বীরের বেশে দেশে ফেরা
স্পোর্টস রিপোর্টার২১ জুন, ২০১৭ ইং
বীরের বেশে দেশে ফেরা
লাহোর, করাচি, পেশোয়ার, ইসলামাবাদ।

গতকাল একসাথে পাকিস্তানের চারটি শহর যেনো কেঁপে উঠলো। না, কোনো বিস্ফোরণ নয়, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নয়। আনন্দে, উত্সবে, মিছিলে, স্লোগানে জেগে উঠলো পাকিস্তান। পাকিস্তানের লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বরণ করে নিলেন তাদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের নায়কদের।

সেই ১৯৯২ সালে হাতে একটা ট্রফি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেছিলেন ইমরান খান। ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হলো পাকিস্তানকে আরেকটি ওয়ানডের বৈশ্বিক ট্রফি দেখার জন্য। অবশেষে সেই ট্রফিটা নিয়ে ফিরলেন সরফরাজ আহমেদ। আর দেশে ফিরে পেলেন বীরের মতো সংবর্ধনা।

অবশ্য ব্যাপারটা পাকিস্তানসুলভ অগোছালোই ছিলো।

১৫ জনের স্কোয়াডের পাঁচজন ক্রিকেটার ইংল্যান্ডেই থেকে গেছেন—মোহাম্মদ আমির, জুনাইদ খান, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক ও আজহার আলী। যে ১০ জন ফিরেছেন, তাদেরও এক সাথে দেখার সৌভাগ্য হয়নি পাকিস্তানীদের। কারণ, এরা আবার ফিরেছেন চারটি ভিন্ন ভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তবে কোনো শহরেই অভ্যর্থনার কমতি হয়নি ক্রিকেটারদের।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালের রেকর্ড ১৮০ রানে হারানোর নেপথে ছিলেন পাকিস্তানী পেসার হাসান আলী। হাসান অবশ্য টুর্নামেন্টেরই সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। গতকাল তিনি ফিরলেন লাহোর বিমানবন্দরে। সাথে ছিলেন আইসিসি র্যাংকিংয়ের ৫ নম্বরে থাকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ ও আহমেদ শেহজাদ।

এই চার ক্রিকেটারকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে। লাহোর বিমানবন্দরের বাইরে পাকিস্তানী পতাকা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন এ সময় কয়েক হাজার মানুষ।

হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের বাড়ির বাইরেও।

সরফরাজ ও বাহাতি পেসার রুম্মন রইস পাকিস্তানে আসেন করাচি বিমানবন্দর থেকে। সেখানে করাচির মেয়র ও সিন্ধের ক্রীড়ামন্ত্রী বরণ করে নেন অধিনায়ককে। মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়ে ঐতিহ্যবাহী সিন্ধী টুপি এবং গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় শাল।

এখান থেকে গাড়িতে করে নিজের বাড়িতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় সরফরাজের। কারণ, বাইরে তখন হাজারো মানুষ। সরফরাজ ভেতরে ঢুকে ট্রফি হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন ব্যালকনিতে। এক হাতে ট্রফি ধরে চিত্কার করেন—পাকিস্তান।

বাইরে হাজারে কণ্ঠে জবাব আসে—জিন্দাবাদ।

সাদাব খান, হারিস সোহেল ও ইমাদ ওয়াসিম এসেছেন ইসলামাবাদ থেকে। ইমান এখান থেকে মানুষের ভালোবাসার ভেতর থেকে রওনা দেন রাওয়াল পিন্ডিতে। আর সোহেল চলে যান শিয়ালকোটে।

এই টুর্নামেন্টে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। টানা তিনটি ম্যাচে ৫০, ৫৭ ও ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। তিনি পেশোয়ারে পৌঁছে এই জয় ও অর্জন উত্সর্গ করেছেন নিজের বাহিনী পাকিস্তানী নৌবাহিনীকে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হয়তো একটু পিছিয়ে ছিলো। তারা কোনো রোড শো বা র্যালির আয়োজন করেনি। সব ক্রিকেটারকে এক জায়গায় করেও আনেনি। তবে সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনরা এই অভাবটা টের পেতে দেননি।

এই যেমন হাসান আলীকে লাহোর থেকে গুজরানওয়ালায় নিজের বাড়ি পর্যন্ত এক বিশাল গাড়ির র্যালি করে নিয়ে গেছেন তার ভাই। এই র্যালিই বলে দিয়েছে একটা ট্রফির জন্য কতোটা অপেক্ষা ছিলো এই দেশটিতে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন