কুমিল্লা মাতালেন জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
কুমিল্লা মাতালেন জেমস ও আইয়ুব বাচ্চু

মো. লুত্ফুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

­­­

গত সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা। শুরু হলো ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের ‘উন্নয়ন কনসার্ট’। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের সবগুলো ফটকের আশেপাশে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর ভিড়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে মঞ্চ মাতান স্থানীয় শিল্পীরা। এরপর একে একে সুরের মূর্ছনায় মঞ্চ মাতালেন আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি) ও জেমসের মতো ব্যান্ড তারকারা। তারা শ্রোতাদের শুনিয়েছেন তাদের বিখ্যাত গানগুলো। তাদের সঙ্গে মঞ্চ মাতিয়েছেন কনা ও পিন্টু ঘোষ। রাতে ছিল লেজার শো এবং আতশবাজির আলোকছটা।

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ৮টা। স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত কনসার্টের মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন জেমস। উপচেপড়া স্টেডিয়াম মাঠ, চারদিকে কোলাহল। গান শোনার অপেক্ষায় নানা বয়সের হাজারও দর্শক। মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে গলা ফাটিয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেমস ভক্ত দর্শক-শ্রোতারা। দর্শকদেরও তিনি নিরাশ করেননি। কনসার্টে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘ফুল নেবে না অশ্রু নেবে’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’, ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘পাগলা হাওয়ার’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘বিগিবিগি’সহ গানের পর গান গেয়েছেন নগর বাউল জেমস। আইয়ুব বাচ্চু গেয়েছেন ‘এক আকাশে তারা তুই একা’, ‘যদি তুমি ভালোবাসো আমায়’, ‘তোমাকে ছাড়া আমি অসহায়’, ‘আজ কবিতা অন্য কারো’, ‘ভাঙা মন নিয়ে তুমি’, ‘কষ্ট কাকে বলে’সহ বেশ কয়েকটি মনমাতানো গান। কনা গেয়েছেন ‘বেঁধেছি এই মন তোমারই সাথে’, ‘যাও বলো তারে মেঘের ওপারে’, ‘চার ছক্কা হই হই বল’সহ কয়েকটি গান। এভাবে নন্দিত শিল্পীরা একের পর এক মনমাতানো গানে ও মাঠ কাঁপানো বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ভাসিয়েছেন আনন্দের ভেলায়। তারা শুনিয়েছেন আবেগঘন বাণী। গেয়েছেন, নেচেছেন এবং নাচিয়েছেন অতিথি ও দর্শক-শ্রোতা সবাইকে। এভাবে গভীর রাত পর্যন্ত জনপ্রিয় গান আর গানের ফাঁকে আবেগবাণী দর্শকদের আরো মোহিত করে তোলে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজন ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) প্রমুখ। কনসার্টের ফাঁকে সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার ভিডিও দেখানো হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ভাষণগুলো পরিবেশন করা হয়। প্রচার করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণও। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই উন্নত দেশের কাতারে চলে যেত বাংলাদেশ। এর আগে বেশ কয়েকদিন ধরে এ কনসার্ট প্রাণবন্তু করে তুলতে দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরি, অনুষ্ঠানস্থল সাজসজ্জাকরণ, মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণীসমৃদ্ধ বিলবোর্ড লাগিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশেপাশের এলাকা সাজানো হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘তারুণ্যের দুর্বার উদ্যম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে নতুন শক্তির বাংলাদেশ। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা উদযাপন করতেই এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।’ এ কনসার্ট হাজারো দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেছেন এবং খ্যাতনামা শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা তাদের মন ছুঁয়েছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন