দেশে থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শাদমান
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
দেশে থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শাদমান

>> মিঠু মোস্তাফিজ

 

২০১৮ সালের শুরুটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ সেমিস্টারের ছাত্র শাদমান সাদাবের জন্য ছিল অন্যরকম। এ বছরের জানুয়ারি মাসে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল এন্টারপ্রেনারশিপ বুটক্যাম্প ২০১৮’-তে কনিষ্ঠ মেন্টর ও স্পিকার হিসেবে ২০টি দেশের ৮০ জন তরুণ উদ্যোক্তাদের ৪ দিনব্যাপী কর্মশালায় ট্রেনিং দেন তিনি। তার সঙ্গে মেন্টর ও স্পিকার হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, হংকং ইউনিভার্সিটিসহ নানা খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ১১ জন। কিন্তু এদের মাঝে একজনই আছেন, যিনি এখনো গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেননি, কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েছেন পৃথিবীর খ্যাতনামা সব স্পিকারদের সঙ্গে একদল হয়ে ৮০ জন তরুণ উদ্যোক্তাদের মেনটরিং করার জন্য। শুধু মেন্টরই নয়, এই বুটক্যাম্পে বাংলাদেশের কান্ট্রিপ্রধান হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন শাদমান।

এসব শুনতে খুব দারুণ লাগলেও শুরুটা সহজ ছিলনা। মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে ওঠা শাদমানের জন্ম নারায়ণগঞ্জে। পড়াশোনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলে। ভালো ফল করায় পড়ার সুযোগ পান ঢাকার নটরডেম কলেজে। এখন পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও কমিউনিকেশন বিভাগে। শুরু থেকেই শাদমানের ইচ্ছা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করবেন, বিশেষ করে যুব ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজে লাগাবেন দক্ষ যোগাযোগের শক্তি। সে থেকেই নানা সংগঠনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। ভালো-মন্দ নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। ক্যাম্পাসের ক্লাব, টেন মিনিট স্কুল, মোটিভেট বাংলাদেশসহ নানা সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করতে থাকেন। এর মাঝে অ্যাপ্লাই করেন হংকং ইউনিভার্সিটির ফিউচার সিটি সামিটে। ২০১৬-তে সুযোগ হয় এবং অংশগ্রহণ করেন হংকং ইউনিভার্সিটি গিয়ে। সেই থেকে শুরু। এখন পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। 

এরই মাঝে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা। সামাজিক প্রতিষ্ঠান ডিনেটের জাংশন ভেঞ্চারে কাজ করার ডাক পান। দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেন বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্টারপ্রেনারশিপ ফোরাম গঠনের কাজ। কাজ করতে করতে জানেন দেশের স্টার্টআপ পরিমণ্ডলের নানা দিক সম্পর্কে। এরই বর্তমানে ৩টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন বাইরে গিয়ে সেই নেটওয়ার্কগুলো দেশে নিয়ে আসার। এবং সফলতার সঙ্গে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

শাদমানের আশা, সুযোগগুলো ছড়িয়ে দিবেন ঢাকার বাইরে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল ঢাকাই বাংলাদেশ নয়, বাংলাদেশের সব কোনায় ছড়াতে হবে সুযোগ। দেশের মূল শক্তি লুকানো আছে ছোট শহরগুলোতে। তার আরেকটি আশা, আইটি এবং বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে কাজ করা। তার ইচ্ছা পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের অপরূপ জায়গাগুলো তুলে ধরা, বিদেশি পর্যটকদের দেশে আনা। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ভবিষ্যতের অন্যতম বৃহত্ শিল্প করা সম্ভব। তিনি আইটি নিয়ে লিডসাস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর  এবং পর্যটন নিয়ে হাব গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেনট হিসেবে কাজ শুরু করছেন।

শাদমান বলেন, ‘যোগ্যতা থাকলে কোনো অর্থ খরচ ছাড়াই, স্কলারশিপের নিয়ে নানা দেশের সম্মেলনে যাওয়া সম্ভব। আয়োজকরাই আমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে যাবে। আমি নিজে তার উদাহরণ। আর, প্রতিবন্ধকতা থাকবেই কিন্তু এর মাঝে দেশে থেকেই অনেক কিছু করা সম্ভব। মাত্র ৯ মাসে স্বাধীন হওয়া একটি দেশের তরুণরা কোনোভাবেই কারো থেকে কম নয়। এক প্রজন্ম দেশ দিয়েছে। এখন এই প্রজন্মের দায়িত্ব পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে দেওয়া, লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরা।’

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৩
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
পড়ুন