লাইক এবং আমরা
০৭ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
লাইক এবং আমরা
জেনিফার আলম

প্রেসিডেন্ট, ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ)

ফেসবুক এখন আমাদের জীবনে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ আমরা এটিকে ব্যবহার করছি আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। তবে লাইক গুনে খুশি হওয়ার নেশা আমাদেরকে করে তুলছে ভয়ংকর।

লাইকের জন্য আমরা করছি না এমন কিছুই নেই। অনেকেই খুব দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার জন্য এবং বেশি লাইকের আশায় ফেসবুকে নগ্ন হচ্ছেন। স্বল্প কাপড়ে উপস্থিতি থেকে শুরু করে লাইভে এসে নানা রকম অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি পর্যন্ত বিস্তৃত এই লাইকের নেশা।

ফেসবুকের মাধ্যমে সেলিব্রেটি হয়েছেন, হয়েছেন অনেক মোটিভেশনাল স্পিকার। এই লাইক ও আবেগকে পুঁজি করে অনেকে ইনবক্সে করছেন নানা ধরনের সম্পর্ক ও প্রতারণা। ফেসবুকে অ্যাবিউস হয়েও শুধু লাইকের প্রভাবের কাছে হেরে যাবেন বলে মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন এমন ভুক্তভোগী কম নেই। আমি হাজারো খারাপের উদাহরণ দিতে পারি। যেমন এ সময়ের নামী পীর এএইচপি টিভির সিইও আহসান হাবীব পিয়ারের ঘটনা দেখুন। ভাবুন আমাদের নামকরা সেলিব্রেটিদের ভিডিও স্ক্যান্ডালের ঘটনা, ভাবুন জুনায়েদের কথা, উত্তরায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং।

লাইক পাওয়ার জন্য করা হচ্ছে নানা রকম প্রাঙ্ক ভিডিও। ছেলেমেয়েরা নিজেদের ব্যক্তিত্বের প্রতি লক্ষ না রেখে গা ভাসাচ্ছেন লাইকের জোয়ারে। ফলোয়ার আর লাইকই হয়ে যাচ্ছে আনন্দের মাপকাঠি।

ঘটনা হাজারো কিন্তু তার পিছে রয়েছে সোশ্যাল সাইটসে লাইক পাওয়া বা ক্ষমতা অর্জন। এই লাইককে পুঁজি করে হচ্ছে, প্রতিশোধ/প্রতিহিংসার মানসিকতায় ব্যক্তিগত ছবি ছেড়ে দেওয়া। ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন ও নোংরামি।

লাইকের আশায় হয়েছে শত শত আনসেন্সরড গ্রুপ। যারা নোংরামিকে পুঁঁজি করে ফেমাস হওয়ার রাস্তা খুঁজে নিচ্ছেন, এবং এই ক্লোজড ও সিক্রেট গ্রুপগুলোতে চলে নানা রকম বিকৃত রুচি ও মানসিকতার চর্চা। এই গ্রুপগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ছবি বা ঘটনা ব্যবহার করে ভাইরাল করার জন্য। ধর্ষক হওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানই যেন এই গ্রুপগুলোর লক্ষ্য।

শুধু লাইক ভিক্ষা করতে যেয়ে ধর্ম বা অসুস্থ কিছু মানুষের ছবিকে পুঁজি করতেও পিছ-পা হচ্ছে না অনেকে। ‘আমিন না লেখে যাবেন না’ মূলক পোস্ট থেকে শুরু করে, ‘এক লাইক এক দোয়া’ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। সবই লাইকের আশায়।

অনুরোধ জানাচ্ছি, সোশ্যাল সাইটে ব্যক্তিগত ছবি দিবেন না, শুধু একজন ফেবু সেলিব্রেটি চেয়েছেন বলে। সম্পর্ককে সম্মান করুন। লাইকের উপর গড়ে ওঠা আসসেন্সরড গ্রুপগুলো পরিহার করুন। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য যারা নগ্নতাকে পুঁজি করে এবং লাইকের আশায় নোংরাভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, তাদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

লাইক ও শেয়ারকে আমরা চাইলে ব্যবহার করতে পারি খারাপ কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। আমরা একে ব্যবহার করতে পারি জনসচেতনতামূলক কাজে।

আমরা লাইক পাওয়ার নেশাকে যত দ্রুত ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারব, সকলের মধ্যে তত দ্রুত মানবিক দিকগুলো আরও বিকশিত হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৭ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০০
সূর্যোদয় - ৫:৩০সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
পড়ুন