মিরপুরে মিরাজের ইতিহাস
জান-ই-আলম৩০ অক্টোবর, ২০১৬ ইং
মিরপুরে মিরাজের ইতিহাস
মৃত্যুর ৩৬ বছর পরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলেন অস্ট্রেলীয় স্পিনার ক্ল্যারি গ্রিমেট, বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের সুবাদে।

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে কালজয়ী গ্রিমেটের পাশে নাম লেখালেন অফস্পিনার মিরাজ। স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি তৃতীয়। গ্রিমেটের পর দ্বিতীয়বার এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার নিক কুক।

এই তালিকায় তৃতীয় মিরাজ অবশ্য আরও দুটি বিষয়ে প্রথম হতে পেরেছেন। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম অফ স্পিনার হিসেবে এই বিরল রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের এই তরুণ ক্রিকেটার। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন মিরাজের। টেস্ট অভিষেকে ৪৪ জন স্পিনার ৫ উইকেট পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আবার ৩২ জন অফ স্পিনার। সেই অফ স্পিনারদের মধ্যে মিরাজই প্রথম দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন।   

মাত্র ৩৭ ম্যাচে ২১৬ উইকেট নেওয়া গ্রিমেট ক্যারিয়ারে ২১ বার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।  ১৯২৫ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকের দুই ইনিংসে ১১ উইকেট (৫+৬) নিয়েছিলেন প্রয়াত গ্রিমেট। ১৯৮০ সালে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া গ্রিমেট ১৯২৬ সালে লিডসে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৭ উইকেট (৫+২) নিয়েছিলেন। পরে ১৯৮২ সালের ১১ আগস্ট নিক কুক নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকে লর্ডসে দুই ইনিংসে ৮ উইকেট (৫+৩) পান। ২৫ আগস্ট নটিংহ্যামে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের সঙ্গে ৯ উইকেট (৫+৪) নিয়েছিলেন ইংলিশ বাঁহাতি স্পিনার।

আগের দিন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুককে এলবিডব্লিউর সুবাদে শিকার শুরু করেছিলেন মিরাজ। তার দ্বিতীয় শিকার ছিলেন গ্যারি ব্যালেন্স। গতকাল দিনের তৃতীয় ওভারেই মিরাজের জাদুর শুরু। আর্ম ডেলিভারিতে মঈন আলী বোল্ড হন। ষষ্ঠ উইকেটে রুট-বেয়ারস্টোর ৪৫ রানের জুটিও ভাঙলেন অফস্পিনারটি। নিজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলেই বেয়ারস্টোকে ফেলেন এলবির ফাঁদে।

ঠিক ওই ওভারেই নিজের পঞ্চম উইকেট পেয়ে যেতে পারতেন তিনি। নিজের মোকাবিলা করা পঞ্চম বলে অভিষিক্ত জাফর আনসারির ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করতে ব্যর্থ হন মুশফিক। তবে ইনিংসের ৪১তম ওভারে সেই আনসারিকে ফিরিয়েই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব দেখালেন মিরাজ।

ইংল্যান্ড ১৪৪ রানে ৮ উইকেট খোয়ানোর পরও ক্রিস ওকস এবং আদিল রশিদের জুটিটা হতাশায় পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে। তাদের জমাট রক্ষণব্যুহ ভেদ করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ অবধি মিরাজই স্বস্তি ফিরিয়েছেন স্বাগতিক শিবিরে। নতুন বল হাতে চতুর্থ বলেই ওকসকে ষষ্ঠ শিকার বানান তিনি। স্লিপে শুভাগতর দুর্দান্ত ক্যাচে ইতি ঘটে ৯৯ রানের জুটির। 

এমন কীর্তি গড়ার পর স্বভাবতই দারুণ খুশি মিরাজ। গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছিল। কারণ দুইবার পাঁচ উইকেট পেয়েছি। আমার কাছে খুব ভালো লাগছিল।’ তবে দারুণ অভিষেকের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বল হাতে জ্বলে উঠবেন প্রত্যাশা করেননি এই ১৯ বছর বয়সী তরুণ।

মিরাজ বলেন, ‘আমি কখনোই আশা করি না। আমার পাঁচ উইকেট নেওয়া লাগবে। চেষ্টা করি সব সময় গড়পড়তা পারফরম্যান্স করতে পারি দলের জন্য। প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছি এবং পরের ম্যাচে এক উইকেট পেয়েছি। আমি সব সময় চেষ্টা করি অ্যাভারেজ পারফরম্যান্স করার জন্য। এরপর আল্লাহর অশেষ রহমতে হয়ে গেছে!’

মাঠে সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেক সাহায্য পেয়েছেন বলে জানান মিরাজ। নতুন ও পুরনো দুই বলেই বোলিং করতে হয়েছে তাকে। তবে মিরাজ পছন্দ করেন নতুন বলে বোলিং করাটা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৭
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৪
এশা৬:৩৮
সূর্যোদয় - ৬:০৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৯
পড়ুন