তথ্যপ্রযুক্তি বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে মিশে একাকার

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিপ্রেশ রায়

বর্তমান সরকার বিগত দশ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। তবে সব থেকে বেশি যে খাতে উন্নয়ন হয়েছে বলে তরুণ প্রজন্ম মনে করে, সেটি হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণের মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উেক্ষপণকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ। এই তথ্যপ্রযুক্তি বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে আছে। বর্তমানে অধিকাংশ সচেতন মানুষ নেট অন করে অনলাইন সংস্করণের সংবাদ পড়েন। চলার পথে এমনকি ঘুমাবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ অনলাইনে পত্রিকা পড়েন। তার মানে এই নয় যে, পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সন পড়া হয় না। তবে ডিজিটালের এই যুগে অনলাইনে সংবাদ মানুষের প্রতিদিনের চলার সঙ্গী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বেশিরভাগ তরুণ ফেইসবুকে নিজেকে খুঁজে পায়। তাছাড়া ইমু, ওয়াটসআপ-এর মাধ্যমে বিদেশে অনেকেই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

আমি সাধারণত খুব কম টকশো দেখি। আমার কাছে টকশোগুলো একপেশে মনে হয়, অনেকক্ষেত্রে এগুলো ‘তেলশো’ মনে হয়। নির্বাচনের দিন একটি চ্যানেলে টকশো দেখছিলাম, সেখানে বিপক্ষের আলোচক বেশ ভালোই বলছিলেন। তিনি বিপক্ষে বলার প্রধান যুক্তি দেখাচ্ছিলেন থ্রিজি ফোরজি বন্ধের বিষয়ে। তাঁর আলোচনার মূল বক্তব্য ছিল—সরকার যেহেতু ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করেছে, তাহলে থ্রিজি ফোরজি বন্ধ রাখা কোন ধরনের ডিজিটালের নমুনা। আমার মনে হচ্ছিল, এই আলোচক মূলত সরকারের বিপক্ষে বলতে গিয়ে নিজের অজান্তে সরকারের পক্ষে বলছিলেন। কারণ তাঁর কথার মাধ্যামে বোঝা যাচ্ছিল প্রযুিক্ত বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কিভাবে মিশে গেছে। তিন দিন থ্রিজি ফোরজি বন্ধ থাকার কারণে বাঙালি উপলব্ধি কারেছে আসলে বাংলাদেশ কতটুকু ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। তার আগে কিন্তু কখনো আমরা এত গভীরভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটির তাত্পর্য উপলব্ধি করতে পারিনি। বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে কিভাবে একাকার হয়ে গেছে, ঐ তিন দিন আমাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। যদিও গুজব ছড়ানো বন্ধের জন্য, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে সরকারের এটি একটি পদক্ষেপ ছিল। আমি বলব, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা বোঝার জন্য ঐ তিনদিন থ্রিজি ও ফোরজি বন্ধের অসুবিধাটুকু আমাদের প্রয়োজন ছিল।

সিলেট