ফরমালিনমুক্ত করতে কার্বন গ্রিন
সুমিত্র নাথ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফরমালিনমুক্ত করতে কার্বন গ্রিন

আজকাল শাকসবজি, মাছ-মাংস, ফলমূলসহ বিভিন্ন খাবারের পচন রোধে অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে ফরমালিন। এ নিয়ে আতঙ্কের কথা সবারই মোটামুটি জানা। দেশে অতিরিক্ত মাত্রায় ফরমালিনের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। আর এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ নিজেই ঘরে বসেই খাদ্যকে ফরমালিনমুক্ত করার জন্য নানা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। সহজলভ্য ও কম দামে পাওয়া যায় বলেই আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি ফরমালিন ও ফরমালিন মিশ্রিত বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ ও বিক্রি করছে।  বাজারের পাওয়া যায় এমন দেশি মৌসুমি ফলমূল ও বিদেশি ফলের প্রায় বেশিরভাগই ফরমালিন মেশানো। অতিমাত্রায় ফরমালিনযুক্ত খাবার গ্রহণে নানাধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ফরমালিনযুক্ত ফলমূল ও খাবার গ্রহণের ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়; হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, আ্যাাজমা রোগের উপদ্রব হয়। এমনকি ফুসফুস, শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। ফরমালিনযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে পাকস্থলী, অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ এমনকি ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে। ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনায় এডিমা সৃষ্টির মাধ্যমে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি ও বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।   শক্তিরঞ্জন পাল সিঙ্গাপুরের ব্যাংকক হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সেখানে কাজ করছেন প্রায় ১২ বছর। ব্যাংকক শহরের নিউ পিসবুড়ি স্ট্রিটে অবস্থান এই হাসপাতালটির। ব্যাংকক হাসপাতালের একমাত্র বাংলাদেশি এই চিকিত্সক বেশ কয়েকবছর ধরে গবেষণা চালিয়ে উদ্ভাবন করেছেন খাদ্য ফরমালিন ও কীটনাশকমুক্ত করার বিশেষ উপায়। বাজারের ফলমূল, শাকসবজি এবং মাছের গায়ে লেগে থাকা কীটনাশক, ফরমালিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক দূর করা জন্য ‘কার্বন গ্রিন’ নামক প্রতিষেধক উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশি এই চিকিত্সক। 

শক্তিরঞ্জন পাল জানান, কার্বন গ্রিনে ক্ষতিকারক কোনো রাসায়নিক নেই। এটি ব্যবহারের ফলে ফলমূল, শাকসবজি ও মাছের গায়ে লেগে থাকা কীটনাশক, ফরমালিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দূর হবে। গরম পানিতে ভিজিয়ে অথবা নানাভাবে ফরমালিনমুক্ত করার চেষ্টা করেন অনেকেই, তবে সেক্ষেত্রে ৫০-৫৫ ভাগ পর্যন্ত ফরমালিন মুক্ত করা যায়। এ ক্ষেত্রে কার্বন গ্রিন কাজ করবে প্রায় ৯০ ভাগ। দশ লিটার পানিতে ৮ গ্রামের একটি ছোট প্যাকেট কার্বন গ্রিন মিশিয়ে নিয়ে ১০ কেজি ফলমূল, শাকসবজি ১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার পানিতে ধুয়েই ফরমালিন, কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত করা যাবে। এসজিএস, এনআইএফ, ওএমআইসি এবং কেসেটটস্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বিএসটিআই থেকে পরীক্ষিত ও অনুমোদন প্রাপ্ত এই কার্বন গ্রিন স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। থাইল্যান্ডে তৈরি হলেও এই কার্বন গ্রিন পাওয়া যাবে দেশের প্রায় সব জায়গায়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পড়ুন