কর্মস্পৃহা ও পরিশ্রমে ভিন্ন উদ্যোগ
কর্মস্পৃহা ও পরিশ্রমে ভিন্ন উদ্যোগ
মোহাম্মদ আলী একসময় ব্যবসায়ী ছিলেন না, তিনি গার্মেন্ট সেক্টরে চাকরি করতেন। গার্মেন্ট সেক্টরের প্রতি তার বরাবরেরই ভালোলাগা ছিল, কিন্তু সবসময় চাইতেন নিজের উদ্যোগে কিছু করার, যা কিনা ব্যতিক্রমও হতে হবে। তার বাবাও চাইতেন, ছেলে চাকরি ছেড়ে ব্যবসার উদ্যোগ নিক। নিজের ইচ্ছা ও বাবার প্রেরণা থেকেই একসময় তিনি খুলে বসলেন মহিলাদের পোশাকসামগ্রীর দোকান ‘নানারঙের মেলা’। বসুন্ধরা সিটিতে একসময়কার সেই দোকান থেকেই তার ব্যবসায় আসা। মহিলাদের থ্রি-পিস থেকে শুরু করে বিছানার চাদরসহ ২০-২৫ ধরনের কাপড় বিক্রি করতেন। প্রাথমিক অবস্থায় সাফল্য পেয়ে ব্যবসায় মজে যান। তখন থেকেই আরও বড় ও ভিন্ন কিছু করবার কথা ভাবতে থাকেন। এমন করে পরবর্তীতে ইরানী বোরকা বাজারের শুরু। ফ্যাশনেবল বোরকার জগতে পরিচিত নাম ইরানী বোরকা বাজার। নিজের কর্মস্পৃহা ও পরিশ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন মোহাম্মদ আলী। ঢাকায় এবং দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর মিলিয়ে ইরানী বোরকা বাজারের এখন ২৬টি আউটলেট। ২০০৮ সালে ইরানী বোরকা বাজারের প্রথম আউটলেট চালু হয়। ঢাকায় বসুন্ধরা সিটিতে এখন প্রতিষ্ঠানটির ৭টি শো-রুম। এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরা মার্কেট প্লাজা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও আউটলেট আছে। 

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একসময় বাজারে কেবল সাধারণ ডিজাইনের বোরকা পাওয়া যেত। আমরাই প্রথম বোরকায় নান্দনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আসি। ধীরে ধীরে এটা প্রচলন শুরু হয় যে, অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি বোরকাও ফ্যাশনেবল ড্রেস। মহিলাদের রক্ষণশীল পোশাকের পাশাপাশি এটা একইসঙ্গে পার্টি কিংবা কর্মক্ষেত্রে পড়ারও উপযুক্ত। মোহাম্মদ আলী জানান, তারা ভালো মানের পণ্য তৈরি করার জন্য বেছে বেছে সেরা কাঁচামাল জোগাড় করেন। ক্রেতারাও এর মূল্যায়ন করেন। প্রতিমাসে প্রায় চার হাজার পিস বোরকা তারা নিজস্বভাবে তৈরি করছেন। এর পাশাপাশি বাইরে থেকেও নানারকম বোরকা, ওড়না, হিজাব আমদানি করেন।

শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে ইরানী বোরকা বাজারকে। মোহাম্মদ আলী তার নিজের জমানো টাকা ও বাবার সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলেও ব্যাংক লোন নিতে সমস্যায় পড়তে হতো। বোরকার ব্যবসা তেমন লাভজনক না ভেবে ব্যাংক লোন দিতে চাইত না। পরবর্তীতে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন তারা।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ব্যবসায় সাফল্য পেতে হলে লেগে থাকতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা, ইরানী বোরকা বাজারের প্রসার আরও বৃদ্ধি করা ও সুযোগ পেলে নিজেদের তৈরি বোরকা বিদেশে রপ্তানি করা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন