ইচ্ছে ডানায় উড়বে ওরা
৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ইচ্ছে ডানায় উড়বে ওরা

প্রত্যন্ত

গ্রামের ৫ কিশোরীর

আঁকা পোস্টারের গল্প

গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার ইএমকে সেন্টারে কেয়ার বাংলাদেশের টিপিং পয়েন্ট প্রকল্প আয়োজিত ‘ইচ্ছে ডানা’ শিরোনামের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগী সংস্থা জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থার (জেছিস) তত্ত্ব্বাবধানে জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার স্কুল ও কলেজপড়ুয়া প্রত্যন্ত গ্রামের পাঁচজন কিশোরীকে ঢাকায় এনে তাদের পছন্দের থিমের উপর ভিত্তি করে আঁকা পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। ছবি আঁকার জন্য এরা প্রত্যেকেই প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসেছিলেন। এই পাঁচজনকে পাঁচজন পেশাদার নারী চিত্রশিল্পী প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের ভাবনাকে তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে। এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রিডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী, কেয়ার ইউএসএর টিপিং পয়েন্ট প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর নিদাল করিম, কেয়ার বংলাদেশের ডিরেক্টর হুমাইরা আজিজ, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অভিনয়শিল্পী সারা জাকের ও স্বাগতা, চিত্রপরিচালক শাফায়াত মনসুর রানাসহ আরও অনেকে। এই ক্ষুদে পোস্টার শিল্পীরা একেকজন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মানুষ। এদের প্রত্যেকের একেকটি বিস্ময়কর গল্প আছে। এই শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া মৌ

সাম্মু

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ভীষণ চটপটে মেয়ে সাম্মু। বয়সের তুলনায় তাকে একটু বেশিই পরিণত চিন্তার মনে হতে পারে কথা বললে। ভীষণ হাসিখুশি আর আঞ্চলিক ভাষায় অনর্গল কথা বলা মেয়েটার মধ্যে একটা উজ্জীবনী শক্তি আছে। কথায় কথায় সাম্মু জানাল তার গ্রামের গল্প, গ্রামের মেয়েদের গল্প। গ্রামের মেয়েদের নিজেদের সম্পর্কে ভাবনা এবং তাদের বর্তমান ভাবনার সঙ্গে অতীতের ভাবনার কতটা পার্থক্য সেটাও উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিল। তাদের গ্রামে এখন আর বাল্যবিবাহ হয় না বললেই চলে। এই গ্রামের সবাই এখন পরিণত বয়সে বিয়ের গুরুত্ব বোঝে। তারা বোঝে, এতে শারীরিক ও মানসিক যথাযথ পরিণতির পাশাপাশি প্রত্যেকের নিজের কর্মক্ষেত্রে বিচরণের সুযোগ হয়। তাই পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পায়। এসব কিছু চিন্তা করে সাম্মু তার পোস্টারের থিম বেছে নেয় দেরিতে বিয়ের সুফল। এ ছবিটি চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানার সঙ্গে যৌথভাবে আঁকার সুযোগ পেয়ে সাম্মু খুব খুশি। সে ভবিষ্যতেও তার ছবি আঁকার চর্চা চালিয়ে যেতে চায়।

তুলি তালুকদার

তুলিরা চার বোন। তার বড় দুই বোনের কোনো যৌতুক ছাড়াই বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এলাকায় যৌতুক দিয়ে বিয়ে হয়েছে এমন পরিবারগুলোর অশান্তি তুলিকে নাড়া দিয়েছে। সে বিশ্বাস করে, বিয়ের মাধ্যমে কেবল স্বামী-স্ত্রী নয়, বরং দুটি পরিবারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু যৌতুকের কুপ্রভাবে দুটি পরিবারের সম্পর্ক কখনই স্বাভাবিক আত্মীয়তার সম্পর্কের মতো হয় না। আর তাই তুলি যৌতুকবিরোধী চিন্তাকে চিত্রে তুলে এনেছে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নাঈমা হকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভীষণ খুশি।

রেলী সূত্রধর

কোনো কোনো পরিবারে মেয়ে শিশুকে ছেলে শিশুর চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। যদিও আজকাল পরিবারগুলোতে এধরনের মনোভাবে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু এই পরিবর্তনটা খুব বলার মতো না। পরিবারের ছেলের মতো মেয়েদের জন্যও বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ কেবল আর্থিক বিনিয়োগ হবে এমনটা না! মেয়েদের সময় ও দিকনির্দেশনা দিয়ে উত্সাহ ও সহযোগিতা করতে হবে। তাহলেই একেকটা মেয়ে পরিবারের সম্পদে পরিণত হবে। আর এই বিষয়গুলোকে উপজীব্য করে রেলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ফারজানা আহমেদের সহযোগিতা নিয়ে পোস্টার তৈরি করেছেন।

আঁখি আকতার

বেশ চটপটে হলেও নিজের পোস্টারের থিম ‘সেক্সুয়ালিটি’ নিয়ে কাজ করার পিছনের গল্প বলতে বলতে কিছুটা লাজুক স্বভাবের পরিচয় দিলেন। কথাগুলো কেমন জড়িয়ে আসছিল আঁখির। তবে টিপিং পয়েন্ট প্রকল্পের ফান সেন্টারের বিভিন্ন সেশনে নিয়মিত উপস্থিত থেকে আঁখি বুঝতে পেরেছে সেক্সুয়ালিটি নিয়ে চুপ না থেকে প্রয়োজনে খোলামেলা কথা বলতে হবে যেন এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে কেউ সমস্যার সম্মুখীন না হয়। আর এই ‘সেক্সুয়ালিটি’র মতো স্পর্শকাতর থিম নিয়ে ছবি আঁকার কাজে প্রত্যক্ষভাবে চিত্রশিল্পী তাহিয়া হোসেনের সংস্পর্শ পেয়ে আঁখি দারুণ খুশি।

হীরামণি

তিন বোন দুই ভাইয়ের সংসারে আঁখি বেশ আদুরে। মফস্বলে থেকেও কেবলমাত্র নিজের পরিবার থেকে উত্সাহ পেয়ে হীরামণি বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তব্যে বেশ পটু। আর এটা সম্ভব হয়েছে কারণ তার বাবা-মাও বিশ্বাস করেন যেকোনো কাজে ছেলেদের মতো মেয়েদের অংশগ্রহণ করাটা জরুরি। এতে মেয়েরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠে। তাই খ্যাতনামা শিল্পী দিলরুবা লতিফের সঙ্গে যৌথভাবে এই বিষয়টির উপরে ছবি এঁকেছে সে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৭
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৪
এশা৬:৩৮
সূর্যোদয় - ৬:০৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৯
পড়ুন