর্বেই এই কার্যক্রম দ্বারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করার জন্য সংগঠনটি নির্ধারণ করে বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকায় অ্যাকশন টিম গঠনের মধ্য দিয়ে ফান্ড সংগ্রহ, খাবার কেনা, ইফতার প্যাক করা, বিতরণের স্থান ঠিক করা, ইফতার বিতরণের কাজগুলো করা হয়। সদস্যরা প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন হতে এই কাজের অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে আনন্দ ছড়াতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসেন। গতবছর অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনি প্রজেক্টের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেইলীরোড, খিলগাঁও, শ্যামলী, ধানমণ্ডি এবং মিরপুর মিলিয়ে ১৮০০ জনের বেশি সংখ্যক ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন ৬১ জন সদস্য। এই বছর বড় পরিসরে দশটি এলাকা নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। 

অ্যাকশন পেঁয়াজু-বেগুনি ছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের জন্য কমিউনিটি অ্যাকশনের আরও দুটি আয়োজনের মধ্যে একটি হলো অ্যাকশন মেহেদি ম্যাজিক। এর মাধ্যমে আগ্রহী অ্যাকশনিয়াররা বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে পথশিশুদের ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতে হাতে মেহেদি পরিয়ে দেয়। হাতে মেহেদি পড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা ও কিছু উপহার দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আরেকটি অ্যাকশন হচ্ছে ঈদ ফর এভরিওয়ান। এখানে কিছু অ্যাকশনিয়ার নির্ধারিত কোন এতিমখানা অথবা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিনব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে আনন্দে মেতে উঠেন।

নয় বছর বয়সী কমিউনিটি অ্যাকশন এ পর্যন্ত স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদি অসংখ্য কাজে অংশ নিয়েছে। এইসব কাজ গুলোকে শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক দুই ভাগে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন সদস্যরা। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আর্থিক সহায়তা দিতে অ্যাকশন স্টেপ আপ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকশন গার্ডিয়ান ইন দ্য ডার্ক এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কর্মশালা ও লাইব্রেরির সহায়তা দিতে অ্যাকশন লাইট আপ। এছাড়া উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে রয়েছে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অ্যাকশন উষ্ণতা, অ্যাকশন জলধারা ইত্যাদি। আইলা বিধ্বস্ত এলাকায় মানুষকে বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি সরবারহের জন্য কমিউনিটি অ্যাকশন ৮০টি টিউবওয়েল স্থাপন করে। এই কাজের মাধ্যমে ২০১৪ সালে রিও+২০ সামিটে জাতিসংঘের পুরস্কার অর্জন করে। বর্তমানে সংগঠনটিতে অ্যাকশনিয়ারের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। এদের মধ্যে প্রায় সবই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কমিউনিটি অ্যাকশন বিশ্বাস করে ছিন্নমূল মানুষের জন্য ছোট ছোট সেবামূলক কাজে নিজেকে জড়িত রেখে অ্যাকশনিয়াররা প্রমাণ করে তাদের ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্য। তরুণদের মাঝে এমন মন-মানসিকতা ভবিষ্যতের এক যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে মিলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে বলে আশা করে কমিউনিটি অ্যাকশন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন