দু’চাকায় ঘুরে দেখা পুরো দেশ
সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
দু’চাকায় ঘুরে দেখা পুরো দেশ

ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি ঝোঁক সিফাত ফাহমিদা ইতির। ঠাকুরগাঁওয়ের এই তরুণী যখন ক্লাস থ্রি কিংবা ফোরে পড়েন, তখনই শিখে ফেলেন সাইকেল চালানো। প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলে যেতেন এদিক ওদিক। সাইকেল চালাতে চালাতে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুর বেড়াতে চলে গেছেন সেই ছোটবেলাতেই। এভাবেই ধীরে ধীরে তার মধ্যে তৈরি হয় ভ্রমণের নেশা।

অনার্সে পড়ার সময় ২০০৮ সালে একবার একটি পত্রিকায় নারী দিবসের সাইকেল র্যালি আয়োজনের খবর দেখেন ইতি। তারপর ঢাকায় আসেন সেই র্যালিতে যোগ দিতে। এটাই ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম সাইক্লিং। সেবার অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১১ সাল থেকে সাইকেলে চড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন তিনি। বিচ্ছিন্নভাবে ঘুরেছেন প্রায় সবক’টি জেলা। একবার একসঙ্গে ৪০টি জেলা ভ্রমণ করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন ও সহযোগিতা পেয়েছেন। আর ভ্রমণ বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে এবারের পূজার ছুটিতে পুরো দেশ ঘোরার লক্ষ্য নিয়েই বের হন। ইতির সঙ্গী ছিলেন রবিউল হাসান খান ও মাহফুজুর রহমান।

এবার সিফাত ফাহমিদা ইতি সাইকেলে চড়ে ঘুরেছেন পুরো দেশ। প্রায় তিন সপ্তাহের সাইকেল ভ্রমণে ঘুরে এসেছেন দেশের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। তবে শুধু সাইক্লিং নয়, ভ্রমণপিয়াসু এই তরুণী পর্বতারোহণ ও সাঁতারেও পারদর্শী সমানভাবে। ইচ্ছা ও উদ্যম তার শক্তি। পরিবারের সবার সহযোগিতা ও উত্সাহ থেকেই পান অনুপ্রেরণা।

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ গেছেন ৯ দিনে। ৬ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ভোমরা থেকে তামাবিলের পথ। আখাউড়া থেকে বেনাপোল গেছেন ৩ দিনে। আর গোবরাকুড়া, হালুয়াঘাট থেকে কুয়াকাটা যান ৩ দিনে। এটিই ছিল ইতির প্রথম ‘ক্রস কান্ট্রি ট্রিপ’। 

ইতি বলেন, ‘অন্যান্যবারের চেয়ে এবারের ভ্রমণ অনেক কঠিন ছিল। অল্প সময়ে অনেক বেশি জায়গা ঘুরতে হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রচণ্ড খারাপ রাস্তাতেও সাইকেল চালিয়েছেন তারা, এমনকি রাতেও থেমে থাকেননি। এরমধ্যে বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়েছে। তবে তিনি একটা ব্যাপারে খুব আশাবাদী যে, দেশে সাইক্লিস্টদের সংখ্যা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকাতেই সাইক্লিস্ট কমিউনিটি গড়ে উঠেছে, যারা অন্যদেরকে সহযোগিতা করছেন। যেমন, ইতিরা সাইকেলে চড়ে রাত ১২টায় বরিশালে পৌঁছান। সেখানকার সাইক্লিস্টরা এত রাতেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।’ 

ইতি বলেন, ‘দৈনন্দিন জীবনে সহজে চলাফেরার জন্য চমত্কার বাহন সাইকেল। ঢাকা শহরে অনেকেই এখন সাইকেলে চড়ে অফিস করেন। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি যানজট জমাতে সহায়ক। এখন অনেক মেয়েই সাইকেল চালান। কিন্তু মেয়েদের পরিবারে এখনো বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয় না, ফলে অনেককে পরিবারে না জানিয়ে সাইকেল চালাতে হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’

তবে শুধু সাইক্লিং নয়, ইতি পাহাড়ে যেতেও ভালোবাসেন। বেশকিছু দিন আগে মুসা ইব্রাহিমের আয়োজন করা ইভেন্ট ট্রায়াথনে ভালো করে তিনি পর্বতারোহণে যাওয়ার সুযোগ পান। নেপালের চুলু ইস্ট, রাশিয়ার এলব্রুস অভিযান করেছেন। ভবিষ্যতে কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ আরও অনেক শৃঙ্গ ছুঁতে চান তিনি। পাশাপাশি আরও একটা স্বপ্ন মনে লালন করেন, সাঁতরে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা তার। উদ্যমী এই তরুণী নিশ্চয়ই তা পারবেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পড়ুন