জীবনযুদ্ধের সত্যি নায়ক
স্পোর্টস রিপোর্টার২১ জুন, ২০১৭ ইং
জীবনযুদ্ধের সত্যি নায়ক
নৌবাহিনীতে সেপাই হিসেবে ভর্তি হয়েছে মাত্রই কৈশোর পার করা একটা ছেলে।

ছেলেটার খুব শখ ক্রিকেট খেলার। কিন্তু সুযোগ কই? বাড়িতে নূন আনতে পান্তা ফুরোয়। আক্ষরিক অর্থে খাবার টানাটানি পরিবারে। এমন পরিবারে জন্মে ক্রিকেটের স্বপ্ন দেখা যায় না।

বাহিনীতে আসার পর ছেলেটা স্বপ্ন দেখার আরেকটা সুযোগ পেলো। এখানকার ক্রিকেট কোচ নাজিম খান পছন্দ করে ফেললেন ছেলেটাকে। এক দুই দিন ব্যাটিং দেখেই বুঝলেন, এ একটা রত্ন। সাথে সাথে করাচিতে এক ক্রিকেট কোচ আজাব খানের কাছে নিয়ে গেলেন। আর আজাব দেখেই বললেন, এ তো একটা সম্পদ। এই ছেলে একদিন পাকিস্তানের হয়ে খেলবে।

কী জহুরীর চোখ!

সেই কথা সত্যি হলো। পাকিস্তানের হয়ে খেললো সেদিনের সেই অভাবি কিশোর। শুধু খেললো না, পাকিস্তানকে এক স্বপ্নের ফাইনাল জেতালো নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা করে। হ্যাঁ, ফখর জামানের কথা বলা হচ্ছে। পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এক সেপাই থেকে উঠে এসে ভারতকে হারানো সেই সেঞ্চুরি করা ফখরের কথা।

খাইবার অঞ্চলের মারদান নামে একটি শহর থেকে উঠে এসেছেন ফখর। যেখান থেকে পাকিস্তানের মহাতারকা ইউনিস খানও এসেছেন। ছোট বেলায় একটার পর একটা শহরে ঘুরেছেন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। প্রথমে নৌসেনার সেপাইয়ের কাজ থেকে তাকে ক্রিকেটে তুলে আনেন আজাব খান। তার পর  নিয়মিত হওয়ার জন্য তাকে লাহৌর থেকে করাচি দৌড়ে বেড়াতে হয়েছে। কিন্তু তার আসল উত্থান ঘটে আজাব তাকে করাচির পাকিস্তান ক্রিকেট ক্লাবে নিয়ে আসার পরে। এই ক্লাবটি চালান আজাব-ই।

এখান থেকে উঠেছেন পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক সরফরাজ আমেদ। নতুন পেস বোলার রুম্মন রইসও এই ক্লাবের খেলোয়াড়। ফখরের সবচেয়ে বড় সুবিধে হয়, সরফরাজ তাকে শুরু থেকে চেনায়। আজাব খান বলছিলেন, ‘সরফরাজ অধিনায়ক হওয়ার পরে ফখরকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। কারণ, আমাদের ক্লাবে খেলার সময়েই ও দেখে নিয়েছিল, ফখরের মধ্যে ম্যাচউইনার হওয়ার ক্ষমতা আছে।’

সরফরাজের এই চোখটার দরকার ছিল। কারণ পাকিস্তানের কেউ আসলেই চিনতে পারছিল না এই তরুণকে। এমনকি যে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) প্রথম নজর কাড়লেন, সেখানেও শুরুতে দল পাননি এই ফখর। পরে সরফরাজদেরই চেষ্টাতে একটা দল পেয়েছিলেন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাকে ওপেনার হিসেবে নামানোর সিদ্ধান্তও সরফরাজের; পাকিস্তানের মিকি আর্থারের নয়। গোটা ক্রিকেট বিশ্বে এখন বিস্ময় তৈরি হয়েছে যে, এমন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান তাকে খেলাচ্ছিল না কেন? শেষ পর্যন্ত ফখর শুধু খেললেনই না, শুধু পাকিস্তানকে জেতালেনই না, জীবনযুদ্ধে জেতার উদাহরণও রেখে গেলেন লন্ডনে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন