রফিকুল হক দাদু ভাই মৌচাক সম্মাননা পাচ্ছেন শহীদুর রহমান বিশু
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
রফিকুল হক দাদু ভাই মৌচাক সম্মাননা পাচ্ছেন শহীদুর রহমান বিশু
সারাদেশ বিনোদন ডেস্ক

 

জীবন্ত কিংবদন্তি ছড়া সাহিত্যে মুকুটহীন সম্রাট রফিকুল হক দাদু মৌচাক ছড়া সাহিত্য সম্মাননা-২০১৮ পাচ্ছেন কবি ছড়াকার, গীতিকার, নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী একেএম শহীদুর রহমান বিশু। সাহিত্যের কাগজ মৌচাকের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রংপুর টাউনহলে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ এককালীন অর্থ প্রদান করা হবে। একেএম শহীদুর রহমান বিশু জন্মগ্রহণ করেন রংপুরের মুন্সীপাড়ায়। গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী বাবার হাত ধরে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৫১ সালে ৫ম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় বাবার চাকরি সূত্রে বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানায় অবস্থান করেন। তার প্রথম কবিতা—‘হে বিশ্বচালক তুমি হে মান/তোমারই কাছে সকলের সমান।’ ১৯৫৮ সালে বগুড়ার গাবতলী হাইস্কুলে ছাত্রাবস্থায় তার প্রথম ছড়ার বই ‘অর্পণ’ প্রকাশিত হয়। ষাটের দশকের প্রথমদিকে দিনাজপুর জেলা স্কুলের তত্কালীন প্রধান শিক্ষক কবি কাজী কাদের নেওয়াজ ও নাজিমুদ্দীন হলের প্রতিষ্ঠাতা হেমায়েত আলীর আহ্বানে প্রতি শুক্রবার নওরোজ সাপ্তাহিক সাহিত্য আসরে কবিতা পড়তে উপস্থিত হতেন। এরপর ১৯৬৩ সালে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘অপেক্ষা’ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি দেখে দিয়েছিলেন পল্লী কবি জসিমউদ্দীন এবং ভূমিকা লিখেছিলেন কবি কাজী কাদের নেওয়াজ। এই বই প্রকাশের পর তার কিছু অর্থ ও কবিখ্যাতি আসে। এছাড়া তিনি একজন সফল মঞ্চ অভিনেতা। ১৯৬৪ সালে চিত্রনায়ক রহমানের ‘মিলন’ ছায়াছবিতে অভিনয় করেন তিনি। চিত্রনায়ক জহির রায়হান ও কবি বেনজির আহম্মেদের কাছের মানুষ ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি তত্কালীন রেডিও পাকিস্তান রাজশাহী কেন্দ্রের অনুমোদিত গীতিকার হন। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর রেডিওতে তার প্রথম ঈদের গান শিল্পী খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়ার কণ্ঠে প্রচারিত হয়। রংপুর ও রাজশাহী রেডিওর জন্য তিনি অসংখ্য ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, আধুনিক, বাউল, ইসলামি, ভাটিয়ালি, ঠুমরি, বাংলা রাগ-প্রধান, কাওয়ালী ও গজলসহ নানা ধরনের গান, গীতি-নকশা ও নাটক লেখেন। তার গান প্রখ্যাত শিল্পী লাকী আখান্দ বিটিভি ও অন্যান্য চ্যানেল প্রচার করেন। সুস্থ সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ৫ মে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ। ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় একেএম শহীদুর রহমান বিশুর লেখা ও পরিচালনায় ‘রংপুরের জারি, ‘নাইওরি’ গীতিআলেখ্য ও ২০১৬ সালে প্রচারিত হয় ‘আলোকিত রংপুর’ গবেষণামূলক অনুষ্ঠান। তিনি অভিযাত্রিক সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত দৈনিক যুগের আলোর সাহিত্য পাতার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ‘উত্তরমেঘ’ মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৭ বই মেলায় প্রকাশিত ছড়া গ্রন্থ ‘ছবি ও ছড়ায় ছয় ঋতু’ ‘গোলক ধাঁধা’ ‘চম্পাকলি ও রাজকন্যা’। ২০১৮ বই মেলায় ছোটদের গুণীজন জীবনী গ্রন্থ ও উপন্যাস ‘স্পর্শ’ প্রকাশিত হয়। এরইমধ্যে তিনি ভারতের শিলিগুড়ি, আসাম, গৌরীপুর, ঢাকা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা সংগঠন কর্তৃক পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি রংপুর পৌরসভার সিনিয়র সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৫ সালে ‘রঙধনু ছড়াকার সম্মাননা’ ও সম্মিলিত লেখক সমাজ রংপুরের বইমেলায় গুণী সাহিত্যিক হিসেবে সম্মাননা পান। এছাড়া পল্লীকবি জসিম উদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১৭ সালে ছড়া সংসদ থেকে বিশিষ্ট ছড়াকার সম্মাননা লাভ করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন